• ফেডারেশন কাপ
  • " />

     

    কলিনদ্রেসের দ্যুতি ছড়ানোর দিনে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস

    ফুলটাইম 
    বাংলাদেশ পুলিশ এফসি ০-৩ বসুন্ধরা কিংস 


    সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে নতুন কোনো রুপকথার গল্প লেখার সুযোগ দিল না বসুন্ধরা কিংস। দুই অর্ধের দুই গোলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে অস্কার ব্রুজোনের দলের। নতুন ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পেয়েছেন  তপু বর্মন ও আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকোলাস দেলমন্তে। তবে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন  অধিনায়ক দানিয়েল কলিনদ্রেস। এক গোল করেছেন তিনি, তবে পুরো ম্যাচে তাকে আটকাতেই হিমশিম খেয়েছে পুলিশ ডিফেন্ডাররা। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস খেলবে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে।

    ম্যাচের আগে পুলিশ এফসি কোচ নিকোলা ভিত্রোভিচ মনে করিয়ে দিয়েছিলেন দুইদলের মানের পার্থক্যটা। সেটাই আসলে ফুটে উঠেছে পুরো ম্যাচে। যদিও আন্তোনিও লাজকোভ প্রথম গোলের সুযোগটা তৈরি করেছিলেন। ফ্রি কিক থেকে সরাসরি গোলে শট করে বসুন্ধরা গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে চমকে দিয়েছিলেন পুলিশ এফসি ফরোয়ার্ড। জিকো তখন ফিস্ট করে বল উঠিয়ে দিয়েছিলেন।



    বসুন্ধরা তাতে ভড়কে যায়নি। নিজেদের আক্রমণেও ধার কমায়নি তারা। লেবানিজ স্ট্রাইকার জালাল কেদুকে ছাড়াই এদিন একাদশ সাজিয়েছিলেন ব্রুজোন। তার অভাবটা আসলে বুঝতে দেননি কলিনদ্রেস। ম্যাচের শুরুতেই কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড চোখ ধাঁধানো এক সিজার কিকে গোল করেছিলেন, কিন্তু অফসাইডে থাকায় দারুণ প্রচেষ্টাটা বিফলেই গেছে। তবে বসুন্ধরার প্রথম গোলটাও আসলে তারই আদায় করা ছিল।

    ম্যাচের ১৫ মিনিটে বল নিয়ে কলিনদ্রেস ঢুকে পড়েছিলেন বক্সের ভেতর। ডিফেন্ডার খান মোহাম্মদ তারা পেছন থেকে ট্যাকেল করেছিলেন কলিনদ্রেসকে। রেফারিকে দুইবার ভাবতে হয়নি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন তপু। ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরার হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো একাদশে নেমেছিলেন এই ডিফেন্ডার। ইনজুরিতে আগের মৌসুমের লম্বা একটা সময় মাঠের বাইরে কাটানোর পর গোলটা শেষ পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসই যোগানোর কথা তপুকে।

    এদিন আর এক গোল দিয়ে চুপ করে বসে থাকেনি বসুন্ধরা কিংস। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে খেলছিল তাতে দ্বিতীয় গোল পাওয়াটা সময়ের ব্যাপারই ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কলিনদ্রেসের কল্যাণে সেই গোলটি পেয়ে যায় তারা। তবে তাতে বড় দায় আছে ডিফেন্ডার ইসা ফয়সালের। বল পজেশন হারিয়ে কলিনদ্রেসকে গোলের দিকে এগিয়ে যেতে দিয়েছিলেন তিনি। বক্সের ভেতর ঢুকে কলিনদ্রেস ডান পায়ের আড়াআড়ি শটে ৪৯ মিনিটেই দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান। 

    ওই গোলের পর ম্যাচের ভাগ্য একরকম নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। বসুন্ধরা পুরো খেলাই নিয়ন্ত্রণ করেছে। যদিও তৃতীয় গোলটি পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে একেবারে শেষ পর্যন্ত। এর আগেই তপু বর্মন, বখতিয়ার দুশবেকভরা সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে তৃতীয় গোলটি আরও আগেই পেয়ে যেতে বসুন্ধরা। ৯৫ মিনিটে সেই কাজটা করেছেন দেলমন্তে। বক্সের ভেতর পুলিশ বল ক্লিয়ার করতে পারেনি, তিনি বাম পায়ের শটে পেয়ে যান বাংলাদেশে তার প্রথম গোল।

    ৫ জানুয়ারি বিকাল ৪ টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ৩১ তম ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। বসুন্ধরার টানা দ্বিতীয় হলেও রহমতগঞ্জ নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলছে ফাইনালে। যে দলই জিতুক, ফেডারেশন কাপ পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। 

    যে কোনো পজিশনেই খেলতে পারেন কলিনদ্রেস 
    কেদুকে বিশ্রাম দেওয়ায় এদিন মূল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলেছেন কলিনদ্রেস। নিজের নিয়মিত পজিশনে না খেলেও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন কোস্টারিকান ফরোয়ার্ডই।  বসুন্ধরা কোচ মনে করেন মূল স্ট্রাইকার হোক আর ওয়াইড পজিশন হোক- দুইক্ষেত্রেই সমান কার্যকর কলিনদ্রেস, "কলিনদ্রেস আমাদের মূল ফুটবলার, কলিনদ্রেসই আমাদের দলের চেহারা, কলিনদ্রেস বাংলাদেশ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার।"

    "ফুরোয়ার্ড হোক আর ওয়াইড পজিশন হোক তাতে ওর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ওয়াইড পজিশনে খেললেও সে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে  ঢুকে যেতে পারে।" - ম্যাচশেষে বসুন্ধরা কোচ প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলের ম্যাচ জয়ের নায়ককে।  

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন