• অ্যাশেজ
  • " />

     

    'বডিলাইন' অথবা 'ফাস্ট লেগ থিওরি' র গল্প-৪

    অ্যাশেজ! ক্রিকেটের সবচাইতে পুরানো দ্বৈরথ। এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইতিহাস, পরতে পরতে আভিজাত্য। ক্রিকেট এখানে শুধুই খেলা নয়, ক্রিকেট এখানে জাতিগত বৈরিতার প্রতীক। শত বছরের পুরানো এই সিরিজে কারো স্বপ্ন ভেঙ্গেছে, নতুন তারকার জন্ম হয়েছে, কেউবা আবার সবুজ মাঠের আশ্রয় ছেড়ে জায়গা পেয়েছেন অমর রূপকথার কাব্যে।

     

    অ্যাশেজে ক্রিকেট জীবনের অংশ নয়, বরং জীবনই এখানে হয়ে যায় ক্রিকেট। ছোট্ট এই ভস্মাধারের প্রতি আবেগ যে কত তীব্র তা প্রথম অনুভূত হয় ১৯২৮-২৯ এ, ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফরে। জন্ম হয় ক্রিকেটের অলটাইম কিছু গ্রেটদের। এর ফলশ্রুতিতে আসে কুখ্যাত বডিলাইন সিরিজ। এই ধারাবাহিকটি বডিলাইন অ্যাশেজেরই পূর্বাপর আর খুঁটিনাটির উপর আলোকপাত করার একটা প্রয়াস। 

     


     

    প্রথম পর্বঃ 'বডিলাইন’ অথবা ‘ফাস্ট লেগ থিওরি’ র গল্প -১

    দ্বিতীয় পর্বঃ'বডিলাইন’ অথবা ‘ফাস্ট লেগ থিওরি’ র গল্প -২

    তৃতীয় পর্বঃ বডিলাইন অথবা ফাস্ট লেগ থিওরি' র গল্প -৩

     


     

     

    ১২. অনড় উডফুল

     

    দল যখন ভাল খেলে তখন গোটা দেশ খেলোয়াড়দের পাশে থাকে, স্তুতিবাক্যে পত্রিকার পাতায় লেখা হয় অজস্র গাঁথা। আবার দলের ক্রান্তিলগ্নে ঐ পত্রিকাতেই ছাপা হয় অপমানসূচক বক্তব্য, কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রায়ই ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয় অধিনায়ককে। প্রথম টেস্টে শোচনীয় পরাজয়ের পর অবশ্য অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম দলকে আগলেই রেখেছিল, তবে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের পর সেই আগলের অর্গল উন্মুক্ত হয়ে গেল। বিশেষ করে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক বিল উডফুলের উপর বোর্ড কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা ছিলেন খুবই ক্ষিপ্ত। কারণ, বিল ‘বডিলাইন’ এর জবাব ‘বডিলাইন’ দিয়ে দিতে রাজি হননি!

     

    ‘বডিলাইন কৌশল’ বিল অনুসরণ করবেন না এটা জানার পর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড দোলাচলে পরে যায় তাঁকে আর অধিনায়ক রাখা হবে কিনা এ নিয়ে। এমনকি অধিনায়ক ঠিক না করতে পারার জন্যে দ্বিতীয় টেস্টের টসও সময়মতো হয়নি! দলের সহ-অধিনায়ক ভিক্টর রিচার্ডসন বিলকে অনেক অনুরোধ করেন এই কৌশল গ্রহণ করতে। কিন্তু বিলের যুক্তি ছিল অকাট্য-

     

    ‘খেলাকে কলঙ্কিত করে এমন কোন কৌশল আমি কখনোই গ্রহণ করবো না। আমি জানি টিম ওয়াল বডিলাইন কৌশল খুব ভালভাবেই বাস্তবায়ন করতে পারবে, কিন্তু আমি এমন কিছু করবো না যেটা খেলার চেতনাকে আঘাত করে’

     

