• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    শেষের শিহরণে সিলেটের জয়

    বিপিএল, ম্যাচ ৩, সিলেট 
    ভিক্টোরিয়ানস ১৪৫/৬, ২০ ওভার (স্যামুয়েলস ৬০, কাপালি ২৬, লিটন ২১, তাইজুল ২/২২, সানটোকি ২/৩০) 
    সিক্সারস ১৪৮/৬, ১৯.৫ ওভার (থারাঙ্গা ৫১, ফ্লেচার ৩৬, নাসির ১৮, ব্রাভো ২/৩৪, রশিদ ১/১৮)  

    ফল ঃ সিক্সারস ৪ উইকেটে জয়ী


     শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০। ডোয়াইন ব্রাভোর প্রথম বলেই শুভাগত হোম বোল্ড। হাতের নাগালে থাকা ম্যাচটা যেন আরেকটু ফসকে গেল সিলেটের কাছ থেকে। নুরুল হাসান এলেন, ব্রাভোকে মারলেন লং-অন দিয়ে ছয়। তার উল্লাসটাই বলে দিচ্ছিল, হাঁসফাঁস করতে থাকা সিলেটকে কতোখানি অক্সিজেন এনে দিয়েছেন তিনি। এরপর থার্ডম্যন দিয়ে চার মেরে তিনিই মাতলেন বুনো উল্লাসে, আনন্দের আতিশয্যে মাঠে ঢুকে গেলেন সিলেটের পুরো স্কোয়াড। প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে প্রথম দুই ম্যাচে সিলেট সিক্সারস জিতলো গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে! 

     

     

    অথচ ১৪তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল সিলেটের হাতে। শেষ ৬ ওভারে দরকার ছিল ৪৪, হাতে ছিল ৭টি উইকেট! রশীদ খানের ঝলক শুরু তখনোই, ১৫তম ওভারে তিনি দিলেন ২ রান। ১৭তম ওভারে এসে ৩ রান দিয়ে পেলেন নাসিরের উইকেটও। 

    ব্রাভোর পরের ওভারে দুইটি ক্যাচ মিস না হলে অবশ্য দৃশ্যটা হতে পারতো ভিন্ন। ১৪তম ওভারে প্রথম বোলিং করতে এসে ২ ওভারে ২২ রানের স্যামুয়েলসের স্পেলটাও বিপক্ষে গেছে কুমিল্লার। 

     

    কুমিল্লার বোলিংয়ে বড় নাম যদি হয় একজন স্পিনার, সিলেটের তবে দুইজন। দুই স্পিনার ৮ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান, তিন পেসার মিলে ১২ ওভারে ১০২ রান। শুভাগত হোম বা সাব্বির রহমান কেন বোলিংয়ে আসেননি, সেটা একটা রহস্য। শুকনো আর ধীরগতির উইকেটে টার্ন না থাকলেও কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই। 

    ইনিংস বড় করার সুযোগ ছিল লিটনের সামনে, তাইজুলকে তেঁড়েফুঁড়ে মারতে এসে হয়েছেন স্টাম্পড। ইমরুল কী শট খেলেছেন, সেটার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন তিনিই সবচেয়ে ভাল। পাওয়ারপ্লের মাঝেই আউট হয়েছেন ভিক্টোরিয়ানসের দুই ওপেনার। 

     

     

     

    গিয়ার বদলানোর চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছিল কুমিল্লার, উলটো জস বাটলারের বড় উইকেটটি হারিয়ে পড়েছে চাপে। সেখান থেকে তাদেরকে টেনে তুলেছেন অলক কাপালি ও মারলন স্যামুয়েলস। নীচু হয়ে ক্রিশমার সান্টোকিকে আড়াআড়ি ব্যাটে অসাধারণ টাইমিংয়ে দুইটি ছয় মেরেছেন কাপালি, সিলেটের ছেলে তাদের বিপক্ষে খেলে যেন আফসোসটা বাড়িয়েছেন শুধু স্বাগতিক দর্শকদের। 

    ওই সান্টোকির বলেই মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন, এবার আবার ব্যাটে যথেষ্ট শক্তি সঞ্চার করতে পারেননি। নিজেকে ডোয়াইন ব্রাভোর আগে এনে সুবিধা করতে পারেননি কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নবী, আরেক প্রান্ত থেকে যা খেলেছেন স্যামুয়েলসই। আউট হওয়ার আগে তিন ওভারে মেরেছেন তিন ছয়, শেষ ওভারে প্লাঙ্কেটকে ছয় মেরেও স্কোরটা ১৫০ পর্যন্ত নিতে পারেননি ব্রাভো। 

    ১৪৫ রানের পুঁজি নিয়ে শুরুটাও ঠিক যুতসই হয়নি কুমিল্লার। বাঁহাতি অর্থোডক্স, অফস্পিন, মিডিয়াম পেস, লেগস্পিন। ভিক্টোরিয়ানসের বোলিংয়ে বৈচিত্র আছে, প্রথম ছয় ওভারেই এলেন চার রকমের বোলার। তবে চারজন পেলেন দুই সিক্সারস ওপেনারের কাছ থেকে একই ব্যবস্থাপত্র, ৩০ গজের বৃত্ত পার করে বাউন্ডারি। সানি দিলেন ১ ওভারে ১০, নবী ২ ওভারে ১৬, আল-আমিন ২ ওভারে ২১, রশীদ ১ ওভারে ১২। সিলেট পাওয়ারপ্লেতে তুললো ৫৯ রান। 

    নবম ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পেলো কুমিল্লা, চারের পর ছয় মারতে গিয়ে লং-অফে ব্রাভোর বলে ক্যাচ দিলেন ফ্লেচার। সিলেটের ওপেনিং জুটি এবার ৭৩ রানের। সাব্বির থিতুই হতে পারলেন না, আম্পায়ারের দেয়া এলবিডাব্লিউর সিদ্ধান্তটা বিস্ময়ই জাগালো শুধু। তখনও সে সিদ্ধান্তকে এতোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি, যেটা হয়েছে শেষ ছয় ওভারে গিয়ে। ফিফটির পর নিজেদের দোষে রান-আউট হলেন থারাঙ্গা, ১৪তম ওভারের শেষ বলে। এরপরই শেষ ছয় ওভারের গল্পটা শুরু। 

    যে গল্পের শেষ নায়কের নাম নুরুল। আর যে গল্পে বড় ঘটনা শেষ ওভারে একটা ছয়। 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন