• আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ
  • " />

     

    কৌরেই কুপোকাত অস্ট্রেলিয়া

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল, ডার্বি 
    ভারত ২৮১/৪, ৪২ ওভার(কৌর ১৭১*, রাজ ৩৬, শর্মা ২৫, গার্ডনের ১/৪৩, সুট ১/৬৪)
    অস্ট্রেলিয়া ২৪৫ অল-আউট, ৪০.১ ওভার(ব্ল্যাকওয়েল ৯০, ভিলানি ৭৫, পেরি ৩৮, শর্মা ৩/৫৯, পান্ডি ২/১৭)
    ফলঃ ভারত ৩৬ রানে জয়ী  


    মুম্বাই, ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়াম। অস্ট্রেলিয়ার উল্লাস হয়তো দূর থেকে শুধু চেয়ে চেয়েই দেখেছিলেন মিথালিরা। দেশের মাটির বিশ্বকাপে ফাইনাল তো দূরে, ভারতকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ৭ম হয়েই। ডার্বিতে সেই বিশ্ব-চ্যাম্পিয়ন অস্টেলিয়াকে একপাশে রেখেই আজ উল্লাসে মাতলো ভারত, ফাইনালে হোম অফ ক্রিকেট লর্ডসে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ তো তারাই! ম্যাগ লেনিংয়ের দলকে সেমিফাইনালে ৩৬ রানে হারিয়েছে মিথালি রাজের দল। 

    মিথালি রাজের দল হলেও, আজ যেন তা ছিল শুধুই হারমানপ্রিত কৌরের! বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হয়েছিল খেলা, নেমে এসেছিল ৪২ ওভারে। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ৩৫ রানের মাঝেই হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট, চাপে পড়ে তো বটেই। অধিনায়ক মিথালির সঙ্গে হারমানপ্রিত জুটি বাঁধেন, ৬৬ রানের জুটি ভাঙ্গে বিমসের বলে মিথালির বোল্ডে। ৫৯ বলে একসময় ৪০ রান ছিল কৌরের। বিমসকে ছয়ের পর চার মেরে করেন ফিফটি। জোনাসেনের এক ওভারে দুই চার, গিয়ার পরিবর্তন ততক্ষণে করে ফেলেছেন। তারই পরের ওভারে ছয়, চারে ১৫ রান। কৌর ছুটছেন, ওপাশ থেকে শুধু দেখছেন যেন দীপ্তি শর্মা। ৯৮ রানে দাঁড়িয়ে দুজনের মাঝে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি, তবে দুই রানের সময় দুইজনই দুই প্রান্তে পৌঁছালেন ঠিকঠাক। দীপ্তির ওপর একচোট নিয়েছেন কৌর, রাগে ক্ষোভে ছুঁড়েই ফেলেছিলেন ব্যাট-হেলমেট! কিন্তু সে রাগ-ক্ষোভের অন্যপ্রান্তে যে থাকবে অস্ট্রেলিয়া খানিক বাদেই, তা যদি তারা জানতেন! 

    গার্ডনেরের এক ওভারেই কৌর-দীপ্তি নিলেন ২৩ রান! দীপ্তির ভাগ তাতে শুধুই একটা সিঙ্গেল! যেমন দুজনের ১৩৭ রানের জুটিতে তার অবদান ২৫ রান! ৯০ বলে ১০০ রান করা হারমান শেষ পর্যন্ত থামলেন ১৭১ রানে, ১১৫ বলে। মানে শেষ ২৫ বলেই করেছেন ৭১ রান! ২০টা চার, ৭টা ছয়। ওয়ানডেতে মেয়েদের চতুর্থ সর্বোচ্চ ইনিংস, বিশ্বকাপেও তাই। বিশ্বকাপ নক-আউটে এটিই সর্বোচ্চ। ৪ উইকেটে ২৮১ রানে থামলো ভারত, কৌর ক্রিজে আসার সময় চাপে ছিল তারা, তার ইনিংসের পর সে চাপ বুমেরাং হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার দিকেই! 

    অস্ট্রেলিয়াকে করতে হতো রীতিমতো অসম্ভব কিছু। সেই অসম্ভবের পথে শুরুর ধাক্কাটাই হয়ে গেল বিশাল। ২১ রানে নেই ৩ উইকেট। ৪র্থ উইকেটে ভারতের রান ছিল ১৩৭, পাল্লা দিয়ে দুই এলিসঃ পেরি ও ভিলানি তুলতে পারলেন ১০৫ রান। ৫৮ বলে ১৩ চারে ৭৫ করে আউট ভিলানি, অস্ট্রেলিয়া তখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় মশগুল। পেরিও ফিরলেন, ফিরলেন অ্যালিসিয়া হিলি, অ্যাসলি গার্ডনের, জ্যাসি জোনাসেন, মেগান সুট। জয় থেকে তখনও ১১৩ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া। এরপরই অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল যেন হতে চাইলেন হারমানপ্রিত কৌর। দীপ্তির বলে বোল্ড হওয়ার আগে করলেন ৫৬ বলে ৯০, ১০ চার ও ৩ ছয়ে। শেষ উইকেটেই এলো ৭৬ রান, তাতে বিমসের অবদান ১১। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। ব্ল্যাকওয়েল হতে পারলেন না কৌর, ভারতকে লর্ডস যাওয়া থেকে আটকাতে পারলো না বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। 

    আজ যে শুধু ভারতের দিন। 
    আজ যে শুধু হারমানপ্রিত কৌরের দিন! 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন