• অ্যাশেজ ২০১৭-১৮
  • " />

     

    ইংল্যান্ডকে হতাশ করলেন স্মিথ

    চতুর্থ টেস্ট, মেলবোর্ন
    টস- অস্ট্রেলিয়া (ব্যাটিং)
    অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ৩২৭ অল-আউট (ওয়ার্নার ১০৩, স্মিথ ৭৬, মার্শ ৬১, ব্রড ৪/৫১, অ্যান্ডারসন ৩/৬১) ও ২য় ইনিংস ২৬৩/৪ ডিক্লে. (স্মিথ ১০২*, ওয়ার্নার ৮৬, অ্যান্ডারসন ১/৪৪, ব্রড ১/৪৬, রুট ১/১)
    ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস ৪৯১ অল-আউট (কুক ২৪৪*, রুট ৬৫, ব্রড ৫৬, লায়ন ৩/১০৯, হ্যাজলউড ৩/৯৫)
    ম্যাচ ড্র


    ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেটটাই শুধু জন্মদিনে উপহার পেলেন জো রুট। এছাড়া পেয়েছেন একরাশ হতাশাই। এমসিজিতে শেষদিনে স্টিভ স্মিথের সেঞ্চুরিতে টেস্ট বাঁচিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, অ্যালেস্টার কুকের অপরাজিত ২৪৪ রানের অতিকায় ইনিংসের পরও স্বান্তনার জয়টা পায়নি ইংল্যান্ড। তবে বক্সিং ডে টেস্ট ড্র হওয়ার আরেকটা অর্থ, এবার অন্তত হোয়াইটওয়াশ হচ্ছে না ইংল্যান্ড। 

    গতকাল ইংল্যান্ডকে হতাশ করেছিলেন স্মিথ ও ওয়ার্নার, সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। আজও তাই। মেলবোর্নের ফ্ল্যাট উইকেটে যেন শুয়ে পড়লেন ওয়ার্নার-স্মিথ। ওয়ার্নার করলেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শ্লথ ফিফটি, আর স্মিথ করলেন দ্বিতীয় শ্লথ সেঞ্চুরি। বৃষ্টি হানা দিয়েছিল আজও। তবে ম্যাচশেষে জো রুট বলেছেন, এ উইকেটে আরও কয়েকদিন খেললেও আসলে ফল হবে একই। 

     

     

    ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরিটা ওয়ার্নার মিস করেছেন জো রুটকে তুলে মারতে গিয়ে। যে ইনিংসে ধৈর্য্যের চরমতম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, রুটের মতো পার্ট-টাইমারকে দেখে তারই যেন ‘ব্রেন-ফেড’ বা এর চেয়েও বেশি কিছু হলো। রুটের বল পিচের ‘রাফ’-এ পড়ে ঘুরেছিল বেশি, সোজা ওপরে ওঠা ক্যাচটা নিয়েছেন জেমস ভিনস। পুরোনো বলের সামান্য সুইংয়ে এরপর শন মার্শের স্থায়ীত্বও ফুরিয়ে এসেছে, স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে। এমসিজির উইকেটের অসমান বাউন্স আর বলের ‘ক্যারি’ ছিল অননুমেয়, উইকেটকিপার জনি বেইরস্টোকে নিতে হয়েছে তীক্ষ্ণ এক ক্যাচ। তিনি বা স্লিপের ফিল্ডাররা কতটুকু সামনে-পেছনে করে দাঁড়াবেন, এটাই যে মাপতে পারছিলেন না ঠিক! 

    লাঞ্চের আগেই এই দুই উইকেট উজ্জীবিত করেছিল ইংল্যান্ডকে। তবে স্টিভ স্মিথকে টলাতে পারেননি কেউ। ১০২ রানের ইনিংসে স্মিথ চার মেরেছেন ৬টি, স্পষ্টতই ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা আর বঞ্চনার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনিই। এ সেঞ্চুরিতে একাধিকবার এক পঞ্জিকাবর্ষে ছয়টি সেঞ্চুরির কীর্তিতে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে নাম বসিয়েছেন স্মিথ। ৭৬.৭৬ গড়ে তার ১৩০৫ রানই এ বছরের সর্বোচ্চ। 

    সেঞ্চুরির পর গর্জন করেননি, ছিল ম্যাচ বাঁচানোর স্বস্তি। এমসিজির উইকেটে তিনি খেলেছেন ২২৭ বল, এর আগে ৮৬ রান করতে ওয়ার্নার খেলে গেছেন ২২৫ বল। আর শেষে এসে মিচেল মার্শ খেলেছেন ১৬৬ বল, রান করেছেন ২৯। ঘরের মাঠে গত ২৪ বছরে এ টেস্টে ওভারপ্রতি ২.৪২ রান তোলার গতিই সবচেয়ে কম অস্ট্রেলিয়ার। এ টেস্টকে বলা হচ্ছিল ‘ডেড-রাবার’, আদতেই স্মিথরা এদিন করেছেন ‘মরা-ব্যাটিং’! তবে দিনশেষে কার্যকর সেটাই। 

    মাঠে স্মিথ-রুটরা যখন হাত মেলাচ্ছেন, অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ছিল ৯৯ রানে। এ টেস্টেই শুধু বাকি ছিল না কিছু। সিরিজে বাকি একটি টেস্ট। নতুন বছরে, সিডনিতে। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন