• রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
  • " />

     

    জাদুর বাক্স রেডিও ও একটি বিশ্বকাপ : তিতে

    শুধু একজন কোচ নন, তিতে যেন একজন দার্শনিক। তাঁর ফুটবল দর্শন, তাঁর ব্রাজিল, তাঁর বাবা-মা, করিন্থিয়ানস, রাশিয়া বিশ্বকাপ - সব আছে দ্য প্লেয়ারস ট্রিবিউনের লেখার এই সংক্ষেপিত অনুবাদে…*


    একটা রেডিওর গল্প বলি। শৈশবে এই রেডিও কেবলই একটা ছোট্ট কালো বাক্স ছিল না আমাদের কাছে, ছিল জাদুর বাক্স।

    আমার চামড়ায় এখন বয়সের ছাপ, কিন্তু গল্পটা আমার বেড়ে ওঠার সময়ের। আমাদের বাড়িতে তখন টেলিভিশন ছিলো না। আমার বয়স যখন তিন, কৃষক বাবা-মা একটু ভাল থাকতে শহরে চলে এলেন। বাবার চাকরি একটা ওয়াইন কারখানায়, মার সেলাইয়ের কাজ। মনে পড়ে, কখনও সোডা খেতে চাইলে মা বলতেন, “আচ্ছা বাবা, পাবে, একটু ধৈর্য ধরো।”

    দু’-তিনদিন অপেক্ষার পর সেই বিলাসিতার সোডা মিলতো। ওই এক বোতল সোডা যোগাড় করতেই হয়ত মা চার-পাঁচ ঘন্টা অতিরিক্ত খেটেছেন। অবশ্য এসব বোঝার বয়স তখন ছিল না। আমার কাছে তখন ওই সোডা হাতে পাওয়াটাi ছিলো জাদুর মতো; মা ছিলেন আমার কাছে জাদুকর।

    বাবা ছিলেন একটু অন্যরকম। চোখে চোখ রেখে সোজাসাপ্টা কথা বলতেন. আবার দু’-চার শব্দের কথাবার্তাও পছন্দ করতেন না, চোখের ইশারাতেই বলতেন সেসব। বাবার সাথে কথা হত শুধু ফুটবল নিয়ে।

    সত্তরের বিশ্বকাপ। খেলা শুরু হলে গোটা দেশ যেন থমকে যেতো। আমার বয়স তখন নয়, বাবার সাথে রেডিওর সামনে বসে ধারা-বিবরণী শুনতাম। আমার কাছে সেটা ছিল রোমাঞ্চকর গল্প। এক শিল্পের মতো, বিরাট কোনো চিত্রকর্ম কিংবা বড়সড় এক উপন্যাস। ব্রাজিল হয়তো আক্রমণে যাচ্ছে আর মাইক্রোফোনের সামনে বসা ব্যক্তিটি তাঁর কথামালা দিয়ে আমাদের মানসপটে পুরো দৃশ্যটা এঁকে দিচ্ছেন। এটা বলছি না, টেলিভিশনে ফুটবল দেখে মজা নেই। এই অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। তবে এখানে রহস্য ব্যাপারটা তেমন থাকে না, কল্পনারও কিছু নেই। তখন একটা রেডিওই ছিল আমাদের সবকিছু, প্রতিটা শব্দে বুঁদ হয়ে থাকার উপলক্ষ।

    উরুগুয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, প্রথমার্ধে ব্রাজিল মোটেও সুবিধে করতে পারছিলো না। পুরোটা সময় রেডিওর সামনে বসা আমি কতবার যে কল্পনায় জয়সূচক গোলটা দিচ্ছিলাম, তার হিসেব নেই। অবশেষে আসল সেই মুহূর্ত। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগ দিয়ে ভাষ্যকারের কন্ঠে ভর করল সব উত্তেজনা, “টোস্টাও... টোস্টাও থেকে ক্লোদোয়ালদো... ক্লোদোয়ালদোওওওওওওওওওওওওওওওও!!!!!” 

     

     

    মুহূর্তটা কেমন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল! শুধু আবেগের আতিশয্যে নয়, আমি কল্পনায় গোলের ছবিটা ঠিক আঁকতে পারছিলাম না। কারণ ভাষ্যকারের বর্ণনায় টোস্টাওয়ের পাস থেকে ক্লোদোয়ালদো গোল করেছে; কিন্তু ক্লোদোয়ালদো তো পুরোদস্তুর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, সে গোল করে কীভাবে! আবার টোস্টাও স্ট্রাইকার, সে-ই বা কেন নিজের জায়গা ছেড়ে চলে আসবে পাস দিতে? 

