• ফেডারেশন কাপ
  • " />

     

    দাপট দেখিয়েও ব্রাদার্সের বিপক্ষে এক গোলের জয় বসুন্ধরার

    ফুলটাইম 
    বসুন্ধরা কিংস ১-০ ব্রাদার্স ইউনিয়ন


    প্রথমার্ধে বসুন্ধরার আক্রমণ একের পর এক আছড়ে পড়েছে ব্রাদার্সের অর্ধে। বড় জয়টা সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল তখন। তবে পরের অর্ধে রঙ হারালো বসুন্ধরা কিংস, প্রথমার্ধে একের পর এক গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে শেষদিকে নিজেদের জন্য ম্যাচটা কঠিনই বানিয়ে ফেলেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত তাই এক গোলের জয় দিয়ে ফেডারেশন কাপ শুরু করেছে গতবারের রানার্স আপরা।  

    প্রথমার্ধে ব্রাদার্সের ওপর দিয়ে রীতিমত বুলডোজার চালিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ২৩ মিনিটে দানিয়েল কলিনদ্রেসের থ্রু পাস ধরে ব্রাদার্সের ডিফেন্স লাইন ফাঁকি দিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন জালাল কেদু। ডান পায়ে কোনাকুনি শটে গোল পেয়ে যান  লেবানিজ স্ট্রাইকার। অবশ্য কেদুর শটটা তেমন জোরালো ছিল না, ভুলটা করেছেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক তিতুমীর চৌধুরী, ঠিকমতো বল গ্রিপ করতে পারেননি তিনি। 

    শেষ পর্যন্ত ওই গোলেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে ম্যাচের। কেদুর উদযাপন নতুন মাত্রা পেয়েছে লেবানন থেকে উড়ে আসা বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে। ছেলের গোল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে উপভোগ করেছেন দুইজন। 



    দানিয়েল কলিনদ্রেস, জালাল কেদু, আখতাম নাজারোভদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বসুন্ধরার হয়ে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন  নিকোলাস দেলমন্তে। প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে যেতে পারতেন তিনি। দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ালেও রেফারির সেই গোল বাতিল করেছেন, গোলরক্ষককে করা ফাউলের জন্য। 

    বিরতির আগেই কেদু নিজে পেয়ে যেতে পারতেন হ্যাটট্রিকও। একবার বারপোস্টে লেগেছে তার শট, আরেকবার ফাঁকায় থেকেও গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি বাইরে হেড করে। বারপোস্টে লেগে গোলবঞ্চিত হয়েছেন মতিন মিয়াও। রবিউল হাসান, মোহাম্মদ ইব্রাহিমরা একাদশে না থাকলেও বদলি হওয়ার আগ পর্যন্ত মতিন মিয়া নিজের স্বভাবসুলভ খেলাটাই খেলার চেষ্টা করে গেছেন পুরোটা সময়ে। 

    দ্বিতীয়ার্ধেও খেলা গড়িয়েছে একই ধারায়। এবার অবশ্য তিতুমীর গোলবারে বাঁশের কেল্লা গড়ে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন বসুন্ধরাকে। ৫৯ আর ৬০ মিনিটে প্রথমবার দেলমন্তে আর পরেরবার কলিনদ্রেসের শক্তিশালী শট আটকে দেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক। তাতে কিছুটা আত্মবিশ্বাসও খুঁজে পায় ব্রাদার্স। পুরো ম্যাচ ঘুমিয়ে কাটানো ব্রাদার্সের সেটা পুঁজি করেই দারুণ দুইটি সুযোগ পেয়েছিল। 

    ফ্রি-কিক থেকে কিংসলে চুগোজি দূরের পোস্টে ফাঁকায় থেকেও লক্ষ্য মারতে ব্যর্থ হন। কিছুক্ষণ পর মেজবাহ উদ্দিন হাতছাড়া করেছেন সুবর্ণ সুযোগ। আনিসুর রহমান জিকোর সঙ্গে ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি বলের ওপর, তাই শটও করতে পারেননি। নইলে বসুন্ধরাকে বড়সড় আঘাত করে বসতে পারত ব্রাদার্স। 

    এর পর শেষদিকে আরও কিছু হাফ চান্স তৈরি করেছিল বসুন্ধরা কিংস। তবে সেভাবে আর ব্রাদার্সের রক্ষণে কাঁপন ধরাতে পারেননি কলিনদ্রেসরা। 

    রেফারিং নিয়ে অসোন্তোষ ব্রুজোনের 
    রেফারিং নিয়ে বেশ চটেছেন বসুন্ধরা কোচ। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ফাউল করে খেলার অভিযোগও তুলেছেন ব্রুজোন, বলেছেন রেফারিও ব্রাদার্সকে মারমুখী ফুটবল খেলতে বাধা দেননি। প্রথমার্ধে দেলমন্তের গোল বাতিলের পেছনেও যুক্তি খুঁজে পাননি তিনি। এর আগে একটি পেনাল্টিও তার দলের প্রাপ্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রুজোন। 

     অভিষেকেই আলো ছড়িয়েছেন দেলমন্তে
    এমনিতে ডিফেন্ডার। তবে বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজোন আকে খেলিয়েছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। তাতে পুরো মাঠ জুড়ে অনেকটা বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন আর্জেন্টাইন নিকোলাস দেলমন্তে। বাংলাদেশে তার প্রথম ম্যাচটা একেবারে খারাপ যায়নি। 

    শুরুতে কিছুটা রক্ষণে মনোযোগী হলেও প্রথমার্ধে বেশির ভাগ দেলমন্তে সময় পার করেছেন আক্রমণেই। গোলবঞ্চিত হয়েছেন একবার ফাউলের জন্য, আরও দুইবার বক্সের ভেতর থেকে হেড করে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাদার্স গোলরক্ষককে। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটও নিয়েছিলেন গোলে। প্রথম ম্যাচের হিসেবে আক্রমণের সঙ্গে মিডফিল্ডে বল ডিস্ট্রিবিউশনও খারাপ ছিল না আর্জেন্টাইনের। সময়ের সঙ্গে দেলমন্তেকে আরও বেশি ধারালো হতেই দেখতে চাইবেন বসুন্ধরা সমর্থকেরা। 

    রবিউল, ইব্রাহিমদের ছাড়াই ব্রুজোনের প্রথম ম্যাচ 
    নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে রবিউল হাসান,  বিপ্লু আহমেদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিমদের ব্যবহারই করেননি বসুন্ধরার কোচ। এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে সাইফ স্পোর্টিং কোচও জাতীয় দলের ফুটবলারদের ধকলের কথা বলেছিলেন। ব্রুজোনের হাএ অবশ্য অপশন ছিল অনেক। তাই জাতীয় দলের এই তিনজনকে ব্যবহারই করেননি ব্রুজোন।  


    এর পর কী?
    ২৬ তারিখ গ্রুপ 'বি'-তে নিজেদের শেষ ম্যাচে বসুন্ধরার কিংসের। এর আগে ২২ তারিখ ব্রাদার্স খেলবে চট্টগ্রাম আবাহনী।
      

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন