• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ফিরতে দেরি হয়ে গেল ইংল্যান্ডের?

    ফিরতে দেরি হয়ে গেল ইংল্যান্ডের?    

    দ্বিতীয় টেস্ট, অ্যাডিলেড, ৩য় দিনশেষে
    টস-ইংল্যান্ড (ফিল্ডিং)
    অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ৪৪২/৮ ডিক্লে. (মার্শ ১২৬*, পেইন ৫৭, খাওয়াজা ৫৩, ওয়ার্নার ৪৭, স্মিথ ৪০, ওভারটন ৩/১০৫, ব্রড ২/৭২) ও ২য় ইনিংস ৫৩/৪* (খাওয়াজা ২০, ওয়ার্নার ১৪, অ্যান্ডারসন ২/১৬, ওকস ২/১৩)
    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ২২৭ অল-আউট (ওভারটন ৪১, কুক ৩৭, ওকস ৩৬, লায়ন ৪/৬০, স্টার্ক ৩/৪৯)
    অস্ট্রেলিয়া ২৬৮ রানে এগিয়ে 



    সিরিজে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের লড়াই করতে হলো টিকে থাকতে। গোধূলিবেলায় ফ্লাডলাইটের আলোয় জিমি অ্যান্ডারসন-ক্রিস ওকসরা হয়ে উঠেছিলেন ভয়ঙ্কর। শেষ সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে লিড এখনই ২৬৮ রানের। ইংল্যান্ড এই সেশনে ফিরে এলো, তবে ম্যাচে ফেরার জন্য বড্ড দেরিই হয়ে গেল কিনা, প্রশ্ন সেটাই। 

    অ্যান্ডারসনের ভেতরের দিকে ঢুকতে গিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে উইকেটকিপার জনি বেইরস্টোকে ক্যাচ দিয়েছেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট, ৪ রানে। অফস্টাম্পের ওপরে সোজা হয়ে যাওয়া বলে ২০ রানে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন উসমান খাওয়াজা। ওয়ার্নার স্লিপে রুটকে ক্যাচ দিয়েছেন ওকসের বলে, করেছেন ১৪। আর ৬ রানে স্মিথও হয়েছেন এলবিডাব্লিউ। দুই এলবিডাব্লিউ সিদ্ধান্তই রিভিউ করেছিলেন স্মিথ-খাওয়াজা, বাঁচেননি একজনও। পিটার হ্যান্ডসকম্ব টিকে আছেন নাইট-ওয়াচম্যান ন্যাথান লায়নকে সঙ্গী করে। 

    আগের দিন ২৯ রানে ১ উইকেট নিয়ে এদিন নেমেছিল ইংল্যান্ড, ম্যাচে বা অ্যাশেজে টিকে থাকতে ব্যাটিংটা হতে হতো দৃঢ়। উলটো জেমস ভিনস শুরুতেই হয়ে গেলেন নড়বড়ে, আলগাভাবে খেলতে গিয়ে হ্যাজলউডের বলে উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিতে হয়েছে। একটু আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে কাটা পড়েছেন রুট, ড্রাইভের প্রলোভনে তাকে সামনে এনেছিল কামিন্সের ফুললেংথের বল। ক্যাচ গেছে এবার তৃতীয় স্লিপে। রুটের পূর্বসূরী কুকও সামনে বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ, সিরিজজুড়েই ভাল বোলিংয়ের পুরষ্কার পেয়েছেন লায়ন। চা-বিরতির আগে ডেভিড মালানও পরাস্ত কামিন্সের বাউন্সারে, ইংল্যান্ডের অ্যাশেজও তখন নড়বড়ে। 

    দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ড আরও তিন উইকেট হারালো, তিনটিই কট অ্যান্ড বোল্ড! এর মাঝে দুইটি শুধু দারুণ না, অসাধারণ। সে দুইটি ক্যাচ আবার মইন আলি ও জনি বেইরস্টোর, ইংল্যান্ডকে শেষ আশা দিচ্ছিলেন যারা। লায়নের বলে আলতো করেই গ্যাপে খেলেছিলেন মইন, তবে ‘গোট’ যে ‘সুপারম্যান’ হয়ে উঠবেন, সেটা তো জানতেন না! বাঁদিকে লাফ দিলেন, প্রথম টেস্টে জেমস ভিনসকে করা রান-আউটও ভুলিয়ে দিল এই ক্যাচ। বেইরস্টো অবশ্য খেলেছিলেন জোরের ওপর, দারুণ রিফ্লেক্সে সেটা প্রথমে থামিয়েছেন স্টার্ক, এরপর পেছন ফিরে ধরেছেন ক্যাচ। পরের ক্যাচটাও নিয়েছেন তিনিই, তবে ওকসের সংগ্রামী ইনিংসের ইতি টানা ক্যাচটা অবশ্য ছিল সহজ। 

    ডিনারের পর শেষ দুই উইকেট অবশ্য ইংল্যান্ড হারিয়েছে দ্রুতই। হঠাৎ বাউন্সে ব্রড ক্যাচ দিতে বাধ্য হয়েছেন, সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ অ্যান্ডারসন। শেষ পর্যন্ত তাই অপরাজিতই ছিলেন ক্রেইগ ওভারটন, যিনি আবার ইংল্যান্ড ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার। অভিষিক্ত নয় নম্বর ব্যাটসম্যান তিনি, ইংল্যান্ডের ব্যাটিং দুর্দশার এক চিত্রই ফুটে ওঠে তাতে। স্মিথ ফলো-অন করাতে পারতেন, তবে বোলারদের বিশ্রাম দেবেন বলে করাননি সেটা। সে সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে গেছে অ্যান্ডারসনদের বোলিংয়ে। 

    তবে সেটা রুটের টসে সিদ্ধান্তের মতো ‘ভয়ঙ্করী’ কিনা, সে প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করছে ইংল্যান্ডের অ্যাডিলেড টেস্টের ভাগ্য। সঙ্গে হয়তো অ্যাশেজেরও।