    পরদিন সকালে খবরের কাগজে প্রফেসর রুই কার্লোস ওস্টেরমানের বিশ্লে­ষণটা পড়ে দৃশ্যটা পুনরায় কল্পনা করে ছবিটা খুব পরিষ্কার আর সুন্দরভাবে ফুটে উঠল। সত্যি কথা বলতে, ঠিক মনে করতে পারি না ওই গোলের ভিডিও পরে কবে দেখেছিলাম। কিন্তু এর অনেক আগেই আমার এবং আমার মতো লাখো ব্রাজিলিয়ানের মানসপটে, যাদের তখনও টেলিভিশনে খেলা দেখার বিলাসিতা ছিলো না, ওই গোলের গল্পটা বেশ ভালোভাবে গেঁথে গিয়েছিলো। এরচেয়ে সুন্দর গল্প হতে পারে না!

    ****

    ছোটবেলায় নিয়মিত পত্রিকায় ব্রাজিলের ক্লাব গ্রেমিওর সম্ভাব্য ট্যাকটিকস নিয়ে প্রফেসর ওস্টেরমানের কলাম পড়তাম। ভাবতাম, “দারুণ তো! এখন কোচ কী করে সেটাই দেখার বিষয়।”

    মজার ব্যাপার, পরে আমি নিজেই যখন গ্রেমিওর কোচ হলাম, তখনও পত্রিকায় প্রফেসর সাহেবের কলাম পড়তাম। একইভাবে ভাবতাম, “কোচ এখন কী করে সেটাই দেখার বিষয়!”

    সত্যি বলতে কোচ হওয়ার স্বপ্ন আমি কখনও দেখিনি। সত্তরের বিশ্বকাপ দেখা আর দশটা ব্রাজিলিয়ান ছেলের মতো আমিও জাতীয় দলের ঐ হলুদ জার্সিটা গায়ে চড়াতে চাইতাম। দুর্ভাগ্য, আমার কপালে সেটা ছিলো না। হাঁটুতে সাতটা অস্ত্রোপচার নিয়ে আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলো ২৭ বছর বয়সেই। তখনও তো ফুটবলই আমার ধ্যানজ্ঞান, অগত্যা তাই কোচিংয়ের পথে হাঁটা।

    ভাবতে অবাকই লাগে, এই কাজটা ৩০ বছর ধরে করছি। খেলোয়াড়দের মতো কোচদের গল্পেরও কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। 

    আট বছর আগের একদিন যেমন আমি আবুধাবিতে, নিজের বাসায়। আমি তখন আল ওয়াহদা এফসির কোচ। সেদিনের একটা ফোনকল আমার জীবনের গল্পটা বদলে দিয়েছিলো। করিন্থিয়ানসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস সানচেজ বললো, ব্রাজিলে ফিরে করিন্থিয়ানসের দায়িত্ব নিতে। 

    আমার স্ত্রী ততোদিনে আবুধাবির জীবন উপভোগ করতে শুরু করেছে, মেয়েটাকেও স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা হয়ে গেছে। একরকম চাপমুক্ত সুন্দর জীবন, একদম নিখুঁত। 

    পরামর্শের জন্য স্ত্রীকে ব্যাপারটা জানাতেই মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে সে বললো, “অত সাতপাঁচ বুঝিয়ে কাজ নেই। আমি জানি তুমি ফিরে যাবেই।”

    ক’দিন বাদেই আমি সাও পাওলোর প্লেনে চড়ে বসলাম। বিমানে বসেই এই ভেবে রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম যে রোনালদো, রবার্তো কার্লোসের মতো কিংবদন্তিদের কোচ হতে যাচ্ছি। এ যে এক অবিশ্বাস্য সম্মানের ব্যাপার!

    প্রথম ক’টা মাসের অভিজ্ঞতা অবশ্য ছিলো ভয়াবহ। কোপা লিবের্তাদোরেসের বাছাইপর্বে টোলিমার বিপক্ষে সহজ এক ম্যাচ হেরে আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলাম। শেষ বাঁশির সাথে সাথেই আশেপাশের চোখগুলো যেন আমাকে বলে দিচ্ছিলো, ব্যস...তোমার দিন শেষ!

    সাও পাওলোতে ফিরে আসতেই আমাদের ট্রেনিং সেন্টারে হামলা হল, আমার গাড়ির ওপরও। খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা দিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে নিজের কথায় নিজেই যেন ভরসা করতে পারছিলাম না। 

    হামলায় শিকার গাড়িটা চালিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম, “কাল চাকরিটাই থাকবে তো?”

    অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, কঠিন চাপের মুখেও করিন্থিয়ানস আমার পাশ থেকে সরে দাঁড়ায়নি। ওই ঘটনার এক বছর বাদেই আমি আর আমার স্ত্রী সাও পাওলোতে আমাদের বাসায় বসে ওয়াইন পান করছিলাম। 

    ঘড়িতে ভোর চারটে, লিবের্তাদোরেস ট্রফি জিতে একটু আগেই বাড়ি ফিরেছি। কেন জানি না, তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এটা কি আদৌ আমাদের প্রাপ্য?” ঠিক তখনই বাইরে থেকে একটা শোরগোল কানে এলো, জানালার কাছে গিয়ে দেখি করিন্থিয়ানসের একদল সমর্থক নীচের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমার নাম ধরে গান গাইছে।
     
    এক বছরে কতকিছু বদলে যায়!

    ****

    ফুটবলে ভর করে যে বাঁচেনি, তাঁর জন্য এর আবেগটা বোঝা একরকম অসম্ভবই। গত বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলাটা আমি আর আমার স্ত্রী বাসায় বসে টিভিতে দেখছিলাম। জার্মানি ৪-০ গোলে এগিয়ে গেল, আর আমার স্ত্রী ভেঙে পড়ল কান্নায়। বোধহয় ব্রাজিল কোচের সহধর্মিণীর ভূমিকায় নিজেকে কল্পনা করে কান্না আটকে রাখতে পারেনি। সে জানত কেবল খেলোয়াড় আর স্টাফরাই নয়, এমন সময়গুলো তাঁদের পরিবারগুলোর জন্যও বড্ড কঠিন। 

    ৭-১ ব্যবধানের সেই হারের পর আমি নিজেকে ব্রাজিলের পরবর্তী কোচ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলাম। আমি আশা করছিলাম এবার আমার ডাক আসবে। কিন্তু যখন চাকরিটা পেলাম না, সত্যি বলতে ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছিলাম। সে সময় আমি মায়ের কথা ভাবতাম, যিনি আক্ষরিক অর্থেই একজন যোদ্ধা ছিলেন। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে লড়তে হবে। জানতাম ট্যাকটিকসের ব্যাপারগুলো আরও ভালো করে শিখতে হলে আর নিজের চিন্তাভাবনা আর দর্শনকে আরও প্রসারিত করতে আমাকে বিদেশে পাড়ি জমাতে হবে। পুরোনো নিজেকে পেছনে ফেলে তাই দেশ ছাড়লাম। আমার এই শিক্ষা সফরে খুব গুরুত্বপূর্ণ দু’জন মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। একজন মি. আনচেলোত্তি (স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ) এবং মি. বিয়ানচি (আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের সাবেক কোচ)। 

    করিন্থিয়ানসে আবার ফিরে গিয়ে আমার লক্ষ্য ছিল নতুন করে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ভেঙে আবার গড়া। আমাদের মূল চালিকাশক্তি ছিল বক্সের বাইরে থেকে পাওলিনহোর ক্ষিপ্রতার সাথে ভেতরে ঢুকতে পারাটা। ব্রাজিল দলে একটা কৌতুকও আছে এমন, “ঠিক আছে প্রফেসর, বল দখল করতে আমরা আমাদের সেরা চেষ্টাটাই করব। তবে যত চেষ্টাই করি না কেনো, পাওলিনহো কোত্থেকে উড়ে এসে গোল দিয়ে দেবে!”

    করিন্থিয়ানসে নতুন করে শুরুতে আক্রমণে গতি আনতে চেয়েছিলাম আমি। ২০১৫ সালের লিগ শিরোপাটা জিতে নিজের অন্যরকম গর্ব হচ্ছিলো তাই। 

    ****

    ২০১৬ সালের জুনে ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশন আমাকে ডেকে পাঠাল। জাতীয় দলের দায়িত নেওয়ার প্রস্তাবে প্রথমটায় অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়াল। বাছাইপর্বে ব্রাজিলের এমন অবস্থা, ইকুয়েডরের সাথে পরের ম্যাচটা হারলেই বিশ্বকাপ খেলা কঠিন হয়ে যাবে। টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে ফিরে গেলাম, লিবের্তাদোরেস কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার স্মৃতিটা ভয় ধরিয়ে দিল, “স্রেফ কল্পনা করো যে, দলটা ব্রাজিল আর টুর্নামেন্টটা বিশ্বকাপ...ওটাই যদি তোমার নিয়তি হয়ে থাকে তাহলে পরিণতিটা কী হবে একবার ভেবে দেখ!”

    পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সিদ্ধান্ত নিলাম, চাকরিটা নেবো না। কারণ এটা উপযুক্ত সময় নয়।

    কিন্তু তারপর আরও কিছু সময়ের জন্য ভাবনায় ডুবে গেলাম। মা-বাবার কথা মনে পড়লো, রাত তিনটার সময় সেলাই মেশিনের সামনে বসে থাকা মায়ের ছবিটা মনের পর্দায় ভেসে উঠলো। কল্পনায় দেখতে পেলাম বাবার সাথে বসে রেডিওতে জাতীয় দলের খেলার রোমাঞ্চকর ধারাভাষ্য শুনছি। নিজেকে বললাম, “এই দিনটার জন্য তুমি নিজে এতদিন লড়াই করেছো, তোমার মা-বাবা লড়েছেন। এখন তোমার স্বপ্নটা সত্যি করার এমন সুযোগ হাতছাড়া করবে!”

    অনেক বড় সম্মান আর দায়িত্ব হিসেবে চাকরিটা নিয়ে নিলাম। 

    সব ফুটবলারের সঙ্গে আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম। মার্সেলো ফোনে আমাকে কী বলেছিল, ভুলব না। দলে ছিল না তখন ও, তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে অসুস্থ কিনা। সে জবাব দিয়েছিল, “শুনুন প্রফেসর, সেই সতেরো বছর বয়স থেকে জাতীয় দলে খেলি। জুনিয়র থেকে সিনিয়র হয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত যখনই জাতীয় দলে খেলার জন্য ডাক পাই, আমার পরিবার ভীষণ, ভীষণরকম খুশী হয়। ব্রাজিলের জন্য খেলাটা অবশ্যই অন্যরকম সম্মানের। আমাকে যখনই ডাকবেন তখনই প্লে­নে চড়ে বসবো, তা আমি যে অবস্থাতেই থাকি না কেন।” 

    ইকুয়েডরের বিপক্ষে ওই ম্যাচটা পুরো দলকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। আমরা গোল করতে পারছিলাম না প্রথমার্ধে। মনে পড়ে যাচ্ছিলো ‘৭০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের কথা, যখন রেডিওর সামনে বসে আমি কল্পনায় অগুনতিবার জয়সূচক গোল দিচ্ছিলাম। অবশেষে পেনাল্টি থেকে নেইমারের গোলে সব সহজ হয়ে গেল, আমরা ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লাম। আমার মনে হয় না ঐ মুহূর্ত থেকে আমরা এতোটুকু পিছিয়ে গেছি।

    ঐ ম্যাচের পর আমরা সবাই ড্রেসিং রুমে ফিরে একসাথে জড়ো হয়ে প্রার্থনার প্রস্তুতি নিতেই লক্ষ্য করলাম, স্টাফদের অনেকে এমনকি নিরাপত্তা রক্ষীও রুম ছেড়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, “কেউ যাবে না, এটা সবার জন্য। এসো সবাই মিলে প্রার্থনা করি।”

    সে এক অসাধারণ আবেগঘন মুহূর্ত ছিলো আমাদের জন্য।

    ****

    বাবা মারা যাওয়ার পর পর মা আমাকে বাবার বলা কিছু কথা বলেছিলেন। এসব কথা ছেলেদের সঙ্গে তিনি কখনোই বলতেন না। কিন্তু মাকে একদিন আমার কথা বলেছিলেন, “ও সেরাদের একজনই হবে।”

    আমার কাছে এই একটি কথা আমার জেতা যে কোনো ট্রফির চেয়েই বেশি কিছু। আমার খুব মনে হয়, আজ যদি বাবা বেঁচে থাকতেন তাঁর ছেলেকে বিশ্বকাপে দেখার জন্য!

     

     

    কেবল ঈশ্বরই জানেন রাশিয়ায় কী হবে! কিন্তু আমি আশা করি, গোটা ব্রাজিল আমাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকবে। আমি জানি এই প্রজন্মের জন্য টেলিভিশন অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই, আমরা যখন খেলবো, লাখো ব্রাজিলিয়ান শিশু-কিশোর রেডিওর সামনে বসে থাকবে; কল্পনায় জয়সূচক গোল দেবে, বারবার, অসংখ্যবার। 

     

    সত্তরে এটা আমার জন্য কাজে দিয়েছিল। ঠিক জাদুর মতো! 


    *লেখাটি প্যাভিলিয়নের বিশ্বকাপ ম্যাগাজিন কিক-অফে প্রকাশিত
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন