• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ধাওয়ান-রাহুলে উল্টো চাপে শ্রীলঙ্কা

    প্রথম টেস্ট, কলকাতা, চতুর্থ দিনশেষে 
    ভারত ১ম ইনিংস ১৭২ অল-আউট (পুজারা ৫২, সাহা ২৯, শামি ২৪, লাকমাল ৪/২৬, পেরেরা ১/১৯) ও ২য় ইনিংস ১৭১/১ (ধাওয়ান ৯৪, রাহুল ৭৩*, শানাকা ১/২৯)
    শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস ২৯৪ অল-আউট (হেরাথ ৬৭, ম্যাথিউস ৫২, থিরিমান্নে ৫১, ভুবনেশ্বর ৪/৮৮, শামি ৪/১০০)
    ভারত ৪৯ রানে এগিয়ে 


    কলকাতা টেস্টের চতুর্থ দিনের চিত্রটা বোঝা যেতে পারে রঙ্গনা হেরাথের পারফরম্যান্স দিয়েই। ব্যাটিংয়ে তার ৬৭ রানের ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ১২২ রানে লিড নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। আর তার আসল যে কাজ, সেই বোলিংয়ে ৩ ওভার বোলিং করে ২৫ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। ভারতীয় বোলারদের ফেলে রাখা কাজটা দারুণভাবে করেছেন তাদের দুই ওপেনার। দিনশেষে লোকেশ রাহুল ও শিখর ধাওয়ানের ১৬৫ রানের জুটিতে ৪৯ রানের লিড নিয়েছে ভারত, আছে ৯ উইকেট। 

    দীনেশ চান্ডিমাল ও নিরোশান ডিকভেলা কলকাতার বদলে যাওয়া কন্ডিশনে শুরুটা করেছিলেন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। প্রথম আধা ঘন্টাতেই ২০০ পেরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা, ২৮ রানের লিডটা যখন আরও বড় হওয়ার অপেক্ষা, ভারতীয় পেসারদের ফিরে আসা তখনোই। মোহাম্মদ শামির বলে স্লিপে ক্যাচ দিলেন ডিকভেলা। কলকাতার ঘরের ছেলে শামি পরে নিয়েছেন আরও ৩ উইকেট। লেট মিডল অর্ডার ধ্বসে দিয়েছেন একাই। ভারতকে যা ভুগিয়েছেন হেরাথই, আড়াআড়ি খেলে কাট-পুলে মেরেছেন ৯ বাউন্ডারি। ভুবনেশ্বরের বলে ডিপ কাভারে শামিকে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে তার ইনিংস। আগেরদিন ২টি উইকেট নেওয়া ভুবনেশ্বর এদিন নিয়েছেন আরও ২টি। ৮৩.৪ ওভার খেলা হয়েছে, ভারতীয় তিনজন স্পিনার মিলে সেখানে করেছেন মোট ১০ ওভার। ইডেনে যেন চলছে পেসারদের রাজত্ব! 

    কলকাতার পরিষ্কার আকাশের নিচে শামি-ভুবনেশ্বরদের লেগে থাকার মানসিকতার ছিঁটেফোঁটাও দেখাতে পারেননি অবশ্য শ্রীলঙ্কান পেসাররা। ইডেন গার্ডেনসের উইকেটে ধাওয়ান-রাহুল ব্যাটিংকে বানিয়ে ফেললেন সহজ। ফুললেংথ, শর্ট লেংথ, শাস্তির হাত থেকে রেহাই পায়নি কোনও বল। সুরাঙ্গা লাকমালের একটা বল শুধু রাহুলের ইনসাইডেজে হয়েছে চার, ধাওয়ানের উইকেটের আগে শ্রীলঙ্কা উইকেট নেওয়ার সবচেয়ে কাছে গিয়েছিল তখনোই। রাহুল পেয়েছেন ক্যারিয়ারের ১০ম ফিফটি, আর ধাওয়ানের এটি ৪র্থ। তবে ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরির খুব কাছেই চলে গিয়েছিলেন তিনি, দাশুন শানাকার লেট-ইনসুইংয়ে ব্যাট চালিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। ৯৪ রানে আউট হওয়াটা মানতে পারছিলেন না হয়তো, নিয়ে বসলেন রিভিউ। সেটা ব্যর্থই হয়েছে। 

    তবে তারও আগে রিভিউ নিয়ে বেশ একচোট কাহিনী হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে। দিলরুয়ান পেরেরাকে এলবিডাব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার নাইজেল লং, ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটাও শুরু করেছিলেন তিনি। হঠাৎ করেই ফিরে এসে চেয়ে বসেছেন রিভিউ, হক-আই সেখানে দেখিয়েছে বল লেগেছিল অফস্টাম্পের বাইরে। পেরেরার রান তখন শূন্য, পরে হেরাথের সঙ্গে জুটিতে যোগ করেছেন ৪৩। 

    এ রিভিউ কাহিনীর চেয়েও বড় কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে শেষদিনে। তিনদিন ধরে এগিয়ে থেকেও যে টেস্টের চতুর্থ দিনশেষে উলটো চাপে পড়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন