• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    রিয়ালকে হারিয়ে নয় বছর পর চেলসিকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন তুখেল

    রিয়ালকে হারিয়ে নয় বছর পর চেলসিকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন তুখেল    

    সেই ২০১২ সালে শিরোপাটা পেয়েছিল চেলসি। এরপর পেরিয়ে গেছে নয় বছর, কিন্তু ফাইনালে আর ওঠা হয়নি। কী আশ্চর্য, সেবার রবার্তো ডি মাত্তেওর মতো এবারও মৌসুমের মাঝপথে একজন দায়িত্ব নিয়ে চেলসিকে নিয়ে গেলেন স্বপ্নের ফাইনালে। থমাস তুখেলের মাস্টারক্লাসে স্টামফোর্ড ব্রিজে পাত্তাই পেল না রিয়াল মাদ্রিদ। ২-০ গোলে (দুই লেগ মিলে ৩-১) অ্যাগ্রিগেটে ফাইনালে উঠল চেলসি। অল ইংলিশ ফাইনালে ম্যান সিটির মুখোমুখি চেলসি, এক মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগ আবারও দেখল দুই ইংলিশ দলের ফাইনাল।

    আগের লেগে তাও কিছু পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল, খেলাও হয়েছিল জমজমাট। তবে এই লেগে চেলসির কাছে রিয়াল পাত্তাই পায়নি। এনগোলো কান্তে আরও একবার ছিলেন অবিশ্বাস্যরকম দুর্দান্ত, পুরো ম্যাচে রিয়ালকে একাই সন্ত্রস্ত করে রেখেছেন। জিনেদিন জিদান তাই প্রথমবার বিদায় নিয়েছেন সেমি থেকে, রোনালদোকে ছাড়া আরো একবার ব্যর্থ হলেন ট্রফি জিততে।

     

    অথচ এই ম্যাচের আগে টনিক পেয়েছিল রিয়াল। সার্জিও রামোস ফিরেছেন একাদশে, রিয়ালের জন্য সেটা ছিল বড় বুস্ট। একাদশটা অনুমিতই ছিল জিদানের, তবে ৩-৫-২ ফর্মেশনে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে উইংব্যাক হিসেবে খেলানোটা ছিল কিছুটা ফাটকা। প্রথমার্ধে অন্তত সেটা কাজে আসতে পারেনি, ভিনিসিয়াস সেভাবে সক্রিয় হতে পারেননি তার পজিশনে।

    শুরুটা অবশ্য ভালো করেছিল রিয়ালই। প্রথম ১০ মিনিটে বল পজেশন ছিল তাদের কাছেই, সেভাবে অবশ্য পরিষ্কার সুযোগ পাচ্ছিল না। এরপর চেলসি গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে। আন্তোনিও রুদিগারের শটটা ছিল তাদের প্রথম চেষ্টা। এরপর ম্যাসন মাউন্ট বাঁদিক দিয়ে ভেওত্রে ঢুকে একটা বিপদ ঘটাতে পারতেন, তবে কোর্তোয়া কোনো ভুল করেননি।

    এরপর বেনজেমা পেয়ে যান তার প্রথম সুযোগ। প্রথমার্ধে চেলসির তিন ম্যান ব্যাকলাইন তাকে সেভাবে বল ধরারই সুযোগ দিচ্ছিলেন না। তবে ২৭ মিনিটে বক্সের মাথায় বল পেয়ে যান বেনজেমা। টার্ন নিয়ে ডান পায়ে নেওয়া দারুণ শটটা ফার কর্নারের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু উড়ে গিয়ে বাঁ হাতে সেভ করেন এদুয়ার্দ মেন্ডি।

