• ইউরো বাছাইপর্ব
  • " />

     

    লিথুনিয়ায় রোনালদোর চার, পর্তুগালের পাঁচ

    আরও একবার হ্যাটট্রিক করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে এই নিয়ে অষ্টমবারের মতো আর সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারের ৫৪ তম বার। রোনালদোর হ্যাটট্রিক যদিও নতুন কোনো ঘটনা না। চতুর্থ ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো করেছেন হ্যাটট্রিক। এবার তিন গোল করেও থামেননি। ক্যারিয়ারের দশমবারের মতো এক ম্যাচে তিন গোলের বেশি করেছেন। ইউরো বাছাই পর্বে গ্রুপ 'বি'- এর ম্যাচে তাই পর্তুগাল লিথুনিয়াকে হারিয়েছে বড় ব্যবধানে, ৫-১ এ। 

    লিথুনিয়ায় রোনালদোর চার গোল নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে জীবন্ত কিংবদন্তীকে। জাতীয় দলের জার্সিতে এখন ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। সামনে আছেন শুধু ইরানের আলী দাইয়ি। আলী দাইয়ির গোল ১০৯, রোনালদোর ৯৩। আপনি ধরেই রাখতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এই রেকর্ডটাও নিজের করে নিয়ে ছাড়বেন!

    ক্যারিয়ারে বহুবার হ্যাটট্রিক করেছেন রোনালদো। তবে এর চেয়ে কম দর্শকদের সামনে এর আগে কখনও হ্যাটট্রিক করা হয়নি তার। ২৮ লাখ মানুষের দেশে ইউরো জয়ী পর্তুগাল খেলেছে মাত্র ৫ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামে।  ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ১৩১ নম্বরে থাকা লিথুনিয়ার বিপক্ষে অবশ্য পর্তুগালের জয়টা একপেশে হওয়ার কথা থাকলেও, প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই করে রোনালদোদের চমকে দিয়েছিল তারা।

    রোনালদো আর পর্তুগাল ম্যাচের ৬ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল পেনাল্টি থেকে। হোয়াও ফিলিক্স এদিন একাদশে ছিলেন শুরু থেকেই। তার শট লিথুনিয়া ডিফেন্ডারের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। নিচু শট বটম কর্নারে জড়িয়ে রোনালদো করেন প্রথম গোল।

     

     

    ২৮ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে আন্দ্রেয়াস কেভিসিয়াস চমকে দেন পর্তুগালকে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে একবার রোনালদো আর দুইবার ফেলিক্সের দারুণ দুইটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে লিথুনিয়া গোলরক্ষক এর্নেস্তাস সেতকাস অবিশ্বাস্য এক স্বপ্ন দেখাতে থাকেন দেশকে। প্রথমার্ধ শেষ হয় সমতায়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও রোনালদো-ফেলিক্স মিলে চোখ রাঙাতে থাকেন সেতকাসকে। চাপে পড়ে যাওয়া পর্তুগাল স্বস্তি পায় ৬২ মিনিটে। ডিবক্সের বাইরে থেকে নিচু শট করেছিলেন রোনালদো। সেতকাস সেবারও ঠেকিয়েছিলেন, কিন্তু বল ড্রপ খেয়ে তার মাথায় লেগে আবার গোলেই পরিণত হলে অসহায় তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না তার। লিথুনিয়ান গোলরক্ষকের মতো এরপর ধৈর্য্যের বাধ ভাঙে পুরো দলেরই। এরপরই একপেশে হয়ে যেতে থাকে ম্যাচ।

    তিন মিনিট পর হ্যাটট্রিকও পূরণ করে ফেলেন রোনালদো। রাইট উইং থেকে বের্নার্দো সিলভার ক্রস সিক্স ইয়ার্ড বক্সের সামনে থেকে গোলে পরিণত করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। ৭৬ মিনিটে রোনালদোর চতুর্থ গোলটিও এসেছে সিলভার পাস থেকে। ১২ গজ দূর থেকে কোণাকুণি শটে গোলটি করেন রোনালদো। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পর্তুগালের জয়ের ব্যবধান বাড়ান উইলিয়াম কারভালহো।

    এর আগে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বাছাই পর্বে ফিরেছিলেন রোনালদো। তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ও পেয়েছিল পর্তুগাল। টানা দ্বিতীয় জয়ে পর্তুগাল আছে গ্রুপের দুই নম্বরে। শীর্ষে থাকা ইউক্রেনের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৫ পয়েন্টে পিছিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।