• ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ২০১৯-২০
  • " />

     

    ৬৭ রানে ৫ উইকেটের পর মুশফিকের সেঞ্চুরি, পারটেক্সকে দুমড়ে দিল আবাহনী


    পুরো স্কোরকার্ড দেখুন


    ম্যাচের পর বললেন, ছোটবেলায় মোহামেডানের সমর্থক ছিলেন। তবে দিন দিন আবাহনীর দাপটে টানটা এসে পড়েছে এদিকে। সেই আবাহনীর হয়ে অভিষেকে ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে এক পর্যায়ে ৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল আবাহনী, প্রথম ২৩ বলে কোনও রান না করে টিকে ছিলেন মুশফিক। এরপর তিনি করলেন সেঞ্চুরি, আবাহনী পেল ২৮৯ রানের সংগ্রহ। পরে বোলারদের সমন্বিত পারফরম্যান্সে পারটেক্সকে গুঁড়িয়ে লিগ শুরু করলো আবাহনী। 

    শুরুটা যাদের ছিল বীভৎস- ৭ বলের মাঝে ৬ রান, আবাহনীর নেই ২ উইকেট। রনি হোসেনের লাফিয়ে ওঠা বলে ভড়কে গিয়ে বেসামাল হয়ে পড়া লিটন দাস হলেন বোল্ড, জয়নুল ইসলামের লাইন ধরে রাখা বলে এজড নাঈম শেখ। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে মুশফিকুর রহিম এরপর যেন টিকে থাকার সংগ্রাম করছিলেন। ১১.৩ ওভারে দুজনের জুটিতে উঠলো মাত্র ২১ রান। 

    এরপরই আবার আঘাত করলেন জয়নুল, এবার শরীর থেকে দূরে খেলতে গিয়ে স্টাম্পে বল ডেকে আনলেন শান্ত, ৩১ বলে ১৫ রান করার পর। এর মাঝে তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন আলগা বল পেয়ে। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও মুশফিকের জুটি এরপর তুললো ৭.২ ওভারে ১৮ রান, শাহবাজ চৌহানকে ফ্রন্টফুট ক্লিয়ার করে খেলতে গিয়ে স্টাম্প হারালেন বিপ্লব। ৫৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলল আবাহনী। আফিফ হোসেন এলেন, টিকলেন মাত্র ৯ বল। তাসামুল হকের স্পিনে বাড়তি বাউন্সে ভড়কে গিয়ে লিডিং এজে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিলেন তিনি। আবাহনীর অর্ধেক ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেন ৬৭ রানের ভেতর। 

    প্রথম ৩১ বলে মুশফিক করেছিলেন মাত্র ৬ রান, প্রথম বাউন্ডারি মেরেছেন ৫৯তম বলে, চৌহানের শর্ট বলে পুল করে। পরের ওভার থেকে শুরু করেছেন আক্রমণ, তাসামুলকে চারের পর চৌহানকে স্লগ করে মেরেছেন ছয়। ফিফটিতে গেছেন তিনি ৭৫ বলে, এরপরই মইন খানকে রিভার্স সুইপে মেরেছেন চার। মোসাদ্দেক হোসেনও যোগ দিয়েছেন এরপর আক্রমণে, তবে মুশফিকের কাছে তিনিও ছিলেন যেন ম্লান। ৭৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করা মুশফিক সেঞ্চুরিতে গেছেন মাত্র ১১১ বলে। 

    রিভার্স সুইপের সঙ্গে স্কুপ, রিভার্স স্কুপও খেলেছেন, শেষ পর্যন্ত জয়নুলকে তলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেছেন ১২৪ বলে ১২৭ রান, ১১ চারের সঙ্গে ৪ ছয়ে। মুশফিকের পরের ওভারে ফিরেছেন মোসাদ্দেকও, ৭৪ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ে ৬১ রান। চার মেরে ৭০ বলে পূর্ণ করেছিলেন ফিফটি। দুজনের জুটিতে ২৩.১ ওভারে উঠেছে ১৬০ রান। মুশফিক যদি ঝড় তোলেন, সাইফউদ্দিন এরপর করেছেন তান্ডব। ৫ ছয় মেরেছেন, ৩৯ রান করেছেন মাত্র ১৫ বলে। সঙ্গে তাইজুল ইসলামের ১৪ বলে ১৭ রানে ২৮৯ পর্যন্ত গেছে আবাহনী। 

    রানতাড়ায় হোঁচট খেতে সময় লাগেনি পারটেক্সের, মেহেদি হাসান রানার ওভার দ্য উইকেট অ্যাঙ্গেল করে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা দিয়েছেন আব্বাস মুসা আলভি। হাসানুজ্জামান টেকেননি বেশিক্ষণ, সাইফউদ্দিনের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে মিড-অফে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। 

    সায়েম আলম রিজভি শুরুটা করেছিলেন দারুণ, দুর্দান্ত টাইমিংয়ে ৩ বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছেন ১টি ছয়। তবে তাসামুল হকের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি, নিজে ২১ বলে ২৪ রান করে মোসাদ্দেকের বলে ব্যাকফুটে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন তিনি, হয়েছেন এলবিডব্লিউ। মইন খান ফিরেছেন আরাফাত সানির বলে ক্যাচ তুলে, ৫ রান করতে খেলেছেন তিনি ২৬ বল। 

    ধীমান ঘোষকে কেন্দ্র করে দুই জুটি এরপর একটু আশা জুগিয়েছিল পারটেক্সকে- ৫ম উইকেটে তাসামুলের সঙ্গে ৪৩ রানের পর নাজমুল হোসেন মিলনের সঙ্গে ৪৯ রান। তাসামুল থিতু হয়েছিলেন, তবে উড়ান আর দেওয়া হয়নি তার। বিপ্লবকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে করেছেন ৭২ বলে ৪৩ রান। 

    ৫ চারে ৩৬ রান করার পর রান তোলার চাপে পিষ্ট হয়েছেন ধীমান, তাইজুলকে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। মোসাদ্দেক ইফতেখার রাহি এলবিডব্লিউ হয়েছেন তাইজুলের বলে, চৌহান রানার বলে হয়েছেন বোল্ড। 

    মিলন টিকে থাকলেন আরও কিছুক্ষণ, করলেন ফিফটিও। রানার লেংথ বলে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে  মিস করে হয়েছেন বোল্ড, এর আগে ৬৩ বলে ৫৩, ৩ চারের সঙ্গে ২ ছয়ে।