    গণমাধ্যমে প্রথম টেস্টের পরদিন থেকেই কিছু ‘খুনে মানসিকতা’র ফাস্ট বোলারদের দ্বিতীয় টেস্টে দলভুক্তি করার জন্যে ওকালতি চলতে থাকে। সাথে যুক্ত হয় বোর্ডের চাপ। কিন্তু বিল উডফুল তাঁর অবস্থানে অনড় থেকেই দ্বিতীয় টেস্টের দল প্রায় অপরিবর্তিত রাখেন। বোর্ডও বাধ্য হয়ে তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে রেখে দেয়।

     

     

    ১৩.‘গৌরবময় অনিশ্চয়তা’

     

    ৬৭ রানে ২ উইকেট নেই। রানের গতিও মন্থর। প্রচন্ড গতিতে ধেয়ে আসা বলগুলোকে ডাক করা যায়, কিন্তু ব্যাটে লাগানো যায়না। অস্ট্রেলীয় সমর্থকরা তবুও আশাবাদী, উইকেট যেহেতু হাতে আছে; ‘বডিলাইন’ এর জবাব এবার হয়তো দেয়া যাবে। জ্যাক ফিঙ্গেলটনের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ও’রাইলি রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরার পর দর্শকরা আরো নড়েচড়ে বসলেন, মাঠে নামলেন যে ডন ব্র্যাডম্যান!

     

    ডন ক্রিজে আসতেই তৎপর জার্ডিন লেগ সাইডে ফিল্ডার আরো বাড়ালেন। জোরদার করলেন সীমানার নিরাপত্তা । যে ‘বিভীষণ’ এর জন্যে এই কৌশলের উৎপত্তি, সেই ব্র্যাডম্যান কি ‘প্রত্যুত্তর’ দেন তা দেখার জন্যে দর্শক ঔৎসুক্য হয়ে চাইল। বিল বাওয়েস প্রথম বলটা করলেন গুড লেংথে। বাউন্সার আশা করে থাকা ব্র্যাডম্যান ভুলটা করলেন ‘প্রিম্যান্ডেটরি হুক’ খেলে। ছত্রখান স্ট্যাম্পগুলো যেন গ্যালারির একটু আগের উদ্দামতাকে উপহাস করল। ‘গোল্ডেন ডাক’ খেয়ে সাজঘরের পথ ধরলেন ডন। ব্র্যাডম্যান আউট হতেই জার্ডিনের উদ্বাহু নৃত্য জুড়ে দেয়া দেখে শোকাহত দর্শক এবার হল বাকরুদ্ধ। মাঠে সবসময়ই ভাবলেশহীন জার্ডিনের এরূপ উদ্বেলতা, তাঁর প্রতি অস্ট্রেলীয়দের ঘৃণার পারদ চড়িয়ে দিল আরো একধাপ। অনেক বছর পর যখন জার্ডিনকে ঐ সময়ের অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস করা হয় তিনি বলেছিলেন-

     

    ‘ওটা ছিল পারস্পরিক! ওদের অপমানসূচক বক্তব্যই ওদেরকে উল্টা ঘৃণা করার কাজটা আমার জন্যে সহজ করে দিয়েছিল!’

     

    প্রথমদিন শেষে স্কোরকার্ডের রুগ্ন অবস্থা দেখে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমের সমস্ত অভিযোগ আসল বিলের দিকে। বডিলাইন কৌশল মেনে নেয়ার আকুতিও থাকল।  অধিনায়কের এমন বিপর্যয়ে ঢাল হয়ে আসলেন ও’রাইলি। ৩৪ ওভার বল করে ১৭টি মেডেন, মাত্র ৬৩ রান খরচায় তুলে নিলেন ৫ উইকেট। এই উইকেট অথবা মেডেন এর একটিও কিন্তু বডিলাইন বোলিং থেকে আসেনি! প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়াই শেষ পর্যন্ত ৫৯ রানের লিড নিল।

     

