• ক্রিকেটে করোনাভাইরাস
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বলে শুধু ঘাম, নিরপেক্ষ আম্পায়ার নয়, বাড়তি রিভিউ- যেসব নতুন নিয়ম আসছে ক্রিকেটে

    ক্রিকেট বলে লালা ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে আইসিসির ক্রিকেট কমিটি। কভিড-১৯ ভাইরাস থেকে ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের সুরক্ষায় এমন প্রস্তাব দিয়েছে অনীল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি। সঙ্গে নিরপেক্ষ আম্পায়ারের বদলে স্থানীয় আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি দিয়ে ম্যাচ চালানো, এবং ইনিংসপ্রতি ডিআরএস বাড়ানোর সুপারিশ করেছে তারা। 

    সোমবার এক ভিডিও কনফারেন্স কলে এমন সিদ্ধান্তে এসেছে আইসিসির ক্রিকেট কমিটি। “আইসিসির মেডিকেল উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ডক্টর পিটার হারকোর্টের কাছ থেকে লালার মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির ব্যাপারে জেনে বলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে লালার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে আইসিসির ক্রিকেট কমিটি”, এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এমন। তবে যেহেতু ঘাম থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা একেবারেই কম বলে সেটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেননি তারা। 

    ক্রিকইনফো বলছে, বলে কৃত্রিম বস্তু ব্যবহারের বিপক্ষেও মত দিয়েছেন তারা। ফলে শুধুমাত্র ঘামই এখন বলের কন্ডিশন ঠিক রাখতে ভরসা হবে দলগুলির জন্য। এই কমিটির মতে, এর ফলে বোলারদের ওপর ব্যাটসম্যানদের দাপট আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বোলিং-সহায়ক উইকেট বানিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে। 

    কভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত বন্ধ এবং ভ্রমনে কড়াকড়ি থাকায় অন্তর্বর্তীকালিন সময়ে স্থানীয় ম্যাচ অফিশিয়ালদের দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০২ সাল থেকে ‘নিরপেক্ষ আম্পায়ারের নীতি’ চালু করেছিল আইসিসি, যেটি অনুযায়ী টেস্টে দুজন, ওয়ানডেতে একজন নিরপেক্ষ অনফিল্ড আম্পায়ার ছিল বাধ্যতামূলক। ডিআরএসের ক্ষেত্রে টেস্টে টিভি আম্পায়ারও থাকেন সাধারণত নিরপেক্ষই।  

    এসব ক্ষেত্রে আম্পায়ার নিয়োগ করা হবে আইসিসির স্থানীয় এলিট প্যানেল ও ইন্টারন্যাশনাল প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত অফিশিয়ালদের থেকেই। এলিট প্যানেলের আম্পায়ার কোনও দেশে না থাকলে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল থেকে ‘সেরা’ একজনকে নিয়োগ করা হবে। 

    আর এই পরিসরে আম্পায়ার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। ফলে প্রতি ইনিংসে বাড়তি একটি করে রিভিউ পাবে দলগুলি। বর্তমানে সীমিত ওভারে ইনিংসপ্রতি একটি ও টেস্টে ইনিংসপ্রতি দুটি ‘ব্যর্থ’ রিভিউয়ের সুযোগ পায় দলগুলি। 

    এসবের সঙ্গে 'কভিড-বদলি'র ব্যাপারও এসেছিল আলোচনায়, যেখানে কোনও ক্রিকেটার কভিড-১৯ পজিটিভ হলে তার বদলি হিসেবে কাউকে নামানোর সুযোগ পাবে দলগুলি। তবে আইসিসির মেডিকেল কমিটি থেকে বলা হয়েছে, আধা ঘন্টার মাঝেই কভিড-১৯ এর পরীক্ষা করা সম্ভব, এবং যেহেতু কোনও ক্রিকেটার বা কোচিং স্টাফের কেউ পজিটিভ হলে তাকে দুই সপ্তাহের আইসোলেশনে পাঠানো হবে, সেহেতু কভিড-বদলির প্রয়োজন নেই। 

    এসব প্রস্তাবের ব্যাপারে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান অনিল কুম্বলে বলেছেন, “আমরা অভুতপূর্ব এক সময়ে বাস করছি। কমিটির আজকের করা প্রস্তাব অন্তর্বর্তীকালিন সময়ে নিরাপদে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে, যে উপায়ে আমাদের খেলার ভাব সুরক্ষিত থাকে, এবং সংশ্লিষ্ট সকলে নিরাপদ থাকে।” 

    ক্রিকেট কমিটির এই প্রস্তাব জুনের শুরুর দিকে আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে, যে সভা থেকেই এসব নিয়ম কার্যকরের ঘোষণা আসতে পারে। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন