• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ৮৬ মিনিটে কলিনদ্রেসের গোলে বারিধারার স্বপ্ন ভাঙল বসুন্ধরা

    ফুলটাইম
    বসুন্ধরা কিংস ১-০ উত্তরা বারিধারা


    হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে বসুন্ধরা কিংস। প্রিমিয়ার লিগে নতুন আসা উত্তরা বারিধারার কাছে ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা ভালোভাবে জেঁকে বসেছিল চ্যাম্পিয়নদের ঘাড়ে। নীলফামারির শেখ কামাল স্টেডিয়ামে এক মিনিটের খেলা ভাগ্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচের। ৮৬ তম মিনিটে খেলার ভাগ্য ঘুরতে পারত যে কোনো দিকেই। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বারিধারার সুমন রেজার শট বসুন্ধরার বারপোস্টে লেগে ফেরত এসেছিল। এর পরই ফিরতি আক্রমণে গোল পেয়ে গেছেন দানিয়েল কলিনদ্রেস। তাতে ভেঙেছে বারিধারার প্রতিরোধ, সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে উঠে প্রথম ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নদের আটকে দেওয়ার স্বপ্নও।   

    বদলি মাহবুবুর রহমান সুফিল ডান প্রান্ত থেকে বক্সের ভেতর  ক্রস ফেলেছিলেন। বারিধারা গোলরক্ষক আজাদ হোসেন এগিয়ে এসেই ভুলটা করলেন। বসুন্ধরার বখতিয়ার দুশবেকভ কাছের পোস্টে বল না পেলেও, এই দুইজনের সংঘর্ষ দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা কলিনদ্রেসকে বল পাইয়ে দিয়েছিল। এর পর এক টোকায় বল জালে ঠেলে দিয়ে নীলফামারির শেখ কামাল স্টেডিয়ামকে আনন্দে ভাসান বসুন্ধরা অধিনায়ক।  অবশ্য বাকি সময়েও জয় নিশ্চিত করতে বসুন্ধরাকে লড়তে হয়েছে। ৮৯ মিনিটে ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর বাকি সময় বসুন্ধরা খেলেছে ১০ জন নিয়ে। 


    প্রিমিয়ার লিগের প্রথমদিনে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীও। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দুইটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। চিনেদুম্যাথু ও চার্লস দিদিয়ের ৫৫ ও ৬৫ মিনিটে করেছেন গোল দুইটি। সিলেটে অন্য ম্যাচে শেখ রাসেল ১-১ ড্র করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে।


    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছিল এই ম্যাচ দিয়ে। প্রথম ম্যাচ হিসেবে বসুন্ধরার প্রতিপক্ষও ছিল সহজ। তবে আলফাজ আহমেদের দলের বিপক্ষে প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে অস্কার ব্রুজোনের দলকে।

    চার বিদেশীকে একাদশে রেখে সম্ভাব্য সেরা একাদশটাই মাঠে নামিয়েছিলেন ব্রুজোন। তবে বারিধারার আঁটসাঁট রক্ষণ আক্রমণভাগে তাদের সুবিধা করতে দিচ্ছিল না তেমন। বল পজেশনে ঢের এগিয়ে থেকেও তাই প্রথমার্ধে হাতে গোণা অল্প কয়েকবার গোলে শট নিতে পেরেছে বসুন্ধরা। এর ভেতর প্রথমার্ধ শেষের কিছু আগে বারিধারা গোলরক্ষক একবার গোলবঞ্চিত করেছেন কলিনদ্রেসকে। প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতর ঢুকে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তহীনতাও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার ভুগিয়েছে বসুন্ধরাকে।

    দ্বিতীয়ার্ধে সময়ের সঙ্গে বারিধারা রক্ষণে মনোযোগী হয়েছে আরেকটু বেশি। আর ওই রক্ষণ ভাঙতে বসুন্ধরাকে করতে হয়েছে দ্বিগুণ পরিশ্রম। ন্যারো ডিফেন্ডিংয়ের সঙ্গে উইংয়েও খেলোয়াড় পাহারায় রেখে আলফাজ ভালোভাবেই জাপটে ধরেছিলেন বসুন্ধরার আক্রমণভাগকে। এর পরও অবশ্য বসুন্ধরার নামী-দামী আক্রমণভাগে সুযোগ বের করে নিয়েছে। অবশ্য ৭৪ মিনিটে কলিনদ্রেসের ফ্রি-কিক থেকে তপু বর্মন যখন পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলেন তখন দিনটা বসুন্ধরার না বলেই  মনে হচ্ছিল।

    পুরো ম্যাচে খুব বেশি কিছু করতে না হলেও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো শেষ পর্যন্ত বড় অবদান রেখেছেন দলের পয়েন্ট অর্জনে। ৮৬ মিনিটে সুজনের শট বারপোস্টে লাগার আগে তার হাত ছুঁয়ে গেছে। কলিনদ্রেসের গোলের পরও ফ্রি-কিক থেকে ভালো একটি সেভ করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাই কলিনদ্রেসের এক গোলই যথেষ্ট হয়েছে বসুন্ধরার প্রথম জয়ে।