• দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    মইন রোমাঞ্চের পর বিপাকে দক্ষিণ আফ্রিকা

    ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট, তৃতীয় দিনশেষে 
    ইংল্যান্ড ৩৬২ ও ২২৮/৮ (মইন ৬৭*, রুট ৪৯, অলিভিয়ার ৩/৩৮, রাবাদা ২/৩৭)
    দক্ষিণ আফ্রিকা ২২৬ অল-আউট 
    ইংল্যান্ড ৩৬০ রানে এগিয়ে 


    জনি বেইরস্টো ক্যাচটা নিলেন। আরও দুজন ইংলিশ ‘ফিল্ডার’ নিতে পারতেন, তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বেইরস্টো ক্যাচ নিলেন, এদিকে ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন মইন আলি! ৪৯ বলে যে তার ফিফটি হয়ে গেছে, বেইরস্টো ক্যাচটা নিয়েছেন ওল্ড ট্রাফোর্ডের ড্রেসিংরুমের সামনের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে! ফ্যাফ ডু প্লেসি হয়তো ভাবছিলেন, আহা, বেইরস্টো যদি আফ্রিকান হতেন! আহা, মইনের উইকেটটা যদি পেতেন! ওল্ড ট্রাফোর্ডে ডু প্লেসির দলকে তো একরকম ছিটকেই দিয়েছেন মইন। দিনশেষে তার অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসেই ইংল্যান্ড এগিয়ে ৩৬০ রানে। 

    সকালে আফ্রিকার লেজ মুড়িয়ে দিতে একটা উইকেট লাগতো ইংল্যান্ডের। ব্রড সে কাজটা করলেন, তাকে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে বেইরস্টোকে ক্যাচ দিয়েছিলেন অলিভিয়ার, ইংল্যান্ডকে আফ্রিকা দিয়েছিল ১৩৬ রানের লিড। 

    শুরুটা দারুণ হতে পারতো আফ্রিকার, এলগার জেনিংসের ক্যাচ ফেলে দিলেন শুরুতেই। এলগার পরে ছেড়েছেন মইনেরও ক্যাচ। আফ্রিকাকে অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করে রাখেননি ইংলিশ ওপেনাররা, কুক গালিতে মরকেলের বলে ডি ব্রুইনকে ক্যাচ দিয়েছেন ১০ রানে। সিরিজে দারুণ বোলিং করার পুরষ্কারটা যেন তৃতীয় টেস্টে আরেকবার পেলেন মরকেল। কুককে অনুসরণ করলেন তার কাউন্টি সতীর্থ টম ওয়েস্টলিও, একইভাবে ক্যাচ দিলেন গালিতে। 

    ৫৫ রানে লাঞ্চে যাওয়া ইংল্যান্ড লাঞ্চের পর ওই রানেই হারাল তৃতীয় উইকেট। ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে চলা জেনিংসের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল, আমলাকে প্রথম স্লিপে মুখের ওপর ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন রাবাদার বলে। মালান এলেন, ৩ রানে দাঁড়িয়ে ক্যাচ দিলেন, বাভুমা পেছন ফিরে নিতে পারলেন না সেটা। মহারাজকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে খেলতে গিয়ে ইনসাইড-এজ হলো, নতুন জীবনে ৩ রান যোগ করেই ফিরলেন মালান। 

    আরেকটা ফিফটির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন রুট। দারুণ সব ড্রাইভে সাজানো ইনিংসটা শেষ হয়ে গেল ৪৯ রানে, অলিভিয়ারের নীচু হওয়া বল তার ব্যাট চুমে ভেঙ্গে দিল স্টাম্প। স্টোকসকেও শীঘ্রই দ্বিতীয় শিকার বানালেন অলিভিয়ার, স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে। ২৭৪ রানের লিড নিয়ে চা-বিরতিতে গেল ইংল্যান্ড, ২২ বলে শূন্য করে অপরাজিত বেইরস্টো, মইনের রান ছিল ৩ বলে ৪। 

    বিরতির পর কাভার ড্রাইভে চার, বেইরস্টো রানের কলামে শূন্যের বদলে অন্য সংখ্যা বসালেন, কিন্তু হিসাবটা বেশিদূর নিয়ে যেতে পারলেন না। আবারও ঘাতক অলিভিয়ার। টবি রোলান্ড জোনস এলেন, মইনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেলেন। ১৫ রানে দাঁড়িয়ে মহারাজের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন মইন, এলগার ফেলে দিলেন সেটাও। রোলান্ড-জোনসের ক্যাচটা বাভুমার মতো করে মিস করেছিলেন ডু প্লেসি, মহারাজ অবশ্য পেছন ফিরেই নিলেন তার ক্যাচটা। 

    বৃষ্টি নামলো এরপর ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ইংল্যান্ডের জন্য মইন রোমাঞ্চ তার আগেই নেমেছে। আফ্রিকার জন্য যা নেমেছিল বিভীষিকা হয়ে।  
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন