• ফেডারেশন কাপ
  • " />

     

    কিক অফের আগে : হারানোর কিছু নেই রহমতগঞ্জের, আক্ষেপ ঘোচাতে চায় বসুন্ধরা

    কবে, কখন 
    ফেডারেশন কাপ, ফাইনাল 
    রহমতগঞ্জ-বসুন্ধরা কিংস 
    ৫ জানুয়ারি, বিকাল ৪.০০ 
    বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম 

    নিজেদের ৮৭ বছরের প্রথমবারে মতো শীর্ষ পর্যায়ের কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে রহমতগঞ্জ। আর ফুটবলের নতুন পাওয়ারহাউজ বসুন্ধরা কিংস টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠছে। তবে তারাও আগেরবার শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ফাইনালে আবাহনীর কাছে হেরে। ৩১ তম ফেডারেশন কাপ তাই পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। 


    রহমতগঞ্জ 
    ফেডারেশন কাপের ফাইনালে রহমতগঞ্জ নামটা চমকই। সাইফ স্পোর্টিং ও শেখ জামালের সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে গ্রুপ ‘সি’-তে  রহমতগঞ্জ ছিল আন্ডারগড। সেই রহমতগঞ্জ দুই ম্যাচে রক্ষণের গোছালো পারফরম্যান্স পুঁজি করে উঠে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানেই চমক থামেনই, টাইব্রেকারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দেওয়ার পর মোহামেডানকেও বধ করে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে সৈয়দ গোলাম জিলানীর দল।

    ফাইনাল ম্যাচটা এখন রহমতগঞ্জের জন্য উৎসবই। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, ফুটবল দেখতে সেখানে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না। ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকতে তাই ক্লাবের শুভানুধ্যায়ীদের মাঠে যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে রেখেছে রহমতগঞ্জ কর্তৃপক্ষ। ক্লাবও সেজেছে নতুন সাজে। ফাইনালে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে মাঠে যাবেন সমর্থকদের একটি অংশ। রহমতগঞ্জে তাই সাজ সাজ রব। 

    এসবের মাঝেও মাঠের খেলাতেই মনোযোগ রাখতে হচ্ছে রহমতগঞ্জ কোচ জিলানীকে। ফেডারেশন কাপ জয়ী দল পরের বছর এএফসি কাপের বাছাই পর্বে খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু রহমতগঞ্জের  এএফসি কাপে খেলার লাইসেন্সই নেই- আপাতত সেসব নিয়েই মাথা ব্যাথা নেই জিলানীর। তার সব চিন্তা শুধুমাত্র ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে। 

    প্রায় প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে নিজেদের স্বাভাবসুলভ ফুটবলটা খেলতে না দিয়ে ফাইনালে উঠেছে রহমতগঞ্জ। জিলানীর ট্যাকটিকস আলাদা করে নজর কেড়েছে তাই টুর্নামেন্টে। তবে তিনি পুরো কৃতিত্বই দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের, “আমার খেলোয়াড়রা দলকে ফাইনালে নিয়ে গেছে। এখন ফাইনালে খেলোয়াড়দের একই টেম্পারমেন্ট, মনোযোগ থাকলে ভালো কিছুর আশা করা যায়।”

    সেই কাজটা যে কঠিন সেটা জানেন জিলানীও। বসুন্ধরার শক্তি তাদের স্কোয়াড ডেপথ। দুইদলের মানেও আছে আকাশ-পাতাল ফারাক। সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন জিলানী, "দেখুন বসুন্ধরায় জাতীয় দলের ফুটবলাররা খেলে, বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারও আছে। আর আমরা নতুন দল গড়েছি। ওরা (বসুন্ধরা) পাওয়ার ফুটবল খেলে।"

    খেলোয়াড়দের কৃতিত্বটা অবশ্য জিলানীর দেওয়ারই কথা। দলের দুই বিদেশী ডিফেন্ডার ইউনুসা কামারা ও আকপোপোভ আসররোর্ভ এই টুর্নামেন্টে দারুণ খেলেছেন। গোলরক্ষক রাসেল লিটনও আবাহনীর বিপক্ষে টাইব্রেকার জয়ে বড় অবদান রেখেছেন, সবমিলিয়ে রহমতগঞ্জের শক্তি তাই রক্ষণেই।

