• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ফন গালের "প্রতিদানের" সময়

    ৮ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম। প্যাভিলিয়নে শুরু হয়েছে বড় দলগুলোর প্রাক মৌসুম বিশ্লেষণ। দ্বিতীয় পর্বে আজ থাকছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শক্তি ও সম্ভাবনার খতিয়ান।

     


    প্রথম পর্ব - অগ্নিপরিক্ষায় উৎরাতে পারবেন রজার্স ?


     

    “এখন, নয়তো কখনোই নয়”- লুই ফন গাল নিশ্চয় এই মন্ত্রটাই খেলোয়াড়দের কানে জপ দিচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ এর মধ্যেই ২৩ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ করে ফেলেছেন। প্রথম মৌসুমে কোনো শিরোপা দূরে থাক, ফন গালের ইউনাইটেড লিগই শেষ করেছে চারে। কিন্তু ডেভিড ময়েসের দুঃস্বপ্নের অধ্যায়ের পর সেটাকেই সাফল্য হিসেবে ধরেছেন অনেকে। নতুন মৌসুমে সেই “বিলাসিতা” করার সুযোগ ফন গাল পাবেন না। লিগ না হোক, অন্তত কোনো একটা শিরোপা না পেলে সেটা ব্যর্থতা হিসেবেই ধরা হবে। কে জানে, তখন বহিষ্কারের খড়গটাও কোচের ওপর নেমে আসতে পারে।

     

    এখন পর্যন্ত ইউনাইটেডের প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি অবশ্য আশার আলোই দেখাচ্ছে। ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে হারানোটা ইউনাইটেডের আত্মবিশ্বাসের পালে বেশ খানিকটা হাওয়াই দেবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, গত মৌসুমেও টানা পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছিল ইউনাইটেড। বাকি ইতিহাসটা সবারই জানা। ফন গাল তাই ফাঁক ফোঁকরগুলো এবার ঠিকঠাক করার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে উত্তর খুঁজতে হবে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের

     

    ডি গিয়া কি থাকছেন?

     

    প্রশ্নটা আর কয়েকদিন পরেই হয়তো এভাবে বদলে যাবে- ডেভিড ডি গিয়ার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন? ইউনাইটেড গোলরক্ষক রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাচ্ছেন, গুঞ্জনটা ফেনিয়ে উঠতে উঠতে এখন অনেকটাই থিতিয়ে পড়েছে। ডি গিয়া ইউনাইটেড ছাড়তে যান, সেটা একরকম “ওপেন সিক্রেট।” তবে ফন গাল তাঁকে আরও এক মৌসুমের জন্য ক্লাবে ধরে রাখার সব চেষ্টাই করছেন। গত মৌসুমে ইউনাইটেডের সেরা খেলোয়াড়কে কিনতে রিয়ালও একরকম মরিয়াই। অবস্থাদৃষ্টে, কিনতে হলে রিয়ালকে মোটা অংকের টাকাই খসাতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো একজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়াও বিচিত্র নয়।

     

    কিন্তু ডি গিয়া যদি আসলেই চলে যান, তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন? এই মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে ভিক্টর ভালদেস তো আছেনই, কদিন আগে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সার্জিও রোমেরো। সাম্পদোরিয়া অবশ্য রোমেরোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি, ক্লাব পর্যায়ে তাঁর ফর্মটাও বড় গলায় বলার মতো নয়। ডি গিয়ার জায়গায় রোমেরোকে ভাবা একটু কষ্টকরই। সেক্ষেত্রে ভালদেস চলে গেলে হয়তো ফন গাল লরিস বা চিলেসেনদের কাউকে আনতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে ডি গিয়াকে আরেক মৌসুম রেখে দিতে পারলে সেটা হবে আরেকটা বড় সাইনিংয়ের মতোই।

     

    রক্ষণ কি যথেষ্ট অভিজ্ঞ?

     

    খুব সম্ভবত, এটাই ইউনাইটেডের “অ্যাকিলিস হিল”। প্রাক মৌসুম প্রস্তুতিতে জোন্সদের দুর্দশাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ইউনাইটেডের একজন বিশ্বমানের সেন্টার ব্যাক কতটা দরকার। জোন্স, স্মলিং, রোহোদের ওপর খুব বেশি ভরসা করা যে সুবিবেচক কিছু হবে না, সেটা গত মৌসুমেই দেখা গেছে। সার্জিও রামোসও অনেকক্ষণ হলুদ বাতি জ্বালিয়ে রাখার পর শেষ পর্যন্ত লাল বাতিই দেখিয়ে দিয়েছেন। নিকোলাস ওটামেন্ডির আসাটাও এখন অনিশ্চিত। কিন্তু যদি শেষ পর্যন্ত কাউকেই না কেনা হয়, সেক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ কোন জোড়া হবে?

     

    প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি অবশ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, জোন্সের ওপর খুব ভরসা হয়তো ফন গাল করবেন না। সেক্ষেত্রে ডান পায়ের স্মলিংয়ের সাথে বাঁ পায়ের রোহো বা ব্লিন্ডের কেউ জুটি বাঁধতে পারেন। ব্লিন্ড অবশ্য রক্ষণের বাঁ দিকেও বিকল্প। লুক শ প্রথম মৌসুমে তেমন আলো ছড়াতে পারেননি, তবে এবার তাঁর ওপর প্রত্যাশাটাও অনেক বেশি থাকবে।

     

    ডানদিকে আছেন গত মৌসুমে সিরি-এ তে আলো ছড়ানো মাত্তেও ডারমিয়ান। ফন গাল অবশ্য বলেছেন, আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়াই প্রথম পছন্দ, দারমিয়ানকে যোগ্যতা দিয়েই দলে নিজের জায়গা করতে হবে। প্রাক মৌসুম প্রস্তুতির পর সম্ভবত দারমিয়ান সেই কাজটা অনেকটাই করে ফেলেছেন।

     

    মধ্যমাঠের মধুর সমস্যা

     

    গত মৌসুমে ফন গালকে মধ্যমাঠের পছন্দ বেছে নিতে মাথা কুটেই মরতে হয়েছিল। কিন্তু এবার কাকে ফেলে কাকে নেবেন, এই দোটানায় পড়তে হতে পারে। কয়েকদিন আগেই ফন গাল বলেছেন, এবার ৪-৩-৩ ফর্মেশনটাই বেছে নিতে চান। সেক্ষেত্রে মধ্যমাঠের তিন পাণ্ডব কারা হবেন ?

     

    এই মৌসুমে যে দুইজন এসেছেন, তারা দুজনেই যোগ্য দাবিদার। বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগারকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। জার্মান অধিনায়কের সামর্থ্য প্রশ্নাতীত, সংশয় শুধু চোট। গত কয়েক মৌসুমেও পুরো ফিট শোয়েইনিকে বলতে গেলে বায়ারন পায়ইনি। এবারও কতটা চোটমুক্ত থাকতে পারেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।

     

    মরগান স্নেইডারলিনের ক্ষেত্রে সেরকম কোনো প্রশ্ন অবশ্য নেই। ফ্রেঞ্চ এই মিডফিল্ডার এবার ইউনাইটেডের “সাইনিং অব দ্য সিজনও” হতে পারেন। প্রাক মৌসুমেই দেখিয়েছেন, কেন তাঁর ওপর ভরসা করা যায়। তবে গত মৌসুমের মধ্যমাঠের একমাত্র একমাত্র ভরসা মাইকেল ক্যারিক হয়তো তাঁর জায়গা ধরে রাখবেন। সেক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে স্নেইডারলিন হয়তো খেলতে পারেন। তবে খুব সম্ভবত ফন গাল এই তিনজনের যে কোনো দুইজনকে বেছে নেবেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তৃতীয়জন কে হবেন ?

     

    এখন পর্যন্ত দৌড়ে অ্যান্ডার হেরেরাই বোধহয় এগিয়ে আছেন। গত মৌসুমে খুব বেশি সুযোগ পাননি, কিন্তু স্প্যানিশ মিডফিল্ডার তাতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। এই মৌসুমে ইউনাইটেডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও হয়তো হতে পারেন।

     

    আক্রমণে বিশ্বমানের অভাব ?

     

    কদিন আগেই ফন গাল বলেছিলেন, তাঁর দলে বিশ্বমানের একজনের দরকার। তখনও হয়তো জানতেন, আনহেল ডি মারিয়ার বিদায়টা সময়ের ব্যাপার। গত মৌসুমের রেকর্ড সাইনিংয়ের ইউনাইটেড-অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে এবারই। মেমপিস ডিপাইয়ের বিশ্বমানের হওয়ার সামর্থ্য হয়তো আছে, কিন্তু প্রথম মৌসুমেই সেরকম কিছু আশা করাটা হবে বাড়াবাড়ি। হুয়ান মাতাও অনেক ঝড় ঝাপটা সামলে এবার থিতু হতে চাইবেন। কিন্তু ইউনাইটেডের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ওয়েইন রুনি কি গোল কররা ভারটা একাই বইতে পারবেন ?

     

    প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি অবশ্য আশার আলো দেখাচ্ছে না। রুনি একদমই বিবর্ণ ছিলেন, বিকল্প বলতে শুধু ধার কাটিয়ে ফেরা চিচারিতো। ফন গাল হয়তো একজন স্ট্রাইকার খুঁজছেন , কিন্তু সেই “সারপ্রাইজটা” কে ?

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন