• ফুটবল

রুদ্ধ ন্যু ক্যাম্পে 'শুদ্ধ' কাতালুনিয়া

পোস্টটি ১৭০২৩ বার পঠিত হয়েছে

‘খেলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না’- কথাটা নিশ্চয় আপনার কাছে নতুন মনে হচ্ছে না?  অথচ যে কোনো খেলার ইতিহাসের শুরু থেকেই এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ভূ-রাজনৈতিক বহু ঘটনা। যে রীতি আজও চলে আসছে।

দু'দিন আগে বার্সেলোনা-লাস পালমাসের ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এমনই আরেক পরিস্থিতি। কাতালুনিয়ার শহরটাতে লাস পালমাসের তেমন সুখস্মৃতি নেই বললেই চলে। বরং ঐতিহাসিক কারণেই কাতালানরা মনে রাখেন লাস পালমাসকে। ১৯৭৬ সালে যখন প্রথমবারের মতো কাতালান ভাষায় রেডিওতে ম্যাচ প্রচার করা হয়েছিল কাতালুনিয়ায়, তখনও প্রতিপক্ষ ছিল এই লাস পালমাসই। ১৯৩৯-এ ফ্রাঙ্কোর কাছে ক্ষমতা হারানোর পর নির্বাসন থেকে ফিরে এসে প্রথমবারের মতো ১৯৭৭ সালে ন্যু ক্যাম্পে এসেছিলেন জোসেপ তারাদেয়াস। সাবেক কাতালান প্রেসিডেন্টের দেখা সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষও ছিল লাস পালমাস। ঠিক তার এক বছর পর এই লাস পালমাসকে হারিয়েই বহু বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছিল ইয়োহান ক্রুইফের বার্সেলোনা। এবারও স্বাধীনতার দাবিতে কাতালুনিয়ায় ভোটের দিন আরও একবার বার্সার প্রতিপক্ষ ছিল তারাই।

তবে এবার আর চুপ করে বসে থাকতে চাননি লাস পালমাস সমর্থকেরা। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্পেনের পতাকাখচিত টিশার্ট পরে মাঠে ঢোকার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাদের সে ইচ্ছে পূরণ হয়নি। খেলা হয়েছে ফাঁকা স্টেডিয়ামে।



ফাঁকা মাঠে খেলছে দুই দল!


গণভোটের দিনে হওয়ায় ম্যাচটা খেলতেই চায়নি বার্সা। দুপুর থেকেই কাতালুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গের আঁচ লেগেছিল ন্যু ক্যাম্পেও। আর স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর পুলিশের নির্যাতনের ফুটেজও ততোক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পৌঁছে গেছে পুরো  বিশ্বের কাছেই।  

রাজ্যের রাজধানী, সেখানকার মানুষ ক্লাবটাকে সমর্থন করে জাতীয় দলের মতো করেই। ক্লাব ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই এফসি বার্সেলোনা কাতালুনিয়ার স্বাধীন চেতনার প্রতীক। সবকিছু মিলিয়ে ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচটা সেদিন বাতিল হতেই বসেছিল।



খেলা শুরুর হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় সোয়া চারটায়। তার ঘন্টাখানেক আগেও বন্ধ স্টেডিয়ামের গেট, বাইরে প্রায় লাখ খানেক মানুষ। সোয়া তিনটার দিকে একে একে ন্যু ক্যাম্পের মিটিং রুমে প্রবেশ করেন বার্সার সভাপতি ও সহ-সভাপতিরা। ততোক্ষণে গুজব রটে গেছে, ম্যাচ বাতিল করেছে বার্সা!

সাড়ে তিনটা নাগাদ সবার আগে মাঠে নামেন জ্যাস্পার সিলেসেন। কিছুক্ষণ পর তাকে অনুসরণ করেন মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান! খেলা হবে কি না সেটা নিশ্চিত না তখনও। বার্সেলোনার দুইজন সভাপতিকে দেখা গেল ‘ডেমোক্রেসি’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ভেতরে ঢুকতে! নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগেও কেউ জানে না- খেলা হচ্ছে নাকি বাতিল হয়েছে। লাল-হলুদ স্ট্রাইপের ট্রেনিং কিট পরে মাঠে তখন অনুশীলন করছে পুরো বার্সেলোনা দলই। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরুর ২৪ মিনিট আগে আসল খবর, খেলা হচ্ছে, তবে বদ্ধ দুয়ারে। মানে গ্যালারিতে থাকতে পারবে না কেউই।

