• ক্রিকেট

সিলেটকে সান্ত্বনাও পেতে দিল না কুমিল্লা

পোস্টটি ৬৭০২ বার পঠিত হয়েছে

কুমিল্লা ১৭০/৪, ২০ ওভার (লিটন ৬৫, স্যামুয়েলস ৫৫, কামরুল ১/২৯)
সিলেট ১৪৫/৭, ২০ ওভার (সাব্বির ৩১, ফ্লেচার ২৫, ক্রেমার ৩/১৫, মেহেদি ২/৩১)
ফল : কুমিল্লা ২৫ রানে জয়ী 


নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিলেটের সঙ্গে খেলেছিল কুমিল্লা। আজ সেই কুমিল্লার মুখোমুখি যখন সিলেট, এর আগেই তাদের বিদায়ঘন্টা বেজে গেছে, আর গ্রুপ-পর্বে শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়েছে কুমিল্লার। গ্রুপ-পর্বের শেষ ম্যাচে থাকলো দুই দলের সেই পার্থক্যেরই প্রতিফলন। সিলেটকে ২৫ রানে হারিয়ে কুমিল্লা গ্রুপ-পর্ব শেষ করলো, আর সিলেট বিদায় নিল বিমর্ষ হয়েই! 

শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে কুমিল্লা বিশ্রাম দিয়েছিল আরও দুইজনের সঙ্গে অধিনায়ক তামিম ইকবালকেও, সুযোগ পেলেন লিটন দাস। সেটা বেশ ভালভাবেই নিলেন লিটন। তামিম আগেই বলেছিলেন, লিটনকে তার ব্যাটিং নিয়ে ভাবতে হবে। লিটনের ব্যাটিং এদিন হয়তো দেখাল তার ভাবনারই প্রতিফলন। অসাধারণ টাইমিং, গ্যাপ খুঁজে নিলেন দারুণ, খেললেন বলের মেধা অনুযায়ী। কাভারে খেলেছেন, স্লগ করেছেন, এমনকি করেছেন স্কুপও। এবারের বিপিএলে নিজের সর্বোচ্চ রান করলেন, করলেন প্রথম ফিফটিও। শেষ চারের লড়াইয়ে লিটন নিজের জায়গার দাবিটা জোরাল করলেন বেশ ভালভাবেই। 

 

 

জস বাটলার বা ইমরুল কায়েসের দ্রুত ফিরে যাওয়াটা পুষিয়ে দিয়েছে লিটনের সঙ্গে মারলন স্যামুয়েলসের জুটিই। নাবিল সামাদের বলে বোল্ড হয়েছিলেন বাটলার, নাসিরের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন ইমরুল। এরপরই দুইজনের ৮৩ রানের জুটি, যেটা ভেঙ্গেছে হোয়াইটলির বলে লিটন ক্যাচ দেওয়ায়। রানের গতিতে অবশ্য তাতে ছেদ পড়েনি কুমিল্লার, শেষ ৫ ওভারে তারা তুলেছে ৫০ রান। মারলন স্যামুয়েলস খেলেছেন সহজাত বড় বড় শট, ৪৩ বলে করেছেন ৫৫। ১৮ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলেছেন এ ম্যাচে কুমিল্লার অধিনায়ক শোয়েব মালিক। 

১৭১ রানের লক্ষ্য, দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে হারিয়েছে সিলেট। আম্পায়ারের এলবিডাব্লিউর সে সিদ্ধান্তে অবশ্য বিস্ময় মিশে থাকার কথা। মেহেদির বলে চোখে পড়ার মতো এজ হয়েছিল, রিজওয়ান তাতেও বাঁচেননি, কুমিল্লাকে আরেকবার শুরুতেই ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন মেহেদি। 

পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে রানটা ভদ্রস্থ করেছেন ফ্লেচার-নাসির, সে ওভারে এসেছে ১৫ রান। পরের ওভারে ক্রেমারের বলে বোল্ড হয়ে বিপিএল শেষ করেছেন নাসির, সিলেট পড়ে গেছে আরেকটু চাপে। ফ্লেচার রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি, ৩০ বলে ২৫ করে রকিবুলকে ক্যাচ দিয়েছেন ক্রেমারের বলেই। একই অবস্থা বাবরেরও, ২০ বলে তিনি করতে পেরেছেন ১৯। সাব্বিরকে নেমে বিদায় দিতে হয়েছে হোয়াইটলিকে, সিলেটের দায়িত্ব এরপর তুলেছিলেন নিজের কাঁধেই। 

১০ বলে ৫ রান করে ছিলেন অস্বস্তিতে, আল-আমিনকে টানা তিন চার মেরে সেটা কাটিয়েছেন। মেহেদির পরের ওভারে নিয়েছেন ১৮ রান। তবে শেষটা হয়েছে হতাশাজনক। যেমন হতাশার শেষ হলো সিলেটের। 
স্মৃতি হয়ে থাকলো শুধু ‘ঘরের মাঠে’ দুর্দান্ত শুরুটাই!