• আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫
  • " />

     

    আলোচনার কেন্দ্রে ফাইনালের মাঠ

    বিশ্বকাপ ফাইনাল বলে কথা, মাঠের লড়াইয়ের আগে কথার লড়াই একদফা হওয়াটা যেমন স্বাভাবিক, দু’দলের ক্রিকেটারদের চেয়ে এ দ্বৈরথে সমর্থকদেরই বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করার ব্যাপারটাও তাই। অনুমিত ছক মেনে শুরুও হয়ে গেছে সেটা। ‘নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়া’-তে প্রকাশিত ম্যাথু হেইডেনের কলাম আরও ঘনীভূত করেছে লড়াই-পূর্ব উত্তেজনা। আর সাজ সাজ রব সমৃদ্ধ এ পরিবেশে তর্ক-বিতর্কের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) আকার।

     

     

    বাংলাদেশের দুটো ম্যাচ এখানে হওয়ার সুবাদে ‘এমসিজি ফ্যাক্টর’ সম্পর্কে এদেশের অধিকাংশ মানুষেরই ভালো ধারণা আছে। প্রায় লাখখানেক দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ স্টেডিয়ামের সীমানা দড়ি পার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় ব্যাটসম্যানকে। এ ব্যাপারটাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে লিখেছিলেন হেইডেন। আর টানা আটটি ম্যাচ নিজেদের ছোট স্টেডিয়ামগুলোতে খেলে হঠাৎ করে মেলবোর্নের বিশাল স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে বড় অসুবিধায় পড়বে কিউইরা, মোটামুটি এমনটাই ছিল সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ‘ওপেনার’-এর ভাষ্য। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন হেইডেনের ঐ কলামটা প্রকাশিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার আগে। এরপর থেকেই শুরু হয় নিউজিল্যান্ড সমর্থকদের প্রত্যুত্তর দেবার পর্ব। ‘এমসিজিসোবিগ’ নামক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তখন থেকে যথেচ্ছ কটূক্তি করা হচ্ছে হেইডেনকে।

     

    এ কথা ঠিক, পেশাদার একটি দল সবসময় সব পরিস্থিতিতে খেলবার জন্য প্রস্তুত করে নেয় নিজেদের। বড়-বড় ছক্কা হাঁকানোর সামর্থ্যও আছে বেশ ক’জন কিউই ব্যাটসম্যানের। তবে হুট করে বৈরী পরিবেশে এত বড় স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে কিছুটা হলেও সমস্যার মুখোমুখি যে ম্যাককালাম বাহিনী হবেন, অধিকাংশ ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এটা মনে করছেন। মহেন্দ্র সিং ধোনির কথাই ধরা যাক। মাঠের আকারই ফাইনালের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন ভারতীয় কাপ্তান। “নিউজিল্যান্ডে আপনি বেশ কিছু ‘মিসটাইমড শট’-এও পার(সীমানা) করে ফেলতে পারবেন। সাধারনত আমরা যা দেখেছি, এখানে খুব ভালো কিছু উইকেট পাবেন আপনি। কিন্তু যখন আপনি অস্ট্রেলিয়ায় আসবেন, দেখবেন রিভার্স সুইং পাচ্ছেন খানিকটা, একই সময়ে দুই রকম গতিসম্পন্ন উইকেটও পেয়ে যেতে পারেন।”

     

    অজি ‘ওপেনার‘ ফিঞ্চও অনেকটা এরকমই বলেছেন। নিজের হোম ভেন্যু বলেই হয়তো এমসিজিকে অন্য অনেকের চেয়ে ভালো চেনেন ফিঞ্চ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নাকি কিউইদের তাঁতিয়ে দেবার উদ্দেশ্যে কে জানে, এখানে এসে কেমন করে কিউইরা সেটা দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি; “এটা একটা বিশাল মাঠ, এবং আমার মনে হয় না বহু দিনের মধ্যে এখানে খেলেছে ওরা(নিউজিল্যান্ড), এখন কিভাবে এগোয় ওরা, এটা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হবে। প্রথমবার যখন এখানে খেলতে নামি, কিভাবে খেলব কোন ধারণাই ছিল না আমার। আমার মনে হচ্ছিলো সীমানা দড়ি পারই করতে পারব না আমি।”

     

    ব্ল্যাক ক্যাপদের পক্ষ থেকে টিম সাউদি অবশ্য এসে বলে গেছেন, মাঠের আকার কোন প্রভাবই ফেলবে না তাদের খেলায়। সব আকারের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। এখন মাঠের খেলায় শেষমেশ কোন জিনিসটা মূল প্রভাবক হয়ে দাঁড়ায় সেটা জানতে রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। ছবি-সৌজন্যঃগেটিইমেজেস

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন