• ক্রিকেট

বিকেএসপিতে 'অলরাউন্ডার' মাশরাফি, ফতুল্লায় শেষ ওভারের রোমাঞ্চ

আবাহনী লিমিটেড ৪৯.৫ ওভারে ২১৭ (মাশরাফি ৬৭, মুক্তার ৩/৪৭)

কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ৪৮.১ ওভারে ১৮১ (মুক্তার ৪০, মাশরাফি ৪/৪৯)

ফল- আবাহনী ৩৬ রানে জয়ী


ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে করেছেন ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি, বল হাতেও নিয়েছেন ৪ উইকেট। মাশরাফি বিন মুর্তজার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছেই হারল কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। কলাবাগানকে ৩৬ রানে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। টানা দুই ম্যাচে হারলো কলাবাগান, টানা দুই ম্যাচে জিতলো আবাহনী।

কলাবাগানের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আবাহনীর টপ অর্ডার। ১০৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় সামাল দেন টেস্ট স্কোয়াডে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন ও মাশরাফি। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি করেন মাশরাফি। ৫৪ বলে ৬৭ করে জতিন সাক্সেনার বলে ৪৭তম ওভারে ফেরার আগেই দলকে নিয়ে গেছেন যে অবস্থানে, যেটা শেষ পর্যন্ত হয়ে গেছে জয়ের জন্য যথেষ্টই। মোসাদ্দেক ছিলেন ধীর-স্থির, ৭৩ বলে ৪০ রানের পর হয়েছেন রান-আউট। কলাবাগানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১৮ রান।

৩৩ রানেই পড়ে কলাবাগানের ৩ উইকেট, এর মাঝে ২ ব্যাটসম্যানকে ফেরান মাশরাফি। শুরুর এই ধাক্কা পুরো ম্যাচেই আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি কলাবাগান, উল্টো মোহাম্মদ আশরাফুলের ৭১ বলে ২৫ রানের ইনিংস বাড়িয়েছে বিপদ। ১০৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর যা লড়াই করেছেন মুক্তার আলি ও মাহমুদুল হাসানই। ৪০ রান করা মুক্তারকে রান-আউট করে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন মোসাদ্দেক। শুরুর মতো শেষটাও হয়েছে মাশরাফির উইকেট নেওয়ায়। 

 

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৫০ ওভারে ২৭৯/৬ (জাকির ৯০, সাইফুদ্দিন ২/৬৮)

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ৪৮.৪ ওভারে ২৫৯ (উদয় ৫৯, সাব্বির ৫৫, নাইম ৩/৩৬)

ফল- গাজী গ্রুপ ২০ রানে জয়ী 


৬০ বলে দরকার ৭১ রান, হাতে ৭ উইকেট। শাইনপুকুরের জয়ের সুবাসই পাওয়ার কথা। উল্টো ৫০ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ল তারা। শেষ ১০ ওভারে বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে শাইনপুকুরকে ২০ রানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। প্রথম ম্যাচ হারের পর জয়ের দেখা পেল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। 

২৮০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শাইনপুকুরের প্রথম ৪ ব্যাটসম্যানের সবাই রানের দেখা পেয়েছেন, হাফ সেঞ্চুরি করেছেন টপ অর্ডারের ৩ জন। ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৩ বলে ৫৫ রান সাব্বির হোসেনের, উদয় কৌলের রান ৫৯। এরপর আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি, দুই অংক ছুঁয়েছেন ২ জন। শেষের বিপর্যয়ে তাই ২৫৯ রানেই থামে শাইনপুকুর।

প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি গাজি গ্রুপের। ৭৭ রানেই ৪ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন জাকির অনিক ও নাদিফ চৌধুরী। দুজনের ১১১ রানের জুটি পথ দেখিয়েছে দলকে। ৫ চার ও  ৩ ছয়ে ৬৮ বলে ৭১ রান করে শুভাগত হোমের বলে নাদিফ ফেরেন আফিফ হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে। নাদিফের পর নেমে ঝড়ো ফিফটি করেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান রজত ভাটিয়া। ৪ চার ও ৩ ছক্কায়  ৩৪ বলে অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে আউট হন জাকির।


 

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি ৫০ ওভারে ১৯৯/৭ ( নাজিমুদ্দিন ৫১, রেজা ৪/৩৭)

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ৫০ ওভারে ২০০/৯ (ফরহাদ ৪৫, তানভীর ৩/৪৮)

ফল- প্রাইম দোলেশ্বর ১ উইকেটে জয়ী


শেষ ওভারে দোলেশ্বরের দরকার ছিল ৪ রান, ৩ উইকেট নিয়ে। মোহাম্মদ সাদ্দামের প্রথম বলে সিঙ্গেল এলো, এরপর তিন হানলেন জোড়া আঘাত। বাকি ৩ বল, দরকার ৩, উইকেট ১টিই.১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মানিক খানে ভর করেই সেটা তুলে ফেললো দোলেশ্বর। ১৯৯ রানের পুঁজি নিয়েই শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে একরাশ হতাশা দিয়ে  ফতুল্লার রোমাঞ্চে শেষ হাসি হেসেছে প্রাইম দোলেশ্বরই।  

২০০ রানের লক্ষ্যে নেমে থিতু হতে পারেননি দোলেশ্বরের কেউই। ফজলে মাহমুদের ৪২ ও ফরহাদ হোসেনের ৪৫ রান দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলেও খুব সহজে আসেনি জয়। শেষের দিকে ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারালে হারের শঙ্কা জাগে। শেষ বলে রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মানিক খান।

এর আগে ফরহাদ রেজার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২০০ পেরুতে পারেনি খেলাঘর। তৃতীয় ওভারে সাদিকুর রহমানকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন রেজাই, ৪ উইকেট নিয়েছেন ৩৭ রানে। ৭৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর নাজিমুদ্দিন, মইনুল ইসলাম ও অশোক মেনারিয়ার ব্যাটে ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি ছিল খেলাঘরের। তবে যথেষ্ট হলো না সেটাও। টানা দুই ম্যাচই হারলো খেলাঘর, আর দুই ম্যাচে এক জয় হলো দোলেশ্বরের।