খেলা বাতিলের আবেদন আগেই করেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু সাড়া মেলেনি লিগ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। উলটো খেলা বাতিল করলে মোট ছয় পয়েন্ট কেটে নেয়ার হুমকিও ছিল লা লিগা সভাপতির। সবকিছু মিলিয়ে তাই একরকম বাধ্য হয়েই মাঠে নামে বার্সা। জেরার্ড পিকেও যেমন ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন লাস পালমাসের বিপক্ষে অনেকের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই খেলেছে তাদের দল। ম্যাচের আগে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বেশিরভাগ বার্সা সভাপতিই না খেলার বিরুদ্ধে মত দিয়েছিলেন। পরে দুজন পদত্যাগ পত্রও জমা দিয়েছেন। কিন্তু হোসে মারিয়া বার্তোমেউ নিয়েছেন কঠিন সিদ্ধান্তটাই। বার্সার সভাপতির পদে নির্বাচিত হওয়ার পর যেটিকে তিনি বলছেন তার নেয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। পয়েন্ট হারিয়ে পিছিয়ে যেতে চায়নি বার্সা।

                                                                 
একলাখ দর্শকের জায়গায় তাই খেলা হল সবমিলিয়ে মাত্র একশ জনের সামনে। প্রেস, দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি মিলিয়ে সংখ্যাটা হয়ত তার চেয়েও কম হবে। ট্রাকস্যুটের পরিবর্তে কাতালান পতাকার রঙের ট্রেনিং কিট পরেই ম্যাচের আগের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন বার্সা খেলোয়াড়রা। রেফারির কিক অফের বাঁশির শব্দ ফাঁকা গ্যালারিতে শোনাল বিউগলের করুণ সুরের মতো। কিন্তু গ্যালারির উপর বড় করে লেখা ‘মেস কিউ উন ক্লাব’ লেখাটা দেখা গেল ঠিকই।

 

গত প্রায় আট বছর ধরে ন্যু ক্যাম্পের সব ম্যাচে ১৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে এক সঙ্গে তালি বাজান বার্সা সমর্থকেরা। পুরো এক মিনিট ধরে চলে সেই উল্লাস। উৎসবের মতো মনে হলেও এই চাপা আওয়াজটা স্বাধীনতার দাবিতে পরাধীনতার শেকল ভাঙ্গার, প্রবল আকাঙ্ক্ষার। এবার ব্যতিক্রম। শুনশান মাঠে শোনা গেল, ‘মেসি, মেসি, এদিকে’। চোখ বন্ধ করেও যেন খেলা দেখা যায় এখানে, খেলোয়াড়দের গলার স্বর শুনেই।       
 

ম্যাচের আগেই বিবৃতি দিয়েছিল বার্সেলোনা, স্প্যানিশ সরকার গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করার পরপরই। যে শহরকে ঘিরে ক্লাবের বেড়ে ওঠা, সেখানকার মানুষের দাবি তো এফসি বার্সেলোনারও দাবি। একটা ক্লাব যেন নয় শুধু, গোটা দেশটাই বার্সেলোনা। ভোট দেয়ার গণতান্ত্রিক অধিকারে কাতালুনিয়ার মানুষের পাশেই থাকবে বার্সা- এমন বিবৃতি জোর বাড়িয়েছে লাখ লাখ কাতালানের বুকে।    

ক্লাবের চেয়েও বেশি কিছু- কাতালান ভাষায় বার্সার স্লোগানের বাংলা অর্থ দাঁড়ায় এমনই। আসলেও তো ক্লাবের চেয়েও বেশি কিছু! একটা রাজ্যের স্বাধীনতা আর ফুটবল এমন করে একে অন্যের প্রতিশব্দ হয়ে আছে আর কোথায়? 

 

সার্জিও বুস্কেটসকে নিজের গোল উৎসবে মাততে দেখা যায় কালেভদ্রে। লাস পালমাসের বিপক্ষে গোল করে সেই উদযাপনটাও মাটি হয়ে গেছে তার। উদযাপনের অনুষঙ্গই তো নেই। প্রায় প্রতি সপ্তাহে গোল করা লিওনেল মেসিও পরে পেয়েছেন একই অনুভূতি। ম্যাচশেষে জেরার্ড পিকে যেমনটা বলেছেন- পেশাদার ক্যারিয়ারে এর চেয়ে বাজে মুহুর্ত আসেনি তার জন্য। অথচ সকালে ভোট দিতে গিয়েছিলেন তিনিও। বিকেল গড়াতেই জার্সি পরে নেমে যেতে হয়েছে। মাঝের সময়টায় নিজের মানুষের ওপর অত্যাচার আর পুলিশের ভোট দানে বাঁধা দেয়ার খবরে আতঙ্কিত হয়েছেন। মাঠে নামলে নাকি দর্শকদের কথাও মাথায় রাখেন না পিকে।  সেদিন মাঠে ছিলেন না কেউই। তবুও কি পেরেছিলেন সব ভুলে মাঠের খেলায় মনোযোগ দিতে?

ম্যাচ শেষে বোধ হয় সেই আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশই ঝরেছে পিকের চোখ দিয়ে। কান্নাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন এতোকিছুর পর যদি স্পেন জাতীয় দল তাকে না চায়, নিজেই থেকেই সরে যাবেন তিনি। এমনিতেই বহুদিন ধরে নিজের দেশের মানুষের কাছে দুয়ো শুনে আসা পিকের ধৈর্য্যের বাধটা ভেঙ্গেছে সেদিনই। স্বাধীনতার কাছে বাকিসব নস্যি!

 

পিকে এখন স্পেনের ক্যাম্পে। বাকি সব স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সাথে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। স্পেন জাতীয় দলে পিকের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা এখনই বলা মুশকিল। যেমনটা ঝুলে আছে বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ! গণভোটে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে স্পেন থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে। স্প্যানিশ সরকার অবশ্য বরাবরই অবৈধ দাবি করে আসছে ভোটের আয়োজনকে। কিন্তু গত কয়দিনের ঘটনা প্রবাহ স্বস্তি যোগাতে পারছে না ‘এক স্পেন’ চাওয়া সমর্থকদেরও। কাতালানদের গণদাবি আর স্পেন সরকারের মনোভাবের মধ্যে যেন দুই মেরুর পার্থক্য। কূটনৈতিক সমাধান না হলে হয়ত পালটে যাবে স্পেনের চিত্রটাই। স্পেনের রাজা ফিলিপে এরই মধ্যে গণভোটকে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলনটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে কাতালুনিয়ায়। আজও অবরোধ চলছে, রাস্তা আটকে আন্দোলন করছে কয়েক লাখ মানুষ।    
 



গণতন্ত্র! ন্যু ক্যাম্পের জায়ান্ট স্ক্রিন থেকেও বার্তা পাঠানোর চেষ্টা
 

 

১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্রাঙ্কোর অধীনে বার্সেলোনা হারিয়েছিল নিজেদের ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি চর্চার অধিকারটাও। ১৯৭৫ এ স্বৈরশাসক ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সেই অধিকার ফিরে পায় বার্সেলোনা। এরপর অবশ্য ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণেই ২০০৯ সালে নতুন দাবিতে সোচ্চার হয় কাতালুনিয়াবাসী। ‘স্বাধীনতা’ শব্দটা শোনা গিয়েছিল তখনই।

বার্সেলোনার সভাপতিরা অবশ্য কখনই নিজেদের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দিতে চাননা। ক্লাবকেও বরাবর রাজনীতির কৌশলের বাইরে রাখেন তারা। তবে গণভোটকে স্পেন ‘বেআইনি’ ঘোষণার পর কাতালান রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে একটা বিবৃতিই দিয়ে বসে বার্সা। নিজের রাজ্যের লোকেদের ভোটদানের ক্ষমতা আর মত প্রকাশের অধিকারের দাবি জানিয়ে দেয়া সেই বিবৃতিকে কোনোভাবেই অরাজনৈতিক বলা চলে না! এর আগে ২০১৪ সালে কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছিল বার্সা।

কাতালুনিয়া স্পেনের ধনী রাজ্যগুলোর একটি। স্পেনের রাজস্বের সবচেয়ে বেশি ১৯ শতাংশ আসে এই রাজ্য থেকে। অথচ তার খুব কম অংশই কাতালুনিয়ার উন্নয়নে ব্যয় হয় বলে তাদের ক্ষোভটা বহুদিনের। শিল্প, সংস্কৃতি, ভাষা সবকিছুতেই নিজস্বতা  রয়েছে কাতালানদের।  আলাদা দেশ হিসেবে কাতালানদের খুব বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলেই মনে করেন তারা। কিন্তু কাতালুনিয়ার সাথে তো জড়িয়ে আছে ফুটবলও। আরও স্পষ্ট করে বলতে হয়, এফসি বার্সেলোনা। সত্যিই যদি আলাদা হয়ে যায় কাতালুনিয়া তাহলে কোথায় খেলবে বার্সেলোনা?


মোনাকো যেমন স্বাধীন হয়েও ফ্রান্সের লিগ ওয়ান খেলে- বার্সাও তেমন লা লিগার দল হিসেবেই চালিয়ে যেতে পারে তাদের যাত্রাটা। তবে সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বার্সা ও এলএফপির ওপর। আর স্পেন থেকে আলাদা হয়ে গেলে সেই সম্পর্কটা যে মধুরভাবে শেষ হবেনা সেটা তো আঁচ করাই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে লা লিগায় বার্সার দেখা নাও মিলতে পারে!

বার্সা সভাপতি নিজেই অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন এমনটা। এর আগে লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও বলেছেন একই কথা। যদিও বার্সেলোনা ছাড়া স্প্যানিশ ফুটবল কল্পনাও করতে চান না তিনি। কিন্তু আলাদা হয়ে গেলে একই সঙ্গে ফুটবল খেলার ব্যাপারটা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি দুজনের কেউই। তাই এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বার্সার জন্য নতুন ঠিকানা খোঁজা! এর পুরোটাই অবশ্য তাত্ত্বিক। ২০১৫ সালে প্রথম দফার গণভোটের সময়ও একই খবরে সরগরম হয়েছিল ইউরোপিয়ান ফুবটল। কোথায় খেলবে বার্সা? ফ্রান্সের তখনকার প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল ভালস লিগ ওয়ানে খেলার আমন্ত্রণটা জানিয়ে রেখেছিলেন সেবারই। কিন্তু এরপর রাজনীতির পটপরিবর্তন হয়েছে ফ্রান্সেও। সম্ভাব্য তালিকায় তবুও ফ্রান্সই বাকি দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে। কয়েকদিন আগে শোনা গিয়েছিল ইংল্যান্ডের নামও। সোয়ানসি সিটি ওয়েলসের দল হয়েও খেলে প্রিমিয়ার লিগে, বার্সা কেন নয়? বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাবকে নিজেদের লিগে কে না চাইবে? কিন্তু তাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেক! বাকি দলগুলোর মতের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারবে না সে দেশের লিগ। আর শেষ পর্যন্ত এমনটা হলেও বাগড়া দিতে পারে ইউয়েফা, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপা লিগে খেলার ব্যাপারে। 

শুধুমাত্র বার্সা নয়, লা লিগায় কাতালুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে এস্পানিওলও। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে জিরোনা। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্তরের ফুটবল লিগের ক্লাবও রয়েছে। চাইলেই শুধুমাত্র বার্সাকে খেলতে দেয়ার সুযোগটা তাই থাকছে না। বার্সার ব্যাপারে রাজি করানো গেলেও, ব্যবসায়িক দিক থেকে এস্পানিওল, জিরোনার মতো দলের ব্যাপারে সেইসব দেশের লিগগুলোর  সবুজ সংকেত দেয়ার সুযোগ কমই। কাতালুনিয়া অবশ্য চাইলেই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেরাই ফুটবল লিগ খুলে বসতে পারে। তবে সেই লিগের মানদন্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকারই কথা! তখন ইউয়েফাও লিগ জয়ীকে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার ছাড়পত্র দিতে পারবে না, নিজেদের নিয়মের বাধ্যবাধকতার কারণেই।    

এসব জটিলতা এড়াতে আর ফুটবল অবকাঠামো ঠিক রাখতে সবকিছুর পরও স্প্যানিশ ফুটবলের সাথেই থেকে যাওয়াই বোধ হয় বাস্তবসম্মত বার্সার জন্য। আর তাতে স্প্যানিশ ফুটবলের স্বার্থও রক্ষা হবে!

বার্সার সামনে জটিলতা এড়ানোর সুযোগ খোলা থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে স্পেন দলকে পড়তে হতে পারে খেলোয়াড় সঙ্কটে। কাতালুনিয়া জাতীয়তার ভিত্তিতে সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলে বুস্কেটস, ফ্যাব্রিগাস, পিকেরা আর খেলতে পারবেন না স্পেনের হয়ে। এখনকার কাতালুনিয়ার আন অফিসিয়াল ফুটবল দলটাই বিশ্ব দরবারে তখন প্রতিনিধিত্ব করবে নতুন এক জাতি সত্ত্বার। 



[ দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সিড লোয়ের Barcelona in the strange and symbolic eye of a storm over Catalonia অবলম্বনে]