• আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ
  • " />

     

    লর্ডসের 'থ্রিলারে' রাণী ইংল্যান্ডই

    ইংল্যান্ড ২২৮/৭, ৫০ ওভার (সিভার ৫১, টেইলর ৩৫, গোস্বামি ৩/২৩)  
    ভারত ২১৯ অল-আউট, ৪৮.৪ ওভার (রৌত ৮৬, কৌর ৫১, স্রাবসোল ৬/৪৬) 
    ফলঃ ইংল্যান্ড ৯ রানে জয়ী  

     


    কান্না অদ্ভুত জিনিস। কান্নার রঙ নেই। কখনও তা বেদনার রঙে রঙিন, কখনও আনন্দের। লন্ডনের আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টি মিশে গেল যেন সেই কান্নায়। ইংল্যান্ডের আনন্দাশ্রুতে, ভারতের বুকভাঙায়। হোম অফ ক্রিকেটে ভারতকে ৯ রানে হারিয়ে ক্রিকেটের রাণী বনে গেছে ইংল্যান্ড। চতুর্থবারের মতো জিতে গেছে বিশ্বকাপ। 

    ইংল্যান্ডের নতুন রাজত্বের যুদ্ধজয়ী সেনাপতি অধিনায়ক হেদার নাইট নন, নন নাটালি সিভার বা সারাহ টেইলর। সে রাণীর নাম অ্যানা স্রাবসোল। ৪৬ রানে ৬ উইকেটের ফিগারটাও যেন বোঝাতে অক্ষম, ইংল্যান্ডকে কিভাবে ফাইনালে ফিরিয়ে এনেছেন, কিভাবে টিকিয়ে রেখেছেন, কিভাবে পৌঁছে দিয়েছেন শিরোপার বন্দরে। 

    ২২৯ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল মিথালি রাজের দল। ৫ রানেই নেই ওপেনার স্মৃতি মানধানা, স্রাবসোলের অফস্টাম্প লাইনের বল খেলতে গিয়ে হয়েছেন বোল্ড। নিজের শেষ বিশ্বকাপ ইনিংসে যেন হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন রাজ, এক রান নিতে গিয়ে মাঝপথেই থমকে দাঁড়িয়ে হয়েছেন রান-আউট। ১৩ ওভারের আগেই ৪৩ রানে নেই ২ উইকেট, ফাইনালের জন্য চাপ বটে। 

    সে চাপ থেকে ভারতকে উদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেমিফাইনালের দানবীয় নায়ক হারমানপ্রিত কৌরের সঙ্গে পুনাম রৌত। সেমিফাইনালের মতো ধ্বংসাত্মক ইনিংস খেলতে না পারলেও কৌরের ৮০ বলে ৫১ রানের ইনিংসটার গুরুত্ব কম ছিল না। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল রৌতের ৮৬ রানের ইনিংস। তাকে এলবিডাব্লিউ করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন স্রাবসোলই, রিভিউ চেয়েও পাননি রৌত, দেরি করে ফেলেছিলেন বলে। 

    ইংল্যান্ড অবশ্য দেরি করেনি ভারতকে আরও চাপে ফেলতে। ভেরমা হার্টলির বলে বোল্ড হলেন, গোস্বামিকে বোল্ড করলেন স্রাবসোল। এর মাঝে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন কৃষ্ণামূর্তি। তবে ভারতের শেষ আশা হয়ে টিকে ছিলেন দীপ্তি শর্মা। স্রাবসোল তাকে বোনা বানালেন ৪৯তম ওভারে। 

    তবুও যেন টিকে ছিল ভারত। প্রথম বিশ্বকাপের আশাটা ঝুলছিল সুতোর ওপর। স্রাবসোলের বলে শর্ট এক্সট্রা কাভারে লোপ্পা ক্যাচ ফেলে দিলেন গান। গায়াকোয়াদ অবশ্য বোল্ড হলেন পরের বলেই। ইংল্যান্ডকে উল্লাসে ভাসিয়ে, ভারতকে হতাশায় ডুবিয়ে। 

    সেই গায়াকোয়াদই ধীর-শক্ত শুরু করা ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি ভেঙেছিলেন। উইনফিল্ডকে পায়ের পেছন দিয়ে বোল্ড করলেন। পুনামের ফুলটসে গোস্বামিকে ক্যাচ দিলেন বেউমন্ট। সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়লেন নাইট। 

    টেইলর-সিভারের ৮৩ রানের জুটি এরপরই। টেইলরকে নির্বিষ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ভারতকে ফিরিয়ে আনার শুরুটা করলেন গোস্বামি। পরের বলেই আউট উইলসন। গোস্বামির হ্যাটট্রিকটা হলো না, তবে এক ওভার বাদে আবার নিলেন উইকেট। ২৩ রানে ৩ উইকেট, নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে আর কিইবা চাইতে পারতেন তিনি বল হাতে! 

    ইংল্যান্ডকে এরপর বয়ে নিয়ে চলেছেন গান। ৭ম উইকেটে ব্রান্টের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি, ৮ম উইকেটে মার্শের সঙ্গেও তাই। সেই গানের পৃথিবীটা হয়তো অন্ধকার হয়ে এসেছিল ৪৯তম ওভারে ওই ক্যাচটা মিস করে। তবে সে অন্ধকার কাটিয়ে আলোয় ভরে উঠেছে পরের বলেই। 

    লর্ডসের মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নীচটাও যেমন ভরে উঠলো ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপের আলোয়!  
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন