• আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫
  • " />

     

    কে হবেন বিশ্বকাপের সেরা ?

    দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এলো ৪৫ দিনের ক্রিকেট-উৎসব। মাইকেল ক্লার্ক না ব্রেন্ডন ম্যাককালাম , কার হাতে ফাইনালের শিরোপা উঠবে সেটা কালই জানা যাবে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় কে হবে সেটা নিয়েও চলছে জল্পনা কল্পনা। কাল এমসিজির ফাইনালের পরেই জানা যাবে ভাগ্যবানের নাম।  


     

    কিন্তু কার হাতে উঠবে এই বরমাল্য? সবচেয়ে বেশি রান ও সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়াদের তালিকাটা দেখলে কয়েকটি নাম উঠে আসবেই। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি রান কুমার সাঙ্গাকারার, টানা চার সেঞ্চুরি করে অবিশ্বাস্য একটা কীর্তিও করেছেন।

     

     

    পুরস্কারটির জন্য শ্রীলঙ্কা ব্যাটসম্যান বড় একজন দাবিদার হতেই পারতেন। কিন্তু মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, সাঙ্গাকারার শ্রীলঙ্কা বিদায় নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সেমিফাইনালে যাননি এরকম কেউ ম্যান অব দ্য সিরিজ হননি। সেই হিসেবে সাঙ্গাকারার পরে মার্টিন গাপটিলের নাম চলেই আসবে।


     

    নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারার চেয়ে পিছিয়ে আছেন মাত্র নয় রানে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩২ রান তাঁর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন এক ম্যাচে (ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ২৩৭), তার আগে বাংলাদেশের সঙ্গেও করেছেন সেঞ্চুরি।

     

     

    কিন্তু আগে-পরে গাপটিল ঠিক সেভাবে ধারাবাহিক ছিলেন না। সিরিজসেরার পুরস্কার তাঁর হাতে যাবে কিনা সেটা নিয়ে তাই সংশয় থাকছেই।


     

    সেক্ষেত্রে তাঁর নিউজিল্যান্ড সতীর্থ ট্রেন্ট বোল্টের সম্ভাবনাই হয়তো একটু বেশি। ব্যাটসম্যানদের জন্য রানপ্রসবা বিশ্বকাপে বোল্ট অনেক ম্যাচেই ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুড়িয়ে দিয়েছেন, চার উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার ছেটে ফেলেছেন। সব মিলে ১৫.৭৬ গড়ে ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ২১ উইকেট।

     


     

    কেউ কেউ অবশ্য দাবি করতে পারেন, মিচেল স্টার্ক ছিলেন বোল্টের চেয়েও ভয়ংকর। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি উইকেটের দৌড়ে বোল্টের চেয়ে মাত্র এক উইকেট পিছিয়ে আছেন।

     

     

    তবে স্টার্কের গড় আরও ভালো (১০.২০), ম্যাচও খেলেছেন একটি কম। কাল দারুণ কিছু করে ফেললে পুরস্কারটা এই বাঁহাতি পেসার পেতেই পারেন।

     

     

     

    ব্যাটে-বলে এই তিনজনের বাইরে খুব বড় গলায় কেউ নিজেদের কথা বলতে পারছেন না। অলরাউন্ডারদের মধ্যেও নেই তেমন কেউ। ২৩১ রান করে ও ১৪ উইকেট নিয়ে কোরি অ্যান্ডারসন অবশ্য অলক্ষ্যে হয়তো এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে টুর্নামেন্টে সেই অর্থে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো কিছু করতে পারেননি। কাল যদি ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে পারেন, তাহলে হয়তো পুরস্কারটা জুটতে পারে তাঁরও।

     

     

    এই চারজনের বাইরে কেউ দাও মেরে ফেলার সম্ভাবনা কম। ব্যাটিংয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্স যেমন প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু করেছেন, কিন্তু সেটা হয়তো সেরার পুরস্কার এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না। শিখর ধাওয়ান ও তিলকরত্নে দিলশানরা ভালো করলেও সেরার পুরস্কার পাওয়ার মতো কিছুই নয়। মরনে মরকেল, মোহাম্মদ শামিরা বল হাতে আলো ছড়ালেও টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যায়।

     

     

     