    এরপরেই গোলটা পেয়ে যায় চেলসি। আগের লেগের মতো এবারও প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলা এনগোলো কান্তে ছিলেন উৎস। দারুণ একটা টার্নের পর হ্যাভার্জের সাথে পাস বিনিময় করেন, এরপর হ্যাভার্জের দুর্দান্ত চিপ ফিরে আসে পোস্টে লেগে। আগে একবার অফসাইডের জন্য উদযাপন করতে পারেননি টিমো ভের্নার, এবার আর সেরকম হয়নি। ফাঁকা পোস্টে মাথা লাগয়ে বল জালে ঠেলে দিলেন। এই মৌসুমে কম মিস করেননি, তবে এটা করলে চেলসি সমর্থকেরা তাকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারতেন না।


    আরও পড়ুন: যে পাঁচ জায়গায় জিদানকে টেক্কা দিয়েছেন তুখেল


    রিয়ালের সামনে অবশ্য এমনিতেও গোল ছাড়া বিকল্প ছিল না। তবে চেলসির রক্ষণের জন্য তারা ভালো সুযোগ পাচ্ছিল না। এরপর দূর থেকে চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। বেনজেমা সুযোগ পেয়েছিলেন আরেকবার, কিন্তু মদ্রিচের ক্রস থেকে তার হেড এবারও বাঁচিয়ে দিয়েছেন মেন্ডি। এর মধ্যে রামোসসহ হলুদ কার্ড দেখার ঘটনা ঘটেছে কয়েকটি, তবে গোলের আর সুযোগ আসেনি। পুরো প্রথমার্ধে কান্তেকেই দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি, শেষ দিকে আরও একবার বিপদমুক্ত করেছেন দলকে।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভালো একটা সুযোগ পেয়ে যায় চেলসি। আজপিলিকুয়েরতার ক্রস থেকে দারুণ হেড করেছিলেন হ্যাভার্টজ, কিন্তু এবার সেটা আর ফিরে আসেনি, পোস্টে লেগে চলে যায় বাইরে। খানিক পর সেট পিস থেকে থিয়াগো সিলভাও হেড করেছিলেন, কিন্তু সেটাও একটুর জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। খেলাটা একটু পরেই পকেটে অনেকটা পুরে ফেলতে পারত চেলসি। দ্রুত আক্রমণের পর ভের্নারের দারুণ ফ্লিক থেকে দ্রুত দৌড়ে বল পান মাউন্ট, সামনে শুধু কোর্তোয়া। কিন্তু সহজ সুযোগ নষ্ট করে বাইরে মেরে দেন, তুখেল নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

    তবে এরপর যেটা মিস হলো, সেটা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। থ্রু বল থেকে ভের্নার আর হ্যাভার্টজ দুজনেই টু অন ওয়ান পেয়ে গিয়েছিলেন কোর্তোয়াকে, শট নিয়েছিলেন হ্যাভার্টজ। কিন্তু রিয়াল গোলরক্ষকের পায়ের ভেতর দিয়ে আটকে যায় তার শট, আরও একটা সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয় চেলসির। সুযোগ আবার আসে তাদের, এবার ওয়ান টু ওয়ানে পেয়ে যান কান্তে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে এবারও মিস করেন, এবার বলটা ক্লিয়ার করেন ভালভের্দে। খানিক পর আবার বথিয়াগো সিলভার হেড চলে যায় বাইরে। চেলসির পায়ে বল গেলেই এই অবস্থায় মনে হচ্ছিল রিয়ালের বিপদ হতে পারে। অন্যদিকে রিয়ালের মধ্যমাঠ আর আক্রমণ যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে যেন, কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না।

    শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত সেই গোলটা পেয়ে গেছে চেলসি। এবারও কান্তে দেখিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি সেরাদের একজন,। তার হাই প্রেসিংয়ে বল হারিয়েছে রিয়াল, সেখান থেকে পেয়েছিলেন পুলিসিচ। এবার তার ক্রস থেকে আর ভুল করেননি মাউন্ট, বল জালে জড়িয়েই হারিয়ে গেছেন সতীর্থদের উদযাপনে। শেষ পর্যন্ত সেটাই নিশ্চিত করেছে চেলসির জয়, শুন্য হাতেই মাদ্রিদে ফিরতে হয়েছে রিয়ালকে।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন