• ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর
  • " />

     

    কোহলি মাস্টারক্লাসে ও. ইন্ডিজের ২০৭ টপকে গেল ভারত

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০৭/৫, ২০ ওভার (হেটমায়ার ৫৬, লুইস ৪০, পোলার্ড ৩৭; চাহাল ২/৩৬, জাদেজা ১/৩০)
    ভারত ২০৯/৪, ১৮.৪ ওভার (কোহলি ৯৪*, রাহুল ৬২, পিরে ২/৪৪)
    ভারত ৬ উইকেটে জয়ী  


    রানতাড়া আর বিরাট কোহলি। এক বন্ধনীতে এ দুইকে ফেললে আপনি পাবেন মুগ্ধতা। যেন ক্ল্যাসিক এক সঙ্গীতসন্ধ্যা, একসময় আপনি হারিয়ে যাবেন ছন্দ-তাল-লয়ের যাদুতে। ধীরলয়ে শুরু হবে, শেষ হওয়ার পর রেশটা থেকে যাবে অনেক্ষণ। অবশ্য কোহলির ক্ষেত্রে যা হয়, একটির রেশ কাটতে না কাটতেই হাজির হয় আরেকটি। তারই ধারাবাহিকতায় হায়দরাবাদে ভারত অধিনায়ক দেখালেন আরেকটি মাস্টারক্লাস। তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসে ভারত গড়লো নিজেদের রানতাড়ার নতুন রেকর্ড। ২০৭ রান তুলেও ভারতের কাছে ৮ বল বাকি থাকতেই থমকে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

    কোহলির এমন ইনিংসের হাইলাইটস রিলটা আপনি রিপিট অপশনে দিয়ে প্লে করে রাখতে পারেন। শুধু দুর্দান্ত টাইমিংয়ের সব শট নয়, ছিল উদযাপন, ছিল ক্ষীপ্রতা। কেসরিক উইলিয়ামসের সঙ্গে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে প্রায় সংঘর্ষ হয়ে গিয়েছিল তার, আগ্রাসী কোহলি এর জবাব দিয়েছেন উইলিয়ামসের ওপর চড়াও হয়ে, তার উদযাপনই তাকে ফিরিয়ে দিয়ে। কল্পিত নোটবুক বের করে ব্যাটসম্যানের নাম কেটে দেন উইলিয়ামস উইকেট পাওয়ার পর, এবার তাকে ছয় মেরে কোহলি করলেন একই কাজ! এ ইনিংস দিয়ে তো ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও এদিন কেটে দিলেন কোহলি। 

    হায়দরাবাদে ব্যক্তিগত অর্জন বা দলীয় অর্জনের সঙ্গে এদিন ছিল আরেক প্রথমের দিন। টিভি আম্পায়ার নো-বল কল করেছেন এদিন, এর শিকার হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কেসরিক উইলিয়ামসেরই একটি নো প্রথমবার কল করেছেন টিভি আম্পায়ার অনিল চৌধুরি। 

    এর আগে ২০৮ রানতাড়ায় চতুর্থ ওভারে ফিরেছিলেন রোহিত শর্মা, ক্যারি পিরের বলে ডিপমিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে। এরপরের পুরো গল্পই কোহলির। লোকেশ রাহুল দিলেন শুরুতে দারুণ সমর্থন, কোহলির সঙ্গে তার ১০০ রানের জুটিতেই বড় রানতাড়ায় ভিতটা গড়লো ভারত। ৪০ বলে ৬২ রান করে পিরের দ্বিতীয় শিকার বনলেন রাহুল, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামাতে পারলো না কোহলিকে। রাহুলের উইকেটের পর প্রায় ১২ করে ওভারপ্রতি রান লাগতো ভারতের। একসময় বেশ ধীরগতির ছিলেন কোহলি, তবে গিয়ার বদলানোর কাজটা কোহলি করেছেন দারুণ দক্ষ ড্রাইভারের মতো করেই।
     


    যে ছবি বাঁধিয়ে রাখার মতো/বিসিসিআই


    ৫০ বল খেলেছেন, বলকে দশ দশ করে ভাগ করলে তার রানের গ্রাফটা ছিল এমন- ৭, ১৩, ১৯, ২৮, ২৭! তার ফিফটি হলো, নিজের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস হলো, এলো ভারতের জয়ও। মাঝে ঋষাভ পান্ট কটরেলের বলে লং-অফে ধরা পড়লেন, শ্রেয়াস আইয়ার পরিণত হলেন পোলার্ডের দারুণ ফিরতি ক্যাচে। কোহলি তাতে টললেন না। উইলিয়ামসকে কাভার ড্রাইভে ছয় মেরে শেষটা করলেন, যে শট তুলে ধরলো যেন কোহলির পুরো ইনিংসকেই। 

    কোহলির ইনিংস একপাশে সরিয়ে রাখলে আলোচনায় আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এলোমেলো বোলিং। বিশেষ করে তাদের দেওয়া অতিরিক্ত ২৩ রান, বিপরীতে ভারত এ খাতে দিয়েছিল মাত্র ৬! শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানও তাই যথেষ্ট হয়নি তাদের। 

    অথচ প্রথম ইনিংসে এলোমেলো মনে হয়েছিল ভারতকেই, বিশেষ করে তাদের ফিল্ডিংকে। পরপর দুই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করা শিমরন হেটমায়ারের ক্যাচ ফেলেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর, পোলার্ডের দুই ক্যাচ ফেলেছিলেন রোহিত শর্মা। হেটমায়ার শেষ পর্যন্ত করেছেন ৪১ বলে ৫৬ রান, যুঝভেন্দ্র চাহালের বলে রোহিতের হাতেই ক্যাচ দিয়ে। আর চাহালের বলেই বোল্ড হওয়ার আগে কাইরন পোলার্ড করেছেন ১৯ বলে ৩৭ রান। 

    টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ফিরেছিলেন লেন্ডল সিমন্স, এভিন লুইস ও ব্রেন্ডন কিং দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেছিলেন ৫১ রান। হেটমায়ারের সঙ্গে কিং ও পোলার্ডের জুটিতে এরপর এগিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আর শেষদিকে জেসন হোল্ডারের ৯ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে ভর করে তারা ছাড়িয়েছিল ২০০। 

    তবে শেষ পর্যন্ত ‘কিং-কোহলি’র কাছে যথেষ্ট হয়নি কিছুই।