• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    • ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

    টটেনহামকে জিততে দিলেন না লাকাজেত-অবামেয়াং

    প্রথমার্ধের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে হ্যারি কেইন পেনাল্টিতে গোল করে দুই গোলের লিড এনে দিয়েছিলেন টটেনহাম হটস্পারকে। ৯ বছর পর এমিরেটসে তখন টটেনহাম জয়টাও প্রায় দেখে ফেলেছিল। কিন্তু অ্যালেক্সান্ডার লাকাজেত আর পিয়ের এমেরিক অবামেয়াং জুটি সেটি হতে দেননি।  দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে দারুণ এক ফিরে আসার গল্প লিখে  নর্থ লন্ডন ডার্বিতে টটেনহামের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল।

    এমিরেটসে দারুণ শুরুর পরও পিছিয়ে পড়েছিল উনাই এমেরির দল। ১০ মিনিটে মাঝমাঠে বল জিতেছিলেন হ্যারি কেইন, সেখান থেকে হিউং মিন সন পেলেন বল। সন পাস দিয়েছিলেন এরিক লামেলাকে। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ভালভাবেই ঠেকাতে পারার কথা ছিল বার্নড লেনোর। কিন্তু আর্সেনাল গোলরক্ষক শট ঠেকালেও বল ধরতে পারেননি, পরে একাদশে ফেরা ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন ফলোয়াপ থেকে গোল করে এগিয়ে নেন টটেনহামকে।

    আর্সেনালের বল পজেশনে এগিয়ে থাকলেও টটেনহাম কাউন্টার অ্যাটাকে বেশ ভোগাচ্ছিল আর্সেনালকে। ১৮ মিনিটে আরও একবার কাউন্টার অ্যাটাকেই এগিয়ে যেতে পারত টটেনহাম। তবে এবার লেনো দারুণ এক সেভ করে ফেরালেন সনকে।

    লেনোকে এরপর প্রথমার্ধে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পুরোটা সময়। হ্যারি কেইনের দুর্বল শট ঠেকাতে গিয়ে আরেকবার গড়বড় পাকিয়ে  ফেলেছিলেন তিনি। সন আর সে দফায় আর ফায়দা লুটতে পারেননি। আরেকবার এরিকসেনের ফ্রি কিক থেকে অবশ্য ভালো সেভ করেছিলেন। কিন্তু লেনোর ভালো-মন্দ ছাপিয়ে ৪০ মিনিটে গ্রানিত শাকা বড় এক ভুল করে বসেন। ডিবক্সের ভেতর সনকে আনাড়ি এক ফাউল করে পেনাল্টি দিয়ে বসেন তিনি টটেনহামকে। কেইন লেনোকে ভুলদিকে পাঠিয়ে গোল করে প্রিমিয়ার লিগে নর্থ লন্ডন ডার্বির সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান।

    লিভারপুলের বিপক্ষে হতাশার এক হারের পর লাকাজেত-অবামেয়াং-পেপেদের একসঙ্গে নামিয়েছিলেন এমেরি। এই তিনজনের ভেতর পেপে সুযোগ তৈরি করছিলেন সবচেয়ে বেশি। দুই গোল খাওয়ার পর পেপে আর অবামেয়ং মিলে দুইবার হুগো লরিসকে ভালো সেভ করতে বাধ্য করেন। টটেনহামকে চাপে ফেলার সুবিধাটা বেশ ভালোভাবেই পায় আর্সেনাল। ৪৫ মিনিটে পেপের কাছ থেকে পাস পেয়ে সিক্স ইয়ার্ড বক্সের কোনা থেকে বাম পায়ের বুলেট গতির এক শটে গোল করেন লাকাজেত। বিরিতির আগে গোল শোধ করে দ্বিতীয়ার্ধে ঘরের মাঠে নতুন লড়াই শুরু হয় আর্সেনালের।

     

     

    ঘটনা অবশ্য উলটোও হতে পারত। প্রথম ২০ মিনিটে টটেনহামই সুযোগ তৈরি করল বেশি। সনকে তখন ফেরালেন লেনো, আরেকবার কেইনের দারুণ শট গোলে পরিণত হলো না বারপোস্টে লেগে। এর মধ্যে আর্সেনালের সেরা সুযোগ ছিল বদলি নামা সেবায়সের ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া শট। লরিস এক হাতে লাফিয়ে উঠে সেভ করে তখন আটকে দেন আর্সেনালের ফিরে আসা।

    আর্সেনালের আক্ষেপ আরও বাড়ে লাকাজেতের ক্রস থেকে ফারপোস্টে কোলাসিনাচ ও অবামেয়াং  দুইজনই লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর। এর কিছুক্ষণ পরই এমিরেটস সব হতাশা ভোলে অবামেয়াংয়ের গোলেই। মাতেও গুন্দোজির লং বল টটেনহামের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে পায়ের নিখুঁত খোঁচায় দিক পরিবর্তন করিয়ে দেন অবামেয়াং। ম্যাচের উনিশ মিনিট বাকি থাকতে তখন স্কোরলাইন, ২-২।  

    আক্রমণ-পালটা আক্রমণের ম্যাচে শেষদিকেও ছিল উত্তেজনা। সক্রেটিস গোলবঞ্চিত হয়েছেন অফসাইডের কারণে। জিওভানি লো সেলসো আরেকবার বদলি হয়ে নেমেছিলেন, তিনিও টটেনহামের জন্য কিছু করতে পারেননি। ইনজুরি সময়ে টটেনহাম দ্বিতীয় পেনাল্টির আবেদন করেছিল। কিন্তু রেফারি মার্টিন অ্যাটকিন্সনের পর ভিএআরের সাড়াও মেলেনি তাতে। ড্র হলেও তাই নর্থ লন্ডন ডার্বি যেমনটা হওয়ার ছিল ঠিক ততোটাই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। 

    এমিরেটেসে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ ড্র করে লিভারপুলের বিপক্ষে হারের হতাশা কাটানোর ভালো অনুপ্রেরণা জুটেছে আর্সেনালের। তবে মাউরিসিও পচেত্তিনো ও টটেনহাম হটস্পারের জন্য তাতে যোগ হয়েছে আরেক প্রস্থ হতাশা।