    জিলানী অবশ্য বলছেন, এই ম্যাচে হারানোর কিছু নেই তার। ফাইনালে উঠেছেন এতেই আনন্দিত তিনি। দলের কাছ থেকে তাই শতভাগটাই চাইছেন রহমতগঞ্জ কোচ।

     


    বসুন্ধরা কিংস 
    বড় ক্লাবগুলো বিদায় নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই, একমাত্র বসুন্ধরা কিংস টিকে আছে শেষ পর্যন্ত। নড়বড়ে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গেই ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এবারের ফেডারেশন কাপে সম্ভবত নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটি বসুন্ধরা দেখিয়েছে সেমিফাইনালে। ওই একটি ম্যাচেই তারা একের বেশি গোল করতে পেরেছে। কাজের সময়ে জ্বলে উঠেছেন দলের কোস্টারিকান অধিনায়ক দানিয়েল কলিনদ্রেসও। সেমিফাইনালের ওই ম্যাচের পর আরও একবার বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজোন মাঠের কড়া সমালোচনা করেছেন। সঙ্গে ফেডারেশন কাপের ঠাসা সূচি দেশের ফুটবলের কোনো উপকার করছে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি, "ফুটবল যেভাবে চলছে তাতে খেলোয়াড় কিংবা বাংলাদেশের ফুটবলের কোনো উন্নতি হবে না।”

    “অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে, যেখানে খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারে না। রিকভারি না হলে তারা পরের ম্যাচে ভালো খেলবে কী করে! এভাবে কোনো টুর্নামেন্ট চলতে পারে না। একটা ফাইনালের আগে পাঁচ-ছয় দিন প্রস্তুতির সময় দেবে, ভালো ম্যাচ দেখার জন্য দর্শক আসবে, স্পন্সর আসবে। এভাবে ফুটবল চলা উচিত।”- সেমিফাইনালে জয়ের পর বাফুফের সিদ্ধান্তকে একরকম ধুয়ে দিয়েছেন বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ।

    এবারের ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরার ধারালো রূপের দেখা পাওয়া গিয়েছে সেমিফাইনালে এসে। তবে প্রতি ম্যাচেই কোচ অদল-বদল করে একাদশ সাজিয়েছেন। পুলিশ এফসির বিপক্ষে যেমন মাঠেই নামেননি জালাল কেদু। কিন্তু দলের মূল স্ট্রাইকারের অভাবটা বুঝতে দেননি  দানিয়েল কলিনদ্রেস। সময়মতো তার সঙ্গে ফর্মে ফিরেছে তার দলও। ইয়াসিন খান, তপু বর্মনের ডিফেন্সিভ জুটিও আশা দেখাচ্ছে বসুন্ধরাকে। সব মিলিয়ে তাই ফাইনালে পরিষ্কার ফেভারিট এই বসুন্ধরাই। 

    আগেরবার ফাইনাল হারায় একটা আক্ষেপ থেকে গেছে বসুন্ধরা কিংসের। দলের প্রেসিডেন্ট ইম্রুল হাসান ফাইনালের আগে সে কথাই বললেন, “আগেরবার ফাইনালে হেরে একটা আক্ষেপ রয়ে গেছে আমাদের, এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর পালা।”   


    যেভাবে ফাইনালে দুইদল 
    ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বসুন্ধরা কিংস। এর পর চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ২-০ গোলে হেরে গ্রুপ রানার্স হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বসুন্ধরা খেলেছে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে। ১-১ গোলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনাইলে উঠেছিল বসুন্ধরা কিংস। সেমিফাইনালে পুলিশ এফসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রুজোনের দল। 

    রহমতগঞ্জ গ্রুপের দুই ম্যাচে ড্র করে আবাহনীর বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে উঠেছিল সেমিফাইনালে। এর পর ১-০ ব্যবধানে মোহামেডানকে হারিয়ে দেশের ফুটবলে প্রথম ফাইনালে উঠেছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন