• ক্রিকেট

উইকেট নিয়ে হতাশ মাশরাফি, তামিম বললেন 'জঘন্য'

পোস্টটি ১১৮২০ বার পঠিত হয়েছে

সহজ ম্যাচও অনেক কঠিন করে জিতেছে কুমিল্লা, আশা জাগিয়েও পারেনি রংপুর। তরুণ মেহেদী আবারও নিয়েছেন চার উইকেট, আলো ছড়িয়েছেন সাইফ-অপুরাও। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এসবের চেয়ে উইকেটটাই বেশি থাকল আলোচনায়। মিরপুরের উইকেট যে প্রপঞ্চময় হয়ে থাকছে এই কদিনের বিরতির পরেও।

তামিম ইকবাল এসেই শুরুতে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চাইলেন, শুধুমাত্র বিপিএলেই মিরপুরের উইকেটের কেন এই হাল হয়? প্রতিবারই বিপিএল এলে ম্যাড়ম্যাড়ে উইকেটের প্রসঙ্গে প্রস্তুতির জন্য সময়ের স্বল্পতা ও টানা খেলাকে ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার যেন তাও ধোপে টিকছে না। সেই আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর মিরপুরে আর খেলা হয়নি। এবারও বিপিএল পর্বের শুরুটা হয়েছে সিলেট দিয়ে, এরপর ঢাকার পর চট্টগ্রামেও হয়েছে দশটি ম্যাচ। কিন্তু এই কদিনের বিশ্রাম পাওয়ার পরেও যেন মিরপুরের উইকেট আরও বেশি প্রাণ হারিয়েছে। গুড লেংথে পড়া বল যেমন লাফিয়ে উঠেছে, তেমনি হঠাৎ হঠাৎ নিচুও হয়ে গেছে। বল যেন একেবারেই ব্যাটে আসেনি। তামিম তো স্পষ্ট করেই বললেন, কিউরেটরের কাছে এই উইকেটের জন্য জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত। সেখানেই থামেননি, উইকেটটা ‘জঘন্যও’ বলেছেন। রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য অতটা চাঁছাছোলা ভাষায় বলেননি। তবে নিজের অসন্তোষ তাতে গোপন থাকেনি, ‘আসলে এই ধরনের উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলা খুব কঠিন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে আসার পর এখানে এরকম ধরনের উইকেট পাওয়া অবশ্যই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। আমরা জানি এখানে টস হারলে বোলিং টিম সুবিধা পায়, কিন্তু এত সুবিধা পাবে যেমন গুড লেন্থ বল মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। স্পিন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্টে যেমন হয়েছিল সাদা বলেও তেমন হবে, এটা আসলে খুবই কঠিন।’’

 

 

  প্রশ্ন উঠল কিউরেটরের সামর্থ্য নিয়েও। মাশরাফি অবশ্য সরাসরি কিছু বললেন না এবারও, ‘‘আমি সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলব না। যে কিউরেটর এই উইকেট বানায় সে আগেও ভালো উইকেট বানিয়েছে যদি ইতিহাস দেখেন। তবে আমি জানিনা সমস্যাটা কি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এটা খুঁজে বের করা উচিত। কারণ টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে সবাই চাই ভালো উইকেটে খেলতে। টসে হেরে গিয়ে ম্যাচ হেরে গেছি নিশ্চয়ই এই ফিলিংস নিয়ে কেউ মাঠে আসতে চায় না। এমনিতে ঢাকার উইকেটে টস হারলে ব্যাটিং করতে হবে, তারপরে যদি গিয়ে দেখি উইকেট এমন বিহেভ করছে তাহলে ড্রেসিং রুম পাজলড হয়ে যায় যেকোন দলেরই।’ তামিম মিরপুরের কিউরেটর গামিনি সিলভার কাছে সরাসরিই প্রশ্ন রাখলেন, ‘আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে, সব সময় যে একটা অজুহাত দেয়, এখানে প্রচণ্ড পরিমানে খেলা হয়- এখানে ১০ দিন কোনো খেলা হয়নি। ১০ দিন খেলা না হওয়ার পর এই উইকেট। এর উত্তর তিনিই দিতে পারবেন।’

এমন টি-টোয়েন্টি দেখে দর্শকদের হতাশাও ছুঁয়ে যাচ্ছে তামিমকে, ‘আমার কাছে যে ব্যাপারটা খারাপ লাগছে, এত দর্শক এসেছে, আর এত দর্শক এসে যদি ৯৭ রান আর ৯৭ রান শেষ ওভারে গিয়ে তাড়া করে জয়- এসে যদি এই ম্যাচ দেখে তাহলে তো খুব হতাশাজনক ব্যাপার। ক্রিকেট বোর্ড বলেন, আমরা খেলোয়াড়রা বলেন- সবাই চাই বিপিএল পরের ধাপে যাক। পরের ধাপে যাওয়ার জন্য উইকেটটা ঠিক থাকতে হবে। এমন জঘন্য উইকেটে যদি ক্রিকেট খেলা হয়…’

তামিম আরও বেশি অবাক বিপিএল এলেই উইকেটের এই হাল দেখে, ‘এই মাঠের ইতিহাস থাকতো এমনি- তাহলে বুঝতাম। কিন্তু এই মাঠের ইতিহাস তো এমন না। খালি বিপিএল এলেই এমন হয়। গত বছরও প্রথম দিকে কয়েকটা উইকেট ভালো ছিল তারপর আস্তে আস্তে খারাপের দিকে গেল। তার আগের বছর তো খুবই খারাপ ছিল। মিরপুরে সব সময়ের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে গড় মাত্র ১৪৮। টি-টোয়েন্টিতে এখন একটা মাঠের গড় ১৪৮ তো আপনি আশা করতে পারেন না। ’

সেই জবাব যারা দিতে পারবেন, তারা কি শুনেছেন আদৌ?