    দ্বিতীয় ইনিংসে যথারীতি ‘বডিলাইন’ বোলিং এর সামনে অজি ব্যাটসম্যানরা জেরবার। তবে এবার ব্র্যাডম্যান প্রতিরোধ গড়লেন, প্রথম ইনিংসে ‘গোল্ডেন ডাক’ উপহার দেয়ার শোধ তুললেন অপরাজিত শতক তুলে নিয়ে। ‘স্ট্রাইকরেট ৭০ এর উপরে’ এই তথ্যই বলে দেয় হুক-পুল দিয়ে বোলারদের উপর তিনি কেমন চড়াও হয়েছিলেন। সঙ্গীর অভাবে ইনিংস বড় করতে পারেননি এটা ছিল তাঁর দুর্ভাগ্য। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯১ রানে অলআউট হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫১ রান।

     

    তখন ‘টাইমলেস টেস্ট’ এর যুগ। যত সময় লাগে লাগুক, ইংল্যান্ড উইকেট ধরে রাখতে পারলে এই টেস্ট না জিতার কারণ নেই। ব্যাটিং লাইনআপে আছেন ওয়ালি হ্যামন্ড, হাবার্ট সাটক্লিফদের মতো গ্রেটরা। কিন্তু ক্রিকেট তো সমসময় সমীকরণ মেনে চলে না! এজন্যেই এতো বিখ্যাত লাইনআপ পরিণত হলো ধ্বংসস্তূপে, ও’রাইলি আবারও ধ্বসিয়ে দিলেন ইংল্যান্ডকে। পুরোপুরি ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ মেনে বল করে এবারও তুললেন ৫ উইকেট। ২৫১ এর লক্ষ্য দিয়েও অস্ট্রেলিয়া ১১১ রানে ম্যাচ জিতল। আগেরদিনও যিনি ছিলেন ‘খলনায়ক’, অ্যাশেজে সমতা ফিরিয়ে সেই উডফুলই তাঁর ‘বিচক্ষণতা’র জন্যে নায়ক বনে গেলেন। ও’রাইলি হলেন নতুন সুপারস্টার। সাথে ব্র্যাডম্যানের শতক এই ধারণাকে পোক্ত করে দিল যে ‘বডিলাইন’ আর তেমন ঝামেলা করতে পারবে না!

     

    ১৪. ‘অ্যাডিলেড লিক’

     

    মাহমুদউল্লাহর প্রথম বিশ্বকাপ শতকের পর গ্যালারির দিকে ছুঁড়ে দেয়া উড়ন্ত চুমু নাকি রুবেল হোসেন এর স্ট্যাম্প ছত্রখান করে দেয়ার পর বুনো দৌড়, ‘অ্যাডিলেড’ নাম শুনলে কোন দৃশ্যটি আপনার চোখে ভেসে উঠে? ইংলিশদের মনে হয় অ্যাডিলেড সংক্রান্ত কোন রাহুর গ্রাস আছে; এখানে এলেই তাঁরা যেন কলঙ্কিত হবার প্রতিযোগিতায় নামে। বাংলাদেশের জন্যে অ্যাডিলেড কাব্য যতই গৌরবের হোক, নিশ্চিতভাবেই এটা ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়; কিংবা বলতে পারেন অনেকগুলো কালো অধ্যায়ের সর্বশেষ কিস্তি!

     

    মেলবোর্নের দ্বিতীয় টেস্টেও ‘বডিলাইন’ কৌশল কাজ করেছিল, কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য তার সুফল মেলেনি। আপনি হয়তো ভাবছেন অ্যাডিলেডের তৃতীয় টেস্টে জয়ের জন্যে ইংলিশরা ছিল উন্মাতাল, প্রকৃতপক্ষে তাঁরা ছিল গৃহবিবাদে লিপ্ত। দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীন ইফতিখার খান পতৌদি ইংলিশদের মধ্যে সর্বপ্রথম বডিলাইনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, সাথে এটাও জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর লেগে ফিল্ডিং করতে রাজি নন। জার্ডিনের উত্তর ছিল, ‘আই সি হিজ হাইনেস ইজ অ্যা কনসাইন্টুয়াস অবজেক্টর’। প্রতিহিংসার শিকার পতৌদির নবাব পরের টেস্টে বাদ পড়লেন। ফাস্ট বোলার গাবি অ্যালেনও দ্বিতীয় টেস্টের পর উচ্চকিত হন। তিনি শুধু অধিনায়কের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই থামেন নি, ইংল্যান্ডে এমসিসি এর কাছে চিঠিও পাঠান এই কৌশল যাতে বন্ধ হয় সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। অবশ্য জার্ডিন এবং অস্ট্রেলীয়রা এই ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, জানলে নিশ্চিতভাবে তিনিও তৃতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়তেন।

     

    অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ড বেশ বেকায়দাতেই ছিল। ৭ উইকেট নেই, কিন্তু বোর্ডে রান তখনো ২৫০ ছাড়ায়নি। দ্বিতীয় দিনে লোয়ার অর্ডারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত তুলতে পারে ৩৪১ রান। যথারীতি জ্যাক ফিঙ্গেলটন আর উডফুল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংস সূচনা করলেন।

     

    তখন লারউডের দ্বিতীয় ওভার। ফিঙ্গেলটন ডাক মেরে ইতোমধ্যেই সাজঘরে। শুরুতেই ব্রেকথ্রু পাওয়ায় জার্ডিন বডিলাইন ফিল্ডিং তখনো সাজান নি। ওভারের পঞ্চম বল, কোনরকমে মাথা বাঁচিয়ে বাউন্সারটিকে ডাক করলেন উডফুল। কিন্তু শেষ বলে আর রক্ষা হল না। বুক বরাবর ধেয়ে আসা তীব্র গতির গোলা উডফুলের একেবারে হৃদপেশীর উপর আঘাত করল। ব্যথায় শুয়ে পড়া উডফুলকে কোঁকাতে দেখে জার্ডিন যা করলেন সেটা আরো ভয়াবহ- হাততালি দিয়ে লারউডকে উৎসাহ যোগালেন। পরের বল থেকেই ফিল্ডার দিয়ে লেগসাইড একেবারে ভরিয়ে ফেললেন। শুরু করলেন বডিলাইন বোলিং আক্রমণ।

     

    অ্যাডিলেডে সেদিনের দর্শক সমাগম ছিল পঞ্চাশ হাজারের উপরে। চোখের সামনে এরূপ ঘটনা দেখে তাঁরা সমানে গালাগাল শুরু করল। প্রত্যেকটা বল হবার সাথে সাথে গ্যালারি থেকে ভেসে আসতে লাগলো কটুক্তি। জার্ডিন যদিও তার কিছুই গায়ে মাখেন নি । প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে দেখেই কিনা গতির ফোয়ারা ছুটালেন লারউড। সাথে চলতে থাকলো ক্রমাগত বাউন্সার। উডফুল বুকে প্রবল ব্যাথা নিয়ে আরো ঘন্টা খানেক ক্রিজে ছিলেন। আউট হবার আগে তিনি হাতে আবারও প্রচন্ড ব্যথা পান। ও’রাইলি তাঁর আত্নজীবনীতে পরে বলেছিলেন, উডফুলের হাতের কালশিটে দাগ একটা সসারের সমান বড় ছিল!

     

    জার্ডিন আর লারউড যতই উপভোগ করুন, অন্যান্য ইংলিশ খেলোয়াড়েরা কিন্তু তখন ছিলেন বেশ তটস্থ। দর্শকদের উত্তেজনা দেখে অ্যালেন প্রকাশ্যে বডিলাইনের বিরোধিতা করলেন। সহঅধিনায়ক বব ওয়াইট জার্ডিনকে নিরস্ত করার চেষ্টা চালালেন। ইংলিশরা তখন ভয় পাচ্ছিলেন- দর্শকরা হয়তো বেড়া ভেঙ্গে মাঠেই চলে আসবে এবং একটা রায়ট ঘটে যাবে। তখন কিন্তু মাঠে এখনকার মতো নিরাপত্তা থাকত না। জার্ডিন এবং লারউডের সৌভাগ্য যে অমন কিছু সেদিন ঘটেনি।

     

    ঐদিন সন্ধ্যায় ইংলিশ ম্যানেজার প্লুম ওয়ার্নার অস্ট্রেলীয় সাজঘরে আসলেন উডফুলকে সহমর্মিতা জানাতে। ক্রুদ্ধ উডফুলের সম্বোধন ছিল-

     

    ‘আমি আপনাকে দেখতে চাইনা মি. ওয়ার্নার!’

