• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    দশ বছর পরও সুয়ারেজকে ক্ষমা করেননি আসামোয়াহ জিয়ানরা

    ২০১০ বিশ্বকাপ, 'ইটস টাইম ফর আফ্রিকা'। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের সেই সংস্করণে আফ্রিকার দলগুলোকে নিয়ে আশা ছিল অনেক। তবে লড়াই করেও গ্রুপ পর্ব পেরুতে পারেনি স্বাগতিকরা। ঘানা বাদে অন্য আফ্রিকান দলগুলোও দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। আফ্রিকার সব স্বপ্ন-আশা তখন ঘানাকে নিয়ে। আসামোয়াহ জিয়ানদের পায়ে ইতিহাস রচিত হবে, এমন আশায় বুক বেঁধেছিলেন তারা।

     


    ঘানাও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রমেই সেই স্বপ্নকে সত্যি করার পথে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিল। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সময়ে বিদায় করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় দেশটি। সেই পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ লুইস সুয়ারেজ-ডিয়েগো ফোরলানদের উরুগুয়ে। ম্যাচে দারুণ খেলেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার থেকেই ছিটকে পড়তে হয় আফ্রিকার 'কালো তারাদের'। তবে ২০১০ সালের আজকের এই দিনে সেবার বিশ্বকাপে ঘানার সমাপ্তিটা ছিল হৃদয়বিদারক। আর ঘানার সেই দুঃস্বপ্নের মূল কারিগর ছিলেন লুইস সুয়ারেজ।

    ম্যাচের প্রথমার্ধের একেবারে শেষের দিকে প্রথম গোল পেয়েছিল ঘানা। প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে সুলে মুন্তারির অবিশ্বাস্য শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন উরুগুয়ে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত বাঁকানো ফ্রি-কিক থেকে সে গোল শোধ করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন ফোরলান। এরপর দুই দল অনেক চেষ্টা করেও আর গোলমুখ উন্মুক্ত করতে পারেনি। তবে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ প্রান্তে উরুগুয়ের বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ঘানা। জন পান্টসিলই ফ্রি-কিক নেওয়ার পর গোল মুখে জটলা তৈরি হয়। সেই জটলা থেকে ঘানা অধিনায়ক স্টিভেন আপ্পিয়ার নেওয়া শট গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে দেন সুয়ারেজ। তবে এরপরই ডমিনিক আদিয়ার শট হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন এই উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। ঘানার নিশ্চিত গোল অবৈধভাবে ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।


    নিশ্চিত গোল মিস হলেও স্পট কিক থেকে জয়সূচক গোলটি করার সুযোগ পায় ঘানা। বিশ্বকাপে দলের আক্রমণভাগের সেরা পারফরমার আসামোয়াহ জিয়ানের ওপর বর্তায় ইতিহাস রচনার ভার। জিয়ান গোল করলেই যে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার কোনও দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখবে। সুয়ারেজ তখন জার্সিতে মুখ ঢেকে স্টেডিয়ামের টানেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তবে জিয়ানের পেনাল্টি দেখে যাওয়ার জন্য এক মুহূর্ত দাঁড়ালেন তিনি। ইতিহাস গড়ার বদলে কোটি আফ্রিকানের হৃদয় ভাঙলেন জিয়ান, তার ডান পায়ের শট ক্রসবারে আঘাত হেনে বাইরে বেরিয়ে যায়।


    এরপর অতিরিক্ত সময়ে দুই দলের কেউই আর গোল পায়নি। টাইব্রেকারে হেরে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ঘানা। সেই হ্যান্ডবলের পর জিয়ানের পেনাল্টি মিস দেখে সাইডলাইন থেকে উল্লাস করেছিলেন সুয়ারেজ, পরবর্তীতে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘ঈশ্বরের হাত’ এখন তার কাছে বলে ঘানাইয়ান ক্ষোভটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে অবৈধভাবে প্রতিপক্ষের গোল কেড়ে নিয়েও সুয়ারেজের মাঝে মোটেও অনুশোচনাবোধ না থাকার বিষয়টি আজও পীড়া দেয় ঘানার খেলোয়াড়দের। আর সেই ‘অপরাধে’র জন্য সুয়ারেজকে আজও ক্ষমা করেননি তারা।

    সেই বিশ্বকাপে ঘানার হয়ে খেলা পান্টসিল এখনও মানতে পারছেন না সেই ঘটনা, “আমরা প্রতারিত হয়েছিলাম। গোললাইন থেকে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে দেওয়া--- এটা গোল হওয়া উচিৎ ছিল।”

    আর তার সতীর্থ হান্স সেরপেইও অকপট হয়ে বললেন, “আমি তাকে ক্ষমা করতে পারব না। কারণ সেটা কোনও দুর্ঘটনা ছিল না। সে জানে সে কী করেছে। আমরা কাঁদছিলাম আর একজন লোক প্রতারণা করেও উল্লাস করছিল। এমন লোককে কীভাবে ক্ষমা করব? তাকে ক্ষমা করব না, কখনও না।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন