• " />

     

    রোমারিও শেফার্ড, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং নামে কী আসে যায়?

    দুই দিন আগে ওয়েট ইন্ডিজ-আফগানিস্তানের ওয়ানডেতে রোমারিও শেফার্ড নামটা দেখে আপনার ভুরু একটু কুঁচকে যেতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সেদিনই অভিষেক হয়েছে এই অলরাউন্ডারের, জন্ম তার গায়ানায়। গুগল করে দেখা গেল রোমারিওর জন্ম হয়েছে ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে। যাদের বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে তাদের ধরে ফেলার কথা, সে বছর জুলাইতেই তো বিশ্বকাপ জিতেছিল রোমারিওর ব্রাজিল। নামটা কেন রোমারিও সেটা নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় থাকার কথা নয়।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার অবশ্য নিজের নাম এই কিছু বলেননি এখন পর্যন্ত। নামের কথাটা আসছে, কারণ বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতেরই আরেক ক্রিকেটারের নাম নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা। ওয়াশিংটন সুন্দর নামটা এমনই, আপনার আলাদা করে নজর পড়তে বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েই এই অলরাউন্ডারের নাম কেউ রেখেছেন কি না, সেই প্রশ্ন হয়তো আপনার আসতে পারে। তবে কাহিনিটা ওরকম কিছু নয়। সুন্দরের বাবা এম সুন্দর ছোটবেলায় পিডি ওয়াশিংটন নামের অবসর প্রাপ্ত একজন সামরিক অফিসারের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছিলেন। এম সুন্দর নিতান্ত গরীব ঘর থেকে এসেছিলেন, সেই আর্মি অফিসারের সাহায্যেই স্কুলে ভর্তি হতে পেরেছিলেন। তখনই ঠিক করেছিলেন, কখনো ছেলে হলে তার নামেই রাখবেন নামটা। সেটা থেকেই ওয়াশিংটন সুন্দরের এই নাম।

    এটা অবশ্য কিছু নয়। তার চেয়েও বিচিত্র নাম আছে। ভাতেরই আরেক ক্রিকেটারের নাম নিয়ে বেশ হইচই হয়েছিল। নেপোলিয়ন আইন্সটাইন নামটা অবশ্য সাড়া ফেলার মতোই। সেখানেও একটা মজার ইতিহাস আছে। এই নেপোলিয়নের দাদা ছিলেন বিজ্ঞানী, একবার আলবার্ট আইনস্টাইনের কাছে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেটার জবাবও পেয়েছিলেন। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর নামটা তাই জুড়ে দেন নাতির নামের সঙ্গে। আর নেপোলিয়ন ছিল বাবার নাম, দুইয়েই মিলে এই নাম। যদিও এত ভারি নামের ভারটা এই ক্রিকেটার নিতে পারেননি, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলার পর একরকম হারিয়েই গেছেন।

    নামের ভার বললে অবশ্য নিক্সন ম্যাকলিনের নামটা আপনার মাথায় আসতে বাধ্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই পেসারের মতো নামের ভার বোধ হয় আর কাউকেই বইতে হয়নি। এই পেসারের পুরো নাম নিক্সন অ্যালেক্সি ম্যাকনামারা ম্যাকলিন। নিক্সন নামটা নেওয়া সাবেক যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কাছ থেকে। অ্যালেক্সি এসেছে রাশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সি কসগিনের কাছ থেকে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট ম্যাকনামারার কাছ থেকে এসেছে ম্যাকনামারা। ম্যাকলিনটা পিতৃপ্রদত্ত নাম অবশ্য। তবে এত বড় নামের মতো ক্যারিয়ারটা অত বড় হয়নি ম্যাকলিনের।

    ম্যাকলিনের মতো এত বিখ্যাত মানুষের নামে না হলেও কিংবদন্তিদের নামে ক্রিকেটারদের নাম রাখার ঘটনা আছে অনেক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ষাটের দশকের কিংবদন্তিদের একজন ছিলেন রোহান কানহাই। ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার তার এতোটাই ভক্ত ছিলেন, নিজের সন্তানের নাম রেখেছিলেন তার নামে। রোহান গাভাস্কারও বাবার ছায়া থেকে বেরুতে পারেননি কখনো, আরো অনেকের মতো বড় নামের বোঝা বইতে পারেননি। আবার উল্টোদিকে সুনীল গাভাস্কারের নামে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদেরও নামের ঘটনা আছে। সুনীল নারাইন ও সুনীল আমব্রিসের নাম রাখা হয়েছে তার নামে  ।

    ক্রিকেটারদের নামে এরকম নাম রাখার উদাহরণ অনেক আছে। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অ্যালেক বেডসার ও তার ভাই এরিক বেডসারের নাম ইংলিশ ক্রিকেটে কমবেশি সবারই জানা। এই দুই যমজ ভাইয়ের নামে নাম রাখা হয়েছিল ১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া একজোড়া যমজের। কাকতালীয় ব্যাপার, সেই অ্যালেক আর এরিক বেডসারও ক্রিকেট খেলেছিলেন; যদিও আদি অ্যালেক-এরিকের মতো খ্যাতি পাননি কেউই। নিল ফেয়ারব্রাদারের নাম রাখা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি নিল হার্ভের নামে, নিক নাইটের মধ্য নাম ‘ভেরিটি’ ছিল ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার হেডলি ভেরিটির নামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস কিংবদন্তি কলিন ক্রফিটের মাঝের এভারটন নাম নেওয়া হয়েছিল আরেক কিংবদন্তি এভারটন উইকসের কাছ থেকে।

    বিখ্যাতদের নামকেও ছাড়িয়ে গেছেন এরকম ক্রিকেটারও আছেন। কার্টলি অ্যামব্রোস নিজের সময়ের তো বটেই, সর্বকালেরই সেরাদের একজন। তার পুরো নাম কার্টলি অ্যালকন লিনওয়াল অ্যামব্রোস। তৃতীয় নাম লিনওয়াল যেমন রাখা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার রে লিন্ডওয়ালের নামে। পরে জানা গেছে, কার্টলি নামটাও ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার জেমস কার্টলি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা। অ্যামব্রোস অবশ্য ছাড়িয়ে গেছেন দুজনকেই।

    একদম সাম্প্রতিক সময়ে যেমন একজনের নাম আপনার চোখে পড়তে পারে। আইপিএল দেখলে শচীন বেবির নামটা আপনার চোখে পড়তে পারে। যেটা ভাবছেন, শচীন টেন্ডুলকারের নামেই রাখা হয়েছিল তার নাম। ১৯৮৯ সাল্র ১৭ ডিসেম্বর কেরালায় শচীন বেবির জন্ম। পরের দিন ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল টেন্ডুলকারের, সেই ম্যাচটা দেখে কিশোর ক্রিকেটারকে মনে ধরে গিয়েছিল পিসি বেবির। মনে হলো, এই টেন্ডুলকার একদিন অনেক বড় ক্রিকেটার হবে, ছেলের নামটা তার নামেই রাখা যাক। বেবি অবশ্য এখনো বড় কিছু হতে পারেননি, তবে সময় পড়ে আছে তার সামনে।