    বিশ্বকাপের ইতিহাসের দিকে তাকালে অবশ্য বোলারদের ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়াটা একটু বিরল ঘটনাই। শুধু বোলারদের মধ্যে এই পুরস্কার জিতেছিলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। ২০০৭ সালের সেই বিশ্বকাপে  ম্যাকগ্রা ১১ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২৬ উইকেট। ২৩ উইকেট নিয়ে কাছাকাছি ছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন ও শন টেইট। মজার ব্যাপার, ম্যাকগ্রা পাঁচ উইকেট দূরে থাক, কোনো ম্যাচে চার উইকেটও পাননি। তবে দুর্দান্ত ধারাবাহিক ছিলেন প্রতি ম্যাচেই। ম্যাথু হেইডেনতিন সেঞ্চুরিসহ ৬৭৬ রান করলেও শেষ পর্যন্ত তাই ম্যাকগ্রাই হয়েছেন সিরিজসেরা।

     

     

    বিশ্বকাপের শুরুতে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার দেওয়ার চল ছিল না। প্রথমবারের মতো সেটি চালু হয় ১৯৯২ সালে, ফাইনালে না উঠেও সেটি পেয়েছিলেন মার্টিন ক্রো। ওই টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ড দুর্দম গতিতেই এগুচ্ছিল, কিন্তু সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে গিয়ে হেরে যায়। তবে ক্রো ছিলেন ব্যাট হাতে সবার চেয়ে উজ্জ্বল, ১১৪ গড়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ৪৫৬ রান করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড়ও ওই একবারই পেয়েছে বিশ্বকাপসেরার পুরস্কার।

     

     ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপসেরার তালিকায় অলরাউন্ডারদের জয়জয়কার। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে সনাৎ জয়াসুরিয়ার ম্যান অব দ্য সিরিজ হওয়াটা একটু চমকে দেওয়ার মতোই ছিল। ওই বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে জয়াসুরিয়া শীর্ষ দশেই ছিলেন না। ১৩৪ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২২১ রান, নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। অথচ ৫২৩ রান করেছিলেন টেন্ডুলকার, অনিল কুম্বলে নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। কিন্তু সেমিফাইনালসহ কয়েকটি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কারটি পান জয়াসুরিয়া। সেই সঙ্গে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে আলোড়ন তুলে দেওয়াটাও কাজে লেগেছিল বৈকি।

     

     

    জয়াসুরিয়া যোগ্য কিনা সেটা নিয়ে সংশয় থাকতে পারে, তবে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ল্যান্স ক্লুসনারেরটা নিয়ে বোধহয় কারোরই সংশয় ছিল না। কী বটে, কী বলে ক্লুসনার জ্বলেছেন উজ্জ্বল হয়ে। ১২২ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২৮১ রান, বল হাতে টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বচ্চ ১৭ উইকেট ছিল তাঁর। সেমিফাইনালে অমন পাগুলে দৌড় না দিলে কে জানে, বিশ্বকাপের ট্রফিতেও হয়তো চুমু খেতে পারতেন। বিশ্বকাপসেরার পুরস্কারটা ক্লুসনারকে তাই সান্তনাও দিতে পারেনি।

     

     

    ২০০৩ বিশ্বকাপে শচীন টেন্ডুলকার ব্যাট হাতে এমনই আলো ছড়িয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জেতার পরও ম্যাকগ্রাদের কেউ সিরিজ সেরার পুরস্কার পাননি। ওই টুর্নামেন্টে ১১ ম্যাচে ৬১.১ গড়ে টেন্ডুলকার করেছিলেন ৬৭৩ রান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে ব্যবধান ২০০ রানেরও বেশি! বোলিংয়ে ভাস, ম্যাকগ্রা, ব্রেট লিরা ছিলেন কাছাকাছি। পুরস্কারটা টেন্ডুলকারকে না দিয়ে উপায় ছিল না।

     

     

    এরপর ২০০৭ সালে ম্যাকগ্রার পর ২০০১ বিশ্বকাপে আবার অলরাউন্ডারের রাজত্ব। এবার দৃশ্যপটে যুবরাজ সিং। ওই বিশ্বকাপে ভারতের এই অলরাউন্ডার করেছিলেন ৩৬৩ রান, আর বল হাতে নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। দুই দিকেই কতটা দুর্দান্ত ছিলেন সেটা বোঝা যাবে একটা পরিসংখ্যান থেকে- ব্যাট হাতে যুবরাজের চেয়ে বেশি রান করেছিলেন ৭ জন, আর  বল হাতে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র পাঁচজন!

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন