• ক্রিকেট

এক মেরুতে মুশফিক-মোস্তাফিজ, আরেক মেরুতে শান্ত-মুমিনুল

তিনজনের অভিষেক। দুইজনের চোট নিয়ে ঘরে ফেরা। টপ অর্ডার সামাল দিতে দুইজনকে নিয়ে যাওয়া। সমস্যা এসেছে একের পর এক। সেসব সমাধান করতে হয়েছে সীমাবদ্ধ সম্পদে। এশিয়া কাপ বাংলাদেশের জন্য ঘটনাবহুল। এরই মাঝে কেউ পারফরম্যান্সের সেরাটা দিয়েছেন, কেউ ব্যর্থ সুযোগ লুফে নিতে। দশের ভেতরে নম্বর দিলে কে কতো পাবেন? 


৮.৫

মুশফিকুর রহিম (৬০.৪০ গড়ে ৩০২ রান, ৬ ক্যাচ)

ক্যারিয়ারে এক সিরিজে এর আগে কখনও ৩০০ রান করেননি মুশফিক। তবে মুশফিক এশিয়া কাপকে স্মরণীয় করে রাখতে সংখ্যা ছাপিয়ে খেলেছেন দুর্দান্ত দুটি ইনিংস। 

প্রথম ম্যাচে ১ রানে ২ উইকেট পড়ার পর ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ১৪৪ রান, সুপার ফোরের পথ করে দিয়েছে সেটিই। পাকিস্তানের বিপক্ষে “সেমিফাইনাল”-এ মুশফিক আবারও নিজেকে পেয়েছেন দলের একই অবস্থায়, আবারও পুনরাবৃত্তি করেছেন সেই পারফরম্যান্সের। দুটিতেই হয়েছেন ম্যাচসেরা। এশিয়া কাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ফাইনালে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে নিঃসন্দেহে এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সেরা পারফর্মার তিনিই। চোটের চোখ রাঙানি ছিল, তবে মুশফিক জ্বলে উঠেছেন আরও প্রবলভাবে।  

 

মোস্তাফিজুর রহমান (১৮.৫০ গড়ে ১০ উইকেট) 

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথম ব্রেকথ্রু- মোস্তাফিজ। আফগানিস্তানের সঙ্গে শেষ ওভারে ৭ রান ডিফেন্ড করা- মোস্তাফিজ। তিনি সেটি করেছিলেন আবার চোট নিয়েই। পাকিস্তানের সঙ্গে এরপর নিলেন ৪ উইকেট। ফাইনালে করলেন কিপটে বোলিং। এশিয়া কাপে মোস্তাফিজ যেন উড়িয়ে দিলেন তাকে ঘিরে থাকা সংশয়। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া বল, পেসে পরিবর্তন, অড-বাউন্সার, আবার ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেংথ ঠিক রাখা- মোস্তাফিজ ছিলেন চোখের শান্তি। আর ছিলেন মাশরাফির সবচেয়ে বড় অস্ত্র। 

 

৭.৫

মেহেদি হাসান মিরাজ (২২ গড়ে ১১০ রান, ৪২.৭৫ গড়ে ৪ উইকেট) 

ফাইনালের আগে ওয়ানডেতে প্রথম পাওয়ারপ্লে-তে কখনও ব্যাটিং করেননি মিরাজ। অধিনায়কের কথা শুনে তিনি নেমে গেলেন ওপেনিংয়ে। ভুবনেশ্বর কুমার-জাসপ্রিত বুমরাহকে সামাল দিলেন দারুণভাবে, অন্যদিকে লিটনের দুর্দান্ত শুরুর পূরক হয়ে ধরে রাখলেন উইকেট। এশিয়া কাপে মিরাজ তার ব্যাটিং সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ভালভাবেই। ভারতের সঙ্গে সুপার ফোরের ম্যাচে নয়ে নেমে ৫০ বলে ৪২ রান করে ইনিংস দীর্ঘায়িত করেছিলেন বাংলাদেশের। বোলিংয়ে গড়টা বেশি, তবে মিরাজ উইকেট নেওয়ার চেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন আঁটসাঁট বোলিংয়ের, এই টুর্নামেন্ট যেটা দাবি করছিল। বোলিং ওপেন করেছেন, পাওয়ারপ্লেতে করেছেন নিয়মিতই। তবুও তার ইকোনমি ৩.৫৬। ফাইনালে বোলিংয়ে ম্লান ছিলেন, সেটা না হলে হয়তো মিরাজের জন্য এই সিরিজ হতো আরও বড় প্রাপ্তির!

 

 


৭ 

রুবেল হোসেন (২২.৫০ গড়ে ৫ উইকেট) 

ফাইনালে রুবেল ছিলেন দুর্দান্ত। ২২২ রানের সম্বল নিয়ে বাংলাদেশ গেছে শেষ বল পর্যন্ত, তাতে দারুণ অবদান রুবেলের নিঁখুত লাইন-লেংথের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্রেকথ্রু। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রুবেলের পারফরম্যান্সও ম্যাচ জেতাতে পারেনি, লিটনের মতো তারও টুর্নামেন্ট-সেরা দিনটা গেছে পরাজয়ের কবলেই। আফগানিস্তানের সঙ্গে মোস্তাফিজ-ম্যাজিকে জিতেছিল বাংলাদেশ, তবে সেদিন না খেলা রুবেলকে ডেথ-ওভারে মিসই করেছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই বাংলাদেশ খেলিয়েছে তিন পেসারকে, রুবেলও তার প্রতিদান দিয়েছেন ভালভাবেই। ক্যারিয়ার গড় ৩২.৫১ থেকে এশিয়া কাপে নেমে এসেছিল ২২.৫০-তে, আর ৫.৫৮ ইকোনমির রুবেল এখানে বল করেছেন ওভারপ্রতি ৪.০৯ হারে রান দিয়ে। 

 


৬.৫

মাহমুদউল্লাহ (২৬ গড়ে ১৫৬ রান, ৩১ গড়ে ৩ উইকেট) 

এশিয়া কাপ মাহমুদউল্লাহর জন্য পুরোনো সময়ে ফিরে যাওয়ার মতো। ছয়-সাতে নামতে হয়েছে তাকে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এক ম্যাচে নেমেছিলেন ছয়ে, এছাড়া শেষ ছয়ে খেলেছিলেন গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে)। সাতে নেমেই আফগানিস্তানের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ উঠেছিলেন শিখরে। দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ৭০+ ইনিংসের পর বোলিংয়ে নিয়েছেন উইকেট। পাকিস্তানের সঙ্গেও খেলেছেন সাতে, ২৫ রানের ইনিংসটা বাংলাদেশকে দিয়েছিল ‘বুস্ট-আপ’। সাকিব ছিলেন না বলে পঞ্চম বোলারের ভূমিকা নিতে হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ-সৌম্যকে। মাহমুদউল্লাহ দুর্দান্ত বোলিং করলেন, মাশরাফি তাকে দিয়ে করালেন ১০ ওভারই। তবে মুশফিকের মতো তিনিও দোষী ফাইনালে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার দোষে। 

মোহাম্মদ মিঠুন (২২.৮৩ গড়ে ১৩৭ রান) 

দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওপেনিং দুঃস্বপ্নটা মিঠুন ভুলেছেন এ সিরিজ দিয়ে। খেলেছেন পাঁচে, দুইবার মুশফিকের সঙ্গে ম্যাচ-বাঁচানো জুটিতে নিজে করেছেন ফিফটি। আফগানিস্তানের সঙ্গে এক ম্যাচে তিনে পাঠানো হয়েছিল, মিঠুনের ক্ষেত্রে সেটা ব্যাকফায়ারই করেছে। ইনিংসের শুরুতে নড়বড়ে ছিলেন প্রতিবারই, তবে থিতু হওয়ার পর মিঠুন খেলেছেন পরিস্থিতি বুঝেই। ফাইনালে ধসের মিছিলে সামিল হয়েছিলেন, তবে পাঁচ নম্বরে নিজের দাবিটা জানিয়েছেন ভালভাবেই। 

সাকিব আল হাসান (১২.২৫ গড়ে ৩২ রান, ২৪.৫৭ গড়ে ৭ উইকেট) 

এশিয়া কাপ খেলাটা শেষ পর্যন্ত হয়ে গেছে বুমেরাং। চোট নিয়ে খেলে গেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৯ রানের বিপর্যয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান ছিল তার, তার আগে সে ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ভারতের সঙ্গে দারুণ শুরুর পরও মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে করেছিলেন দারুণ বোলিং। পাকিস্তানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারলেন না। ফাইনালেও তার বোলিংটা বড্ড মিস করেছে বাংলাদেশ। তবে সাকিবের সেখানে কিইবা করার ছিল! 

 

 

লিটন দাস (১৮১ রান, গড় ৩০.১৬, ২ ক্যাচ, ৩ স্টাম্পিং) 

একটা বড় ইনিংস দরকার ছিল। লিটন সেটা করেছেন ফাইনালে, ভারতের শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপের বিপক্ষে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটা রুপান্তরিত করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে। তার ইনিংস ম্যাচের প্রথমভাগে বেশ চাপে রেখেছিল ভারতকে। ৬ ম্যাচে চারটি ভিন্ন ওপেনিং জুটি দেখেছে বাংলাদেশ, অবশ্য সবগুলিতেই ছিলেন লিটন। ১, ১৫, ১৫, ১৬, ৫- প্রথম ৫ ম্যাচে ওপেনিং জুটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বিভীষিকা। এই পাঁচ ইনিংসে লিটন প্রথমে আউট হয়েছেন দুইবার। শেষ ইনিংসে ১২১ রানটা লিটনের টুর্নামেন্টের গড়কে নিয়ে গেছে ১২ থেকে টেনে ৩০.১৬ পর্যন্ত। শেষটা ভাল কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছে, সঙ্গে তামিমের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে নিজের জায়গাