• দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
  • " />

     

    মইনে চড়েই ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়

    ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট
    ইংল্যান্ড ৩৬২ ও ২৪৩ 
    দক্ষিণ আফ্রিকা ২২৬ ও ২০২ (আমলা ৮৩, মইন ৫/৬৯)
    ফল : ইংল্যান্ড ১৭৭ রানে জয়ী, সিরিজে জয়ী ৩-১ ব্যবধানে 


    মরনি মরকেল উড়িয়ে মারতে চেয়ে মিড-অফে ক্যাচ দিলেন জো রুটের হাতে। যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, বলটা তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ইংল্যান্ড গতকালকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিয়ে, মরকেলের আউট সেটা নামিয়ে আনলো এক উইকেটের দূরত্বে। 

    তারও আগে, হাশিম আমলা-ফ্যাফ ডু প্লেসির জুটিটা জমে উঠেছিল, ১২৩ রানের জুটিটা ভাঙলো মইনের ভেতরের দিকে ঢোকা এক বলে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের কঠিন কন্ডিশনে ততক্ষণে আমলা থিতু হয়ে গেছেন, ছন্দ পেয়েছেন। মইনকেই ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে ছয় মেরেছেন, তার আগে রোলান্ড-জোনসকে এক ওভারে মেরেছেন তিন চার। আমলা আড়াআড়ি খেলতে গেলেন, করে গেলেন মিস। কুমার ধর্মসেনা আউট দিলেন না, রিভিউ তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করলো। 

    হাশিম আমলা এ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, ৩২৯। মরনি মরকেল সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি, ১৯টি, সিরিজে আফ্রিকার সেরা ক্রিকেটারও। দুজনকেই ফেরালেন মইন, যিনি হলেন ম্যাচসেরা, যিনি হলেন সিরিজসেরা। আফ্রিকার দুই সেরাকে ছাপিয়ে গেলেন সহজেই! ওল্ড ট্রাফোর্ডে আফ্রিকাকে ১৭৭ রানে হারিয়ে বাসিল ডি’অলিভেইরা সিরিজ ৩-১ এ জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। 

    আগের দিন ৩৬০ রানের লিড ছিল ইংল্যান্ডের, ৩৭৯ তে গিয়েই থামতে হলো মরকেলের তোপে। ব্রড ক্যাচ দিলেন, অ্যান্ডারসনও তাই। ৩৮০ রানের লক্ষ্যে যে শুরুটা করার দরকার ছিল, আফ্রিকান ওপেনাররা তার ধারে কাছেও যেতে পারলেন না। উইকেটের ধাঁচ বুঝতে যেন ধন্দে পড়ে গিয়েছিলেন এলগার, ব্রডের বলে দিলেন পেছনে ক্যাচ। কুনও তাই, পার্থক্য শুধু বেয়ারস্টোর বদলে কুককে প্রথম স্লিপে ক্যাচটা দিলেন। বাভুমা এলেন, রোলান্ড-জোনসের বলে ঠেকাতে গিয়ে তিনিও ধরা খেলেন বেয়ারস্টোর হাতেই। নিজের প্রথম টেস্ট উইকেটের মতো রোলান্ড-জোনস এ উইকেট নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না, রুটের রিভিউয়ের কারণে সেবারও সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছিল ধর্মসেনাকে। 

    দক্ষিণ আফ্রিকা লাঞ্চে গেল ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে। লাঞ্চের পরই মইন এলেন, তবে ডু প্লেসি-আমলার জুটি ভাঙতেই যা সময়টা নিলেন। আমলার পর কুইন্টন ডি কক স্লিপে ক্যাচ দিলেন কুককে, নীচু হয়ে তিনি নিলেন দারুণভাবেই। ডি ব্রুইন তাকে অনুসরণই করলেন, ওই একই জায়গায় ক্যাচ দিলেন স্টোকসকে, তিনিও নিলেন নীচু হয়েই। ১৮২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে চা-বিরতিতে গেল আফ্রিকা। 

    আর এক রান যোগ করেই বিদায় আফ্রিকান অধিনায়ক, তার ৬১ রানের ইনিংস শেষ হলো অ্যান্ডারসনের সামান্য সুইংয়ে। তিনিও বাধ্য হলেন ক্যাচ দিতে। ইংল্যান্ডের জয় তখন সময়ের ব্যাপার। রাবাদাকে কাভারে ক্যাচ বানালেন অ্যান্ডারসনই। 

    তারপরই আবার মইন। মরকেলের পর অলিভিয়ার। ২০২ রানে শেষ আফ্রিকা। শেষ সিরিজও। 

    শুধু নতুন করে বোধহয় আরেকবার শুরু হলো অলরাউন্ডার মইন আলির পথচলা। ২৫২ রানের সঙ্গে ২৫ উইকেট তার সিরিজে, ৪ টেস্টের সিরিজে তা নেই আর কোনও অলরাউন্ডারেরই! 
     

    আরও পড়ুনঃ 

    ইংলিশ ক্রিকেটের অন্য দাড়িওয়ালা

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন