• অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ২০১৬
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    চাপেরও দায় দেখছেন মিরাজ

    চাপ। দুই অক্ষরের শব্দটার ‘ভার’ই কি নিতে পারলো না বাংলাদেশের যুবারা? কিন্তু চাপটা আসলে কীসের? ‘চ্যাম্পিয়ন’ হতে হবে এমন কোনো প্রত্যাশা, স্বাগতিক হওয়ার ‘সুবিধা’গুলো কাজে লাগাতে হবে এমন কোনো তাগাদা, নাকি মিরপুর দর্শকদের উপস্থিতি!

     

    সেমিফাইনালে মিরাজদের ওপর চাপ ছিল। সবকিছুর মিলিত চাপই, ‘আমরা তো সবাই বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেট খেলি। মুখে যতোই বলি চাপ নিব না, মাঠে কিন্তু চাপ ঠিকই থাকে। আজকের মতো এত  দর্শকের সামনে তো আমরা এর আগে খেলিনি। স্বাভাবিকভাবেই এ ম্যাচ জেতার জন্য একটা চাপ ছিল।’

     

    শুধু এমন চাপ নয়, মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে ব্যাটিং করারও একটা চাপ ছিল। এমন উইকেটে ২০ রানের মতো কম হয়ে গেছে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ যুবাদের অধিনায়ক, ‘আর ২০টা রান যদি হতো! আমার আর সাইফউদ্দিনের উইকেট যাওয়াতেই শেষ ৫ ওভারে রান কম এসেছে। আগে ব্যাটিং করে যদি ২৪০-২৫০ রান করি, তাহলে আমাদের বিপক্ষে খেলা যে কোনো দলের জন্যই কঠিন হয়ে যায়। তবে লক্ষ্য দিতে পারলাম ২২৭।’

     

     

    তবে চাপকে ছাপিয়েও মিরাজদের ছিল আত্মবিশ্বাস। ব্যাটিংয়ে শুরুতে বিপর্যয় বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের অমন ঝড়োগতির শুরু, সবকিছুর পরও মিরাজদের সে আত্মবিশ্বাস টিকে ছিল, ‘ম্যাচটা জিতবো, এমন বিশ্বাস শুরু থেকেই ছিল। যখন ওদের ১৬ বলে ১০ রান লাগতো, আর আমাদের লাগতো ৩ উইকেট, তখনও বিশ্বাস ছিল, আমরাই জিতবো। শেষ চারটা হওয়ার পরই আসলে উপলব্ধি হয়েছে, ম্যাচটা হেরেই গেছি!’

     

    মিরাজের এও উপলব্ধি হচ্ছে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর থেকে চাপটা কীভাবে সরিয়ে নিয়েছেন তাঁদের দুই ওপেনার, ‘এমন আক্রমণাত্মক খেলাটা ওদের কাজে দিয়েছে। আর আমাদের স্পিনারদের কেউই ভাল বোলিং করেনি। স্পিনাররা ভাল করলে এই রানও ওরা করতে পারতো না। আমাদের তুলনায় ওদের স্পিনাররাই অনেক ভাল করেছে।’

     

    অথচ এ ওয়েস্ট ইন্ডিজই বিশ্বকাপের আগে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশের কাছে। স্পিন বোলিং শুধু নয়, স্পিন বোলিং খেলাতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতিটা চোখে পড়ছে মিরাজের, ‘প্রথম যখন ওরা আসে, তখন স্পিন খেলতেই পারতো না। মানিয়ে নিতে ওদের অনেক সমস্যা হতো। এ টুর্নামেন্টে খেলেই অভ্যস্থতা বাড়িয়েছে। আমাদের সঙ্গে সিরিজে ওদের শুরুটা ভালো হতো না। তবে ওদের ব্যাটসম্যানরা এখন খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে। কন্ডিশনের সঙ্গে ওরা মানিয়ে নিয়েছে, কীভাবে খেলতে হবে বুঝে গেছে এখন।’

     

    মিরাজ মানছেন, এতদিন যে দল একসঙ্গে ছিল, এ পরাজয় মেনে নেওয়াটা একটু কঠিনই হবে তাঁদের জন্য। তবে সময় দিলে তাঁরাও কাটিয়ে উঠবেন সব, প্রত্যাশা এমনই, ‘এসব সামলে ওঠার মতো বয়স এখনও নয় আমাদের। তবে আমরা পরিস্থিতি দেখছি, বেড়ে উঠছি। দর্শকের সামনে খেলছি এখন। সামনে এমন সমস্যা হবে না আশা করা যায়।’

     

    তবে শুধু আশা নয়, মিরাজ টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্তিও খুঁজছেন, ‘এরকম চাপের পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, এ টুর্নামেন্ট আসলে সেসবই শেখায়। মানসিকভাবে শক্ত হওয়াটা শিখতে পারলে এসবই ভবিষ্যতে কাজে দেবে। এখন যেসব শিখছি সেগুলো  দুই-তিন বছর পর সাহায্য করবে অনেক। সাহায্য করবে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।’

     

    মিরাজ তো সেই ভবিষ্যতের কথাই বললেন, যার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ! চাপে ভেঙ্গে পড়ে এক ম্যাচ জিতে যদি ভবিষ্যতটা সুদৃঢ় হয়, তবে তো ‘চাপ’ই ভাল!  

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন