• আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫
  • " />

     

    মাইলফলকের দিনে পারবে তো বাংলাদেশ?

    মাইলফলকের দিনে পারবে তো বাংলাদেশ?    

    সময়টাই যেন ক্রিকেটময় এখন। অফিসে ক্রিকেট, ক্লাসরুমে ক্রিকেট, চায়ের কাপে ক্রিকেট, বাদ যাচ্ছে না এমনকি পরীক্ষার হলগুলোও। ঘোর ক্রিকেটবিমুখ ব্যক্তিকেও মুখ শুকনো করে পাশের লোকটিকে জিজ্ঞেস করতে দেখা যাচ্ছে, “বাংলাদেশ পারবে তো”? মূল লড়াই শুরুর আগেই শুরু হয়ে গেছে সাইবার যুদ্ধ। শুধু কথার যুদ্ধই তো নয়, অনেকে মেতেছেন হালের নতুন আমদানি ভিডিও তৈরির প্রতিযোগিতায়। আর এর সবকিছুই মেলবোর্নে কাল অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচকে ঘিরে।

     

     

    “২০০৭ এখানে কোন সাহায্য করবে না, কাজে লাগবে না ২০১১-তে হেরে যাওয়া ম্যাচটাও; সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নির্দিষ্ট দিনে আপনি কেমন করেন”; গত কিছুদিন ধরেই ২০০৭-এর বিশ্বকাপ, ১২-র এশিয়া কাপ, মার্চ মাস ইত্যাদি বিষয় টেনে এনে যারা ম্যাচের আগেই জিতিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশকে, তাঁদেরকে ক্রিকেট বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন অধিনায়ক নিজেই। প্রতিপক্ষ গেল বারের চ্যাম্পিয়ন, তার উপর এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল তারা। স্বভাবতই স্পষ্ট ফেবারিট ধোনির দলই। তবে ‘টিম টাইগার্স’ও যে ছেড়ে কথা বলবে না, খেলোয়াড়দের কথাবার্তা ও শরীরী ভাষাতেই বোঝা যাচ্ছে।

     

    ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের কাছ থেকে এ পর্যন্ত যেটা দেখা গেছে, সেটা বিস্ময়কর নয় মোটেও; এ আসরে যেটা সবচেয়ে অবাক করেছে, তা হল তাদের বোলিং, আরও নির্দিষ্ট করে বললে পেস আক্রমণ। চমৎকার লাইন এবং লেংথে বল করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ শামি, মোহিত শর্মারা। ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের ৬০ উইকেট তুলে নেওয়া দলটির সিংহভাগ উইকেটই গেছে পেসারদের ঝুলিতে। বাংলাদেশের জন্যে আশার কথা প্রথম চার ম্যাচে ভারতীয় বোলাররা চরম কিপ্টেমির পরিচয় দিলেও শেষ দুটো ম্যাচে ছিলেন যথেষ্ট খরুচে। অবশ্য মার খেলেও কালকের ম্যাচে তাদের বোলিং লাইনআপে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বললেই চলে। আর ভারতীয় দলের ব্যাটিং সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন, তাঁরা জানেন নিজের দিনে তাদের যেকোনো একজন ব্যাটসম্যানই নির্ণয় করে দিতে পারেন ম্যাচের গতিপথ। একমাত্র রোহিত শর্মা বাদে প্রত্যেক ব্যাটসম্যান ফর্মে আছেন, তবে হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা থেকে নিশ্চিতভাবেই বাদ পড়বেন না তিনিও।

     

    অন্যদিকে ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় যে নামটা থাকবে সবার উপরে, সেটা নিঃসন্দেহে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। গত দুটো ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন বলেই শুধু নয়, ম্যাচ দুটোতে যে অবস্থা থেকে টেনে উঠিয়েছেন দলকে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদুল্লাহর সাথে ব্যক্তিগত একটা প্রতিযোগিতায়ও নামতে পারেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। টুর্নামেন্টে তিনি যে এখন এগিয়ে আছেন তাদের সর্বাধিক রান সংগ্রাহক শিখর ধাওয়ানের চেয়েও। ফর্মে আছেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম, মিডল অর্ডারে অন্যেরাও খারাপ করছেন না খুব একটা। ব্যাটিংয়ে চিন্তার বড় জায়গা জুড়ে থাকবে উদ্বোধনী জুটি। চোট পেয়ে এনামুল ছিটকে যাবার পর তাঁর জায়গায় এসে দু’ম্যাচেই ব্যর্থ ইমরুল। তামিম একটা ম্যাচে ৯৫ করলেও বাকি ম্যাচগুলোতে ব্যর্থ তিনিও। অবশ্য প্রিয় প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে একটা ‘তামিমিয়’ ইনিংস চলেও আসতে পারে তাঁর ব্যাট থেকে। ‘ওপেনিং’-এ তাঁর সঙ্গী হিসেবে সৌম্যকে নামানোর ব্যাপারে অনেকে মত দিলেও সেই সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটা পরিবর্তনই সম্ভবত আসবে দলে, তাইজুলের জায়গায় আসবেন গত ম্যাচে বিশ্রামে থাকা মাশরাফি।

     

    গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মেলবোর্নের যে উইকেটে খেলা হয়েছিল বাংলাদেশের, ঠিক ঐ উইকেটটাই ব্যবহৃত হবে কালকের ম্যাচে। সে হিসেবে প্রচুর রান উঠবে, এটা ধরে নেয়াই যায়। স্পিনারদের জন্যে হয়তো কিছুই থাকবে না উইকেটে, ‘ব্রেক-থ্রু’ এনে দেয়ার কাজটা তাই করতে হবে পেসারদেরই। বাংলাদেশ কোচ হাথুরুসিংহে যদিও বৃষ্টি মাথায় রেখে কোন পরিকল্পনায় যেতে নারাজ, কাল বিকেলে মেলবোর্নের আকাশ কেঁদে ওঠার সম্ভাবনা কিন্তু আছে যথেষ্টই। আবহাওয়ার পূর্ভাবাস বলছে মেলবোর্নে কাল বিকেলে বা সন্ধ্যায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি নামতে পারে।

     

    ২০০৪ সালে ভারতের সঙ্গে ১০তম ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত মাশরাফি জিতিয়েছিলেন ওই ম্যাচ। তিন বছর পর ২০০তম ম্যাচে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এবারও এলো জয়। কাল ৩০০তম ম্যাচে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, এই মার্চে যাদের সঙ্গে কখনও হারেনি মাশরাফিরা। কাল কি মেলবোর্নে ইতিহাস ফিরে আসবে ?