     

    মৃদুভাষী, নিপাট ভদ্রলোক উডফুলের এই বক্তব্য ওয়ার্নার আর উপস্থিত সবার কাছে ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। অপমানিত প্লুম কোন প্রত্যুত্তর দেননি বলে ঘটনা আর বাড়বেনা বলেই সবাই ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন পত্রিকার পাতায় এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা ছাপা হওয়াতে অল্পতে আর পরিক্রম সীমাবদ্ধ থাকলো না। অপমানিত ওয়ার্নার এবার সাঙ্ঘাতিক বিব্রত হলেন। অস্ট্রেলীয় বোর্ড আর উডফুল হলেন হতভম্ব। ‘তথ্যপাচার’ এর চাইতেও বেশি আলোড়ন তুলল ‘গুপ্তচর’ তত্ত্ব; যার বদৌলতে সংবাদপত্রে খবরটি এসেছিল। প্লুমের এই অপমানকে ইংলিশ গণমাধ্যম জাতীয় অপমান ঘোষণা করল। আবারও শুরু হল পাল্টাপাল্টি তারবার্তা!

     

     

    ১৫.‘ওল্ডফিল্ডের খুলি’

     

    অ্যাডিলেড লিকের পর অস্ট্রেলীয় সাজঘরেও একটা থমথমে ভাব চলে আসে। উডফুল এই ঘটনার পর থেকে আর কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শী মাত্র ৫ জন থাকলেও সাজঘর লাগোয়া ব্যালকনিতে আরো খেলোয়াড় ছিলেন; যাদের পক্ষে উডফুলের উচ্চ কন্ঠ শোনা অসম্ভব ছিলনা। তবে কে পত্রিকায় এই খবরটা বলে দিয়েছিলেন সেটা আজো রহস্য। জ্যাক ফিঙ্গেলটন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই ঘটনার জন্যে ব্র্যাডম্যানকে দায়ী করেছেন। যদিও ব্র্যাডম্যান কখনোই সেটা স্বীকার করেন নি।

     

    লারউডের বলে আঘাত পেলেন ওল্ডফিল্ড

     

    ক্রিকেটের চাইতে অক্রিকেটীয় ঘটনায় উত্তপ্ত জনতা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠলো তৃতীয় দিন। এবার আঘাত পেলেন ওল্ডফিল্ড। লারউডের বাউন্সারে মাথায় চিড় নিয়ে তাঁর জায়গা হলো হাসপাতালে।

     

    ওল্ডফিল্ডের আউটের পর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন

     

    এই ঘটনা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড ইংল্যান্ডে আবারও তারবার্তা পাঠালো। অনুরোধ করল চেতনা বিরোধী এই কৌশল বন্ধ করতে। এমসিসি ফিরতি তারবার্তায় ছোট্ট করে উত্তর দিয়ে বলেছিল, ‘এখন থেকে খেলোয়াড়দের ইন্স্যুরেন্স দ্বিগুণ করা হল’! বডিলাইন নিয়ে আর একটি কথাও সেখানে ছিল না। গড়পড়তা ইংলিশদের মতো এমসিসি-ও বিশ্বাস করতো এসবই হচ্ছে ‘লুজার’ দের অহেতুক আস্ফালন!

     

    অ্যাডিলেড টেস্টসহ টানা তিন টেস্ট অনায়াসে জিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ ঘরে ফেরাল ইংল্যান্ড।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন