• ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বক্সিং ডে জমজমাট : কী, কেন, ২০২০-এ ক্রিকেটের আরও বিশেষ দিন

    ২০২০-- ক্রিকেটের অদ্ভুত বছর। এখন পর্যন্ত এ বছর মোট টেস্ট হয়েছে ১৯টি, ১৯৭৬ সালের পর এক বছরে এতো কম টেস্ট হয়নি আর। ২৬ ডিসেম্বর-- বক্সিং ডে-তে শুরু হচ্ছে আরও তিনটি টেস্ট। নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া-ভারতের সঙ্গে এদিনখেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কাও। তবে এ তিনটি টেস্ট মিলিয়েও ১৯৭৬ সালের এক বছরের টেস্টসংখ্যাকে ছোঁয়া হবে না ২০২০-এর। তাতে অবশ্য খুব একটা আপত্তি থাকার কথা নয়, বক্সিং ডে-তে যে তিনটি টেস্ট হচ্ছে, এ বছরের প্রেক্ষিতে তো এটিই আশাজাগানিয়া! 


    বক্সিং ডে কী? 

    সাধারণত বড়দিনের পরদিন-- ২৬ ডিসেম্বরকে বলা হয় বক্সিং ডে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ, এবং একসময়ের ব্রিটিশ কলোনি থাকা দেশ-- কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকায় উদযাপন হয় এই দিন। সাধারণ ছুটি থাকে সাধারণত এ দিনটিতে। 

    এমনিতে বড়দিনের পরদিন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গরীবদের সাহায্য করার একটা ধারা থেকেই বক্সিং ডে-র উৎপত্তি। ঠিক কী কারণে এ দিনটির নাম এমন, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও মনে করা হয়, এ দিন গরীবদের ‘গিফট বক্স’ দেওয়ার নিয়ম, সেখান থেকেই এমন নাম। 

    ক্রিকেটে বক্সিং ডে 

    ধর্মীয় রীতি পেরিয়ে বক্সিং ডে হয়ে উঠেছে খেলাধুলার একটা উৎসবে, এবং এই দিনটিকে খেলার উৎসবে পরিণত করার পেছনে শুরুর দিকেই থাকবে ক্রিকেট। বক্সিং ডে ক্রিকেটে আলাদা করে জায়গা নিয়েছে মূলত অস্ট্রেলিয়া থেকে। ১৮৯২ সাল থেকে শেফিল্ড শিল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া-- অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রতিবেশী রাজ্য মুখোমুখি হতো বক্সিং ডে-র ম্যাচে। বড়দিনকে ঘিরে প্রথম টেস্ট হয়েছিল ১৯৫০ সালে, তবে সেটি শুরু হয়েছিল ২২ ডিসেম্বর (২৪, ২৫ ডিসেম্বর ছিল রেস্ট ডে)। ১৯৬৮ সালে প্রথম এমসিজিতে বক্সিং ডে-তে শুরু হয়েছিল টেস্ট, অস্ট্রেলিয়া খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। এরপর ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালেও বক্সিং ডে-তে টেস্ট হলেও এটি নিয়মিত সূচিতে পরিণত হয়েছে ১৯৮০ সাল থেকে। 

    দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোটামুটি নিয়মিতভাবে ডারবানে বক্সিং ডে টেস্ট আয়োজন করেছে, তবে ২০১৮ সাল থেকে সেটি হচ্ছে সেঞ্চুরিয়নে। নিউজিল্যান্ডে সাধারণত এদিন ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি থাকলেও এ বছর সেখানেও হচ্ছে টেস্ট। 


    বক্সিং ডে টেস্ট স্পেশাল-- শেন ওয়ার্নের ৭০০তম উইকেট, এমসিজিতে


    বক্সিং ডে আর ‘জি’ 

    জি বা এমসিজি, ক্রিকেটের অন্যতম এই আইকনিক ভেন্যু বক্সিং ডে টেস্টে দেখেছে বিশেষ কিছু মুহুর্ত। ২০০৬ সালে বক্সিং ডে টেস্টেই ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন। ২০১০/১১ মৌসুমে বক্সিং ডে টেস্ট দিয়ে ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়া এসে অ্যাশেজ ফিরে পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সে টেস্টেই, বক্সিং ডে-তেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন পিটার সিডল। ১৯৯৪ সালে এই টেস্টেই ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক করেছিলেন ওয়ার্ন, ১৯৯৯ সালে অভিষেক হয়েছিল ব্রেট লির। ২০১৪ সালে বক্সিং ডে টেস্ট দিয়ে এই ফরম্যাটকে বিদায় বলেছিলেন এমএস ধোনি। 


    বক্সিং ডে ২০২০

    অস্ট্রেলিয়া-ভারত, এমসিজি

    এমসিজিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবার নামছে ভারত। ১৯৮৫ সালে প্রথমবার বক্সিং ডে টেস্ট খেলতে নামা ভারত সে ম্যাচ ড্র করলেও ২০১৪ সাল পর্যন্ত হেরেছিল টানা ৫টি। ২০১৮ সালে প্রথমবার বক্সিং ডে টেস্ট জিতেছিল তারা, যেবার প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বিরাট কোহলির দল। 

    ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ভারত যাচ্ছে অ্যাডিলেডের ৩৬ রানের স্মৃতি নিয়ে। নিয়মিত অধিনায়ক কোহলি খেলছেন না সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকবেন বলে। আজিঙ্কা রাহানের দলের মূল চ্যালেঞ্জ অবশ্যই ৩৬-এর দুঃস্মৃতি ভোলার সঙ্গে সিরিজে ফিরে আসার চেষ্টা করা, এজন্য বেশ কয়েকটি পরিবর্তনও এনেছে তারা দলে। রবি আশ্বিনের সঙ্গে রবীন্দ্র জাদেজাকে খেলাচ্ছে তারা, তিন পেসারের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়া একাদশ দেয়নি, তবে ভারতকে এখানেই পিষ্ট করার সুযোগটা ছাড়তে চাইবে না নিশ্চয়ই তারা। 


    বক্সিং ডে ২০২০


    নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান, মাউন্ট মঙ্গানুই 

    টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে সান্ত্বনার জয় পেয়েছিল পাকিস্তান, প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর। তারাও পাচ্ছে না তাদের নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজমকে, চোটের কারণে ছিটকে গেছেন তিনি। বাবরের বদলে অধিনায়কত্ব করবেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অবশ্য নিউজিল্যান্ড নামবে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্ট কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য মিস করার পর ফিরছেন কেন উইলিয়ামসনও। 

    ২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া দেশের মাটিতে আর কারও কাছে টেস্ট সিরিজ হারেনি নিউজিল্যান্ড। 


    দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কা, সেঞ্চুরিয়ন 

    বক্সিং ডে টেস্ট হবে মার্চের পর শ্রীলঙ্কার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর আন্তর্জাতিক সূচি ছাড়া থাকলো এখন পর্যন্ত আইসিসির দুটি পূর্ণ সদস্য-- বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। 

    প্রস্তুতি, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের চোট মিলিয়ে বেশ ব্যাকফুটে থাকার কথা শ্রীলঙ্কার, তবে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারানো বা অপেক্ষাকৃত শক্তিশালি পেস আক্রমণ চ্যালেঞ্জ করবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। 
    আর স্বাগতিকরা নামছে তাদের নতুন অধিনায়ক-- কুইন্টন ডি ককের নেতৃত্বে। 

    অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে দর্শক থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় অবশ্য বক্সিং ডে টেস্ট হবে দর্শকশূন্য মাঠেই।
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন