• ফেডারেশন কাপ
  • " />

     

    মোহামেডানকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে রহমতগঞ্জ

    ম্যাচ শেষের বাঁশির পর রহমতগঞ্জের ডাগ আউট এক মুহুর্তে হয়ে গেছে ফাঁকা। মাঠে ঢুকে পড়েছেন সবাই। ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে, মোহামেডানকে সেমিফাইনালে হারিয়ে রহমতগঞ্জ উঠে গেছে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে। গ্যালারির শ'খানেক  রহমতগঞ্জ সমর্থক গলা ফাটাচ্ছেন, আর মাঠে ততোক্ষণে রহমতগঞ্জ খেলোয়াড়রা কোচ গোলাম জিলানিকে কোলে তুলে উদযাপনে মেতেছেন। মাঠের অন্যপ্রান্তে তখন রাজ্যের অন্ধকার, মোহামেডান খেলোয়াড়রা শুয়ে পড়েছেন মাঠেই।

    এই রহমতগঞ্জ ইতিহাস গড়েছে। সাইফ স্পোর্টিং, শেখ জামালকে আটকে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ঢাকা আবাহনী বধ, এর পর সেমিফাইনালে মোহামেডানকেও হারিয়ে দিল তারা। নিজেদের ৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে তাই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে হারাতে এক গোলই যথেষ্ট হয়েছে গোলাম জিলানির দলের জন্য। ম্যাচের ১১ মিনিটে শাহেদুল আলমের ডান প্রান্ত থেকে করা ক্রস সিক্স ইয়ার্ড বক্সের মাথা থেকে গ্ল্যান্সিং হেডারে জালে জড়ান রহমতগঞ্জের উজবেক ফরোয়ার্ড তুরায়েভ আকোবির।



    মোহামেডান আসলে হেরেছে রহমতগঞ্জের শুরুর ওই ১৫ মিনিটের ঝড়েই। সেমিফাইনালে দুর্দান্ত শুরু করেছিল রহমতগঞ্জ। শন লেইনের প্রেসিং ফুটবল টেক্কা দিতে কাউন্টার প্রেসিং করার টোটকা নিয়ে নেমেছিলেন জিলানি। সেই পরিকল্পনাও নাকি ছিল শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য। রহমতগঞ্জ গোল তুলে নিয়েছে ওই সময়ের ভেতরই।

    "আমি জানতাম মোহামেডান প্রেস করে খেলে। আমার পরিকল্পনা ছিল ১৫ মিনিট আমরাও প্রেস করে খেলে মোহামেডানকে ভড়কে দেব।"- ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসী জিলানির কথার প্রতিফলন ছিল মাঠেও। শুরুর গোলটা পরে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে রহমতগঞ্জকে। সেমিফাইনালে এসে তাই টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ের দেখা হয়েছে জিলানির দল। এর আগে সাইফ স্পোর্টিং, শেখ জামালের সঙ্গে ড্র ও আবাহনীর সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে জিতে রহমতগঞ্জের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল।

    গোলদাতা উজবেক ফরোয়ার্ড আকোবিরকেও দলে এনেছিলেন এই কোচ জিলানিই। ভিডিও দেখে মনে ধরেছিল তাকে। উজবেক লিগে আকোবিরের যতগুলা খেলা দেখেছেন তাতে তাকে নিখুঁত গোলস্কোরার মনে হয়নি কোচের কাছে। তবে তার লড়াকু মনোভাব মনে ধরেছিল কোচের, "ওর যতগুলো খেলা দেখেছি তাতে মনে হয়নি সে নিয়মিত গোল  স্কোরার। তবে যা গোল দিয়েছে তা সবগুলোই হেডে ছিল। আজও সেই কাজটাই করেছে সে।" 



    শুরুর ওই ধাক্কাটাই আর সামাল দিতে পারেনি মোহামেডান। পুরো ম্যাচে বল পজেশনে যোজন এগিয়ে থেকেও অ্যাটাকিং থার্ডে মোহামেডান ছিল দুর্বল। একেবারে শেষদিকে আকোবিরের মতো একই রকম সুযোগে গোল পেতে পারেতেন মোহামেডান অধিনায়ক উরুই নাগাতা। কিন্তু তার হেড চলে যায় বাইরে দিয়ে।

    মোহামেডান কোচ শুরুর ওই ১৫ মিনিটকেই দলের হারের জয় দুষছেন। ইংলিশ কোচ শন লেইন একেবারে বাংলাতেই বলেছেন এই ১৫ মিনিট "চোখ বন্ধ" করে ছিল তার দল, "১৫ মিনিট ঘুমিয়ে কাটিয়ে এই পর্যায়ে আপনি ম্যাচ জেতার আশা করতে পারেন না। এর পর আমরা বল পেয়েছি, কিন্তু ভালো জায়গায় বল রেখে ধারালো আক্রমণ সাজাতে পারিনি।"

    মোহামেডানের ব্যর্থতা রহমতগঞ্জের জন্য হয়েছে আশীর্বাদ। অবশ্য রহমতগঞ্জের দুই সেন্টারব্যাক ইউনুসা কামারা ও আকপোপোভ আসরোরভ যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে খেলছেন তাতে ওই দুর্গ গলে গোল করাও কঠিন। চার ম্যাচে এই রক্ষণ জুটি গোল হজম করেছেন মাত্র দুইটি। তাতে অবশ্য গোলরক্ষক রাসেল লিটনের অবদানও রয়েছে। অবশ্য মোহামেডান কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি লিটনকে।

    ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর রহমতগঞ্জের এতোদিন শীর্ষ পর্যায়ে শিরোপাই ছুঁয়ে দেখা হয়নি। শিরোপা দূরে থাক কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালেও ওঠা হয়নি রহমতগঞ্জের। সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৭৭ সালে ঢাকা লিগে রানার্স আপ হওয়া। জিলানির এখন একটিই ইচ্ছা, শিরোপা ছুঁয়ে দেখার অনুভুতি পেতে চান তিনি। ৫ তারিখ বিকাল চারটায় আবার যখন মাঠে নামবে রহমতগঞ্জ তখন লক্ষ্য থাকবে ওই একটাই। প্রতিপক্ষ বসুন্ধরা কিংস হোক আর বাংলাদেশ পুলিশ এফসিই হোক জিলানির চোখ এখন শিরোপায়।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন