• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    আফ্রিদিরা মাটিতে নামিয়ে আনলেন সিলেটকে

    সিলেট সিক্সারস ২০ ওভারে ১০১/৯ (আবুল হাসান ৩০*, তাইজুল ১৬*; আফ্রিদি ৪/১২, নারাইন ৩/১০)

    ঢাকা ডায়নামাইটস ৭.৫ ওভারে ১০৬/২ (লুইস ৪৪*, আফ্রিদি ৩৭, সাকিব ১৮*;  ব্রেসনান ২/২০)

    ফলঃ ঢাকা ৮ উইকেটে জয়ী


    দুই দিন আগে পা রেখেছেন ঢাকায়। সিলেট পর্বে খেলা হয়নি, ঢাকায় প্রথম ম্যাচে নেমেই দিনটা করে নিলেন নিজের। বল হাতে চার উইকেট নিয়েই ম্যাচের ফলটা প্রায় দূর করে ফেলেছিলেন। সেটি নিয়ে অনিশ্চয়তা যদি কিছু থেকেও থাকে, ওপেনিংয়ে নেমে সেটিও মুছে দিয়েছেন। রাত নয়টা বাজার আগেই মিরপুরের গ্যালারি প্রায় শুনশান। খেলা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই যে ঢাকা পেয়ে গেছে অনায়াস এক জয়। নিজেদের মাটিতে প্রথম তিন ম্যাচ জিতে উড়ছিল সিলেট, খুলনার পর এবার ঢাকায় এসে যেন তারা নেমে এলো মাটিতে।

     

     

    সেই কাজটা শুরু থেকেই অনেকটা নিশ্চিত করে দিয়েছেন আফ্রিদি। আগের ম্যাচ থেকেই শিক্ষা নিয়েই হয়তো, টসে জেতার পর বল নিতে ভাবেননি সাকিব আল হাসান। তবে শুরুটা আফ্রিদির নয়, এনে দিয়েছেন আবু হায়দার রনি। আন্দ্রে ফ্লেচারকে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আজ নামায়নি সিলেট। তবে উপুল থারাঙ্গাও সিলেট পর্বে ছিলেন দুর্দান্ত, আজ দ্বিতীয় ওভারেই রনি ফিরিয়ে দিলেন সেই থারাঙ্গাকে।

     

     

    তিনে নামা সাব্বির রহমানএবারের বিপিএলের শুরু থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন। আজও যেন নিজের ছায়াই, পাঁচ বলে ১ রান করে ধুঁকতে ধুঁকতে ক্যাচ দিলেন নারাইনের বলে। ৯ বলে ১৫ রান করে গুনাতিলাকা একটু আশা দেখাচ্ছিলেন, কিন্তু এক ওভার পর তিনিও ক্যাচ দিলেন রনির বলে। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সিলেট তখন কাঁপছে।

    সেই কাঁপাকাঁপি থেকে একটু পর মূর্ছাই গেল প্রায়। হোয়াটলিকে ফিরিয়ে দিলেন নারাইন, এক ওভার পর নাসিরকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট নিলেন আফ্রিদি। ৫ উইকেট হারিয়ে সিলেটের রান তখন ৩৩। এরপর সেটা হয়ে গেল ৬ উইকেটে ৪৯, খানিক পর ৯ উইকেটে ৫৩। এর মধ্যে আফ্রিদি একাই নিলেন তিন উইকেট, সবশুদ্ধ উইকেট হয়ে গেল চারটি।

    এর পরেই যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠল সিলেট। আবুল হাসান রাজু ও তাইজুল ইসলাম ১৩তম ওভারে সেই জুটি বাঁধলেন, পুরো ইনিংস শেষেও তা বিচ্ছিন্ন হলো না। সিলেট অবিশ্বাস্যভাবে ১০০ও পেরিয়ে গেছে, তাইজুল-রাজুর ৪৮ রানের জুটি বিপিএলের শেষ উইকেটের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও লিখিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই।

     

     

     

     

    কিন্তু সেই রানটাও যে একেবারেই মামুলি হয়ে যাবে, সেটা বোঝা গেল একটু পর। ব্রেসনানের প্রথম ওভারেই দুই ছয়ে শুরু করলেন আফ্রিদি, একটু পরেই দেখতে দেখতে তা হয়ে গেল ১৭ বলে ৩৭। কদিন আগেই হ্যাম্পশায়ারের হয়ে করা ৪২ বলে সেঞ্চুরির স্মৃতিটা যেন ফিরিয়ে আনলেন। এরপরেই অবশ্য ব্রেসনানের বলে এলবিডব্লু আফ্রিদি, পরের বলেই আউট ডেলপোর্ট। অন্য প্রান্তে এভিন লুইস চুপ ছিলেন এতক্ষণ, এরপর তিনি শুরু করলেন ঝড়। ১৮ বলে ৪৪ রানে খেলাটা শেষ করে দিলেন ৭.৫ ওভারেই, বিপিএলে এটাই সবচেয়ে বেশি বল বাকি রেখে জয়।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন