• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ফুটবল চালু রাখতে বাংলাদেশ কোচের ভাবনায় 'সুপার লিগ'

    ছয় রাউন্ড খেলা হওয়ার পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ রাখতে হয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে। লিগ আবার কবে শুরু হবে তা জানা নেই কারও। এর ভেতর আবার বেশ কিছু ক্লাব এই মৌসুমের লিগ বাতিল করা প্রস্তাবও করেছে বলে খবর। এমন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে প্রিমিয়ার লিগ বাতিল হলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য 'সুপার লিগ' প্রস্তাব করেছেন। তার দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মাসে শেষ করা যাবে বাংলাদেশ ফুটবলের শীর্ষস্তরের ২০১৯-২০ মৌসুম। নিজের প্রস্তাবনা এরই মধ্যে বাফুফের কাছে হস্তান্তর করেছেন জেমি ডে। 

    "আমি একটি সুপার লিগ কাঠামো প্রস্তাব করেছি। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে আবার খেলা শুরু হতে পারে। এই নতুন প্রতিযোগিতা দিয়ে এই মৌসুমের জন্য প্রিমিয়ার লিগ প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। এতে লিগের সময় কমে আসবে, আর ম্যাচগুলোও উত্তেজনাপূর্ণ হবে। লিগ একেবারে বাতিল না করে মিনি লিগ দিয়ে অন্তত এই মৌসুমের শিরোপার নিষ্পত্তিটা করা যেতে পারে।"- লন্ডন থেকে নিজের সুপার লিগের প্রস্তাবনার কথা জানিয়েছেন জেমি ডে।

    ব্রিটিশ কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিমিয়ার লিগের ১৩ দল মোট ৫টি ভেন্যুতে একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে। সেপ্টেম্বরে খেলা শুরু হয়ে চলবে  প্রতিটি দল অংশ নেবে মোট ১২টি ম্যাচে- এর ভেতর ৬টি নিজেদের মাঠে আর বাকি ৬ ম্যাচ হবে অ্যাওয়ে। এর পর শীর্ষ ৪ দল নিয়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল দিয়ে নিষ্পত্তি হবে শিরোপার। এই ফরম্যাটে খেলা শুরুর সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে সেপ্টেম্বরে, আর শেষ নভেম্বরে। 

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এখন নিশ্চিতভাবেই নির্দিষ্ট সময়ে লিগ শেষ হচ্ছে না। আবার খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় নতুন ঝামেলায় পড়ার শঙ্কায় রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। জেমি ডে মনে করছেন, চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলায় ক্লাবগুলো  সব বিদেশী খেলোয়াড় হয়ত ধরে রাখতে পারবে না। সেক্ষেত্রে সুপার লিগে প্রতি ক্লাব এক বা দুইজন করে বিদেশী রাখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি, "আমি তো চাই দেশের ফুটবলাররাই এই লিগে বেশি সুযোগ পাক। আর বাস্তবতা হচ্ছে ক্লাবগুলোর পক্ষে সব বিদেশী ফুটবলার ধরে রাখা কঠিন হবে। এটাকে দেশের ফুটবলারদের উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।" 

    জেমি ডে বর্তমানে নিজ দেশ ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতির কারণে তিনিও রয়েছেন কোয়রেন্টিনে। জুলাই-আগস্টের আগে আবারও লিগ মৌসুম শুরু করার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে এর আগে প্যাভিলিয়নকে জানিয়েছিলেন তিনি।  

    ২০১৮ সালে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জেমি ডের সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে মে মাসে। তবে দুই পক্ষই নতুন চুক্তির ব্যাপারে কথা-বার্তা এগিয়ে নিয়েছে। বড় কোনো চমক না এলে, পরের দুই বছরের জন্যও বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে থাকছেন ৪০ বছর বয়সী ডে।