• ইউরো বাছাইপর্ব
  • " />

     

    • ইউরো বাছাইপর্ব

    শীর্ষে উঠল জার্মানি; বড় জয় নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামের

    গত সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের কাছে জার্মানি হেরে যাওয়ায় ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে সবার ওপরে ছিল উত্তর আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের বিপক্ষে উইন্ডসোর পার্কে জার্মানির সামনে সুযোগ এসেছিল গ্রুপের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার। সুযোগটা হাতছাড়া করেননি ‘ডি ম্যানশ্যাফট’রা। উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপে শীর্ষে এখন জার্মানিই। এস্তোনিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে জার্মান এবং আইরিশদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে নেদারল্যান্ডস। অন্য গ্রুপের ম্যাচে ডাচদের মত একই ব্যবধানে স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছে বেলজিয়াম।

    নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের কারণ হিসেবে রক্ষণের দূর্বলতাকেই ইঙ্গিত করেছিলেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। আইরিশদের বিপক্ষে কেবল রক্ষণেই পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জোনাথন টাহ এবং নিকো শুলজের জায়গায় একাদশে এসেছিলেন হলস্টেনবার্গ এবং জুলিয়ান ব্রান্ডট। কিন্তু রক্ষণের সমস্যাটা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল জার্মানির। ৭ মিনিটে টনি ক্রুসের পাস হলস্টেনবার্গ ধরতে ভুল করলে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে একা পেয়ে যান ওয়াশিংটন। কিন্তু দারুণ সেভে আইরিশদের লিড নিতে বঞ্চিত করেননি নয়্যার। ম্যাচের শুরুতেই আইরিশরা এমন সুযোগ পাওয়ায় নড়েচড়ে বসে জার্মানি। তবে আয়ারল্যান্ডের দৃঢ় রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজেদের প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করতে জার্মানির লেগেছে ২৮ মিনিট।

     

     

    মার্কো রয়েসের কর্নারে ডিফেন্ডার নিকোলাস সুলের হেড ফিরিয়ে দেন আইরিশ গোলরক্ষক পিকক-ফেরেল। প্রথমার্ধে গোলের আর সুযোগ পায়নি জার্মানি। উল্টো একেবারে শেষদিকে আরেকটু হলেই লিড নিত আইরিশরা। ৪৫ মিনিটে কোরি ইভান্সের ক্রস ডিবক্সে দখলে আনতে ব্যর্থ হন নয়্যার। জার্মান গোলরক্ষকের সামনে বল পেয়েও তাকে পরাস্ত করতে পারেননি ওয়াশিংটন। প্রথমার্ধে নিশ্চিত গোলের দুটি সুযোগ হাতছাড়া করার চড়া মূল্যই দিতে হয়েছে আয়ারল্যান্ডকে।

    ৪৮ মিনিটে হেডে হলস্টেনবার্গকে পাস বাড়ান টিমো ভার্নার। ডানপায়ের আগুনে ভলিতে পিকক-ফেরেলকে পরাস্ত করেন হলস্টেনবার্গ, লিড নেয় জার্মানি। উইন্ডসোর পার্ক মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরিতে। লিড নেওয়ার মিনিট পাঁচেক পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত জার্মানি। কিন্তু এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান পিকক-ফেরেল, হলস্টেনবার্গের ক্রসে ক্লস্টারম্যানের শট ফিরিয়ে দেন দক্ষহাতে। তবে প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধের সেরা সুযোগটাও খুব সম্ভবত পেয়েছিল আইরিশরাই।

     

     

    ৬৩ মিনিটে ওয়াইটের মাইনাসে ডিবক্সের ভেতর থেকে আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিসের শট নয়্যারকে পরাস্ত করলেও বার ঘেঁষে চলে যায় মাঠের বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময় ম্যাচে ফেরার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছে উত্তর আয়ারল্যান্ড। কিন্তু সমতায় আর ফেরা হয়নি, উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে কাই হার্ভেটজের পাসে জয় নিশ্চিত করেন সার্জি গ্নাব্রি। জার্মানদের হয়ে খেলা ১০ ম্যাচে এখন ৯ গোল গ্নাব্রির। আইরিশদের সমান ১২ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে জার্মানি।

     

     

    জার্মানদের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর এস্তোনিয়ার বিপক্ষে আরও একবার নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচদের হয়ে গত ম্যাচে অভিষেকেই গোল পেয়েছিলেন ডনইয়েল মালেন। এস্তোনিয়ানদের বিপক্ষে শুরু থেকেই ছিলেন তিনি। দূর্বল এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ১৭ মিনিটেই লিড নেয় ডাচরা। ড্যালে ব্লিন্ডের শট এস্তোনিয়া গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি রায়ান বাবেল। বাছাইপর্বে এই ম্যাচের গোল না পাওয়া বাবেলই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ৪৭ মিনিটে মেমফিস ডিপাইয়ের ক্রসে হেড করেন নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাবেক লিভারপুল ফরোয়ার্ড। নেদারল্যান্ডের হয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন ডিপাই।

     

     

    ৭৬ মিনিটে মাথিয়াস ডি লিটের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে এনে চমৎকার বাঁকানো শটে এস্তোনিয়া গোলরক্ষক লেপমেটসকে পরাস্ত করেন তিনি। জার্মানির বিপক্ষে ডিপাইয়ের পাসে গোল করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন জর্জিনিও ওয়াইনাল্ডাম। ৮৭ মিনিটে আবারও একই কম্বিনেশনে এস্তোনিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ডাচরা। উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং জার্মানির চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের তিন-এ থাকল রনাল্ড কোম্যানের দল।

    নেদারল্যান্ডের মতই একপেশে জয় পেয়েছে বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনময় ম্যাচে ৯ মিনিটেই লিড নেয় রবার্তো মার্টিনেজের দল। ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডারের ক্রসে পা ছুঁয়ে গোল করেন রোমেলু লুকাকু। ২৪ মিনিটে ডি ব্রুইনের ক্রসে হেড করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন থমাস ভার্মাইলেন। ৩২ মিনিটে ভার্মাইলেনের গোলের ‘কার্বন কপি’-তে ব্যবধান ৩-০ করেন টবি অল্ডারওয়েরেল্ড। ডি ব্রুইনের কর্নারে হেড করে গোল করেন স্পার্স ডিফেন্ডার। ইউরো ২০২০-এর বাছাইপর্বে এবারই প্রথম এক ম্যাচে তিন অ্যাসিস্ট করলেন কোনও ফুটবলার। সতীর্থদের দিয়ে ম্যাচে তিন গোল করানো ডি ব্রুইনই ঠুকে দিয়েছেন স্কটিশ কফিনে শেষ পেরেক। ৮২ মিনিটে লুকাকুর পাসে চমৎকার বাঁকানো শটে গোল করেন তিনি। গ্রুপ ‘আই’-তে ৬ ম্যাচে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে থাকল বেলজিয়ানরা।

    রাতের অন্য ম্যাচে বিশ্বকাপ রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে আজারবাইজান। ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন লুকা মদ্রিচ। ৭২ মিনিটে তামকিন জালিজাদের গোলে ম্যাচে ফেরেন আজারবাইজান। এই ড্রয়ের পরেও পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ই গ্রুপের শীর্ষে আছে ক্রোয়েশিয়া। আর ক্রোয়াটদের বিপক্ষে ড্র করে এবারের বাছাইপর্বের প্রথম পয়েন্ট পেল আজারবাইজান।