• ক্রিকেট

মিঠুন-ঝড়ে শেষ চারে রংপুর

পোস্টটি ১৪৩৬১ বার পঠিত হয়েছে

রংপুর রাইডার্স ১৪৭/৬, ২০ ওভার (মিঠুন ৫০*, গেইল ৩৮, আর্চার ২/২৮)
খুলনা টাইটানস ১২৮/৮, ২০ ওভার (ক্লিঙ্গার ৪৪, শান্ত ২০, বোপারা ২/৪) 

ফলাফলঃ রংপুর রাইডার্স ১৯ রানে জয়ী


শেষ ৩ ওভারে রংপুর তুলেছিল ৩৯ রান, এর মাঝে শেষ দুই ওভারেই ৩৩। শেষ ওভারেই আবার ২০। 
শেষ ৩ ওভারে খুলনার দরকার ছিল ৪১ রান, খুলনা তুলতে পারলো ২১ রান। শেষ ওভারগুলোর এই পার্থক্যই যেন গড়ে দিল ম্যাচের পার্থক্য। ব্যাটিং বা বোলিং, দুই ক্ষেত্রেই চাপে থেকেও দারুণভাবে ফিরে এসে জিতলো রংপুর। শেষদল হিসেবে নিশ্চিত করলো প্লে-অফও। 

অথচ ১৪৮ রান তাড়ায় খুলনা ম্যাচে ছিল দারুণভাবে। চাপে ছিল রংপুরই। ১ম ১০ ওভারে ৬০ রান, উইকেট নেই। ৫.১ ওভারের মাঝেই সেই খুলনা পরিণত হলো ৬ উইকেটে ৯৭ রানে! নাজমুল হোসেন প্রথমে শিকার হলেন আরেক নাজমুলের, হলেন এলবিডাব্লিউ। তুলে মারতে গিয়ে এরপর আফিফ মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিলেন সোহাগ গাজীকে। ১৩তম ওভারে রবি বোপারাকে বোলিংয়ে আনলেন মাশরাফি, সে ওভারেই ক্লিঙ্গার ক্যাচ দিলেন কাভারে দাঁড়ানো মাশরাফির হাতেই! 

খুলনার ধ্বস শুরু হয়ে গেল যেন তাতেই। রান-বলের পার্থক্য বাড়ছিল, স্লগ করতে গিয়ে ইনসাইড-এজে বোল্ড মাহমুদউল্লাহ। ৩৪ বলে ৬৭ রান দরকার ছিল, ব্র্যাথওয়েট নেমে ছয় মেরে যেন আশা যোগালেন। তবে ইসুরু উদানার পরপর দুই ওয়াইডে যেন বিরক্ত হলেন তিনি, পরের বলে তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে দিলেন ক্যাচ। এর আগেই সিঙ্গেল চুরি করতে গিয়ে রান-আউট হয়েছেন পুরান। 

খুলনাকে শেষবারের মতো আশা জুগিয়েছিলেন জোফরি আর্চার। তবে আরিফুলের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে তিনিও রান-আউট, খুলনার আশাও তখন নিভু নিভু। যা ছিল, সেটা দপ করে নিভে গেল বোপারার করা ১৯তম ওভারে। দিলেন ১ রান, সঙ্গে আবার উইকেটও! 

 

 

এর আগে একলাফে রংপুরের ইনিংস ১৪৭ রানে পৌঁছেছে মূলত মিঠুন-মাশরাফির ৭ম উইকেট জুটিতে। শেষ ২২ বলেই তারা যোগ করেছেন ৪২ রান। মিঠুন ৩৫ বলে করেছেন ফিফটি, অথচ ৩০ বলে তার রান ছিল ৩১! মাশরাফি খেলেছেন ১১ বলে ১৫ রানের ক্যামিও। তবে ৮ রানে মিঠুনের ক্যাচ ফেলেছিলেন ব্র্যাথওয়েট, সেটা যে খুলনাকে এতোটা ভোগাবে, তখন কে জানতো! 

শুরুটা অবশ্য এলোমেলো ছিল রংপুরের। গেইলের সঙ্গে জিয়াউরের ওপেনিং জুটি যেন জমছেই না। জোরের ওপর আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিলেন জিয়াউর। আফিফের এক ওভারে ১৬ রান নিয়ে সেটা পুষিয়ে দিলেন ক্রিস গেইল। চার-ছয় মেরে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা আরেকবার বেশিদূর এগুলো না ম্যাককালামের, শফিউলের অফ-কাটারে শুধু তুললেন ক্যাচ। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ইরফানের গুগলিতে ক্যাচ দিলেন গেইলও। ঝড় উঠতে গিয়েও উঠলো না।

জোফরি আরচারের স্লোয়ারে এরপর বোকা বনেছেন বোপারা, পেসে পরাস্ত নাহিদুল। মাঝে ব্র্যাথওয়েট ফিরিয়েছেন কাপুগেদেরাকে। 

আর এরপরই তো মিঠুন ঝড়! যে ঝড়ে এলোমেলো হয়ে গেল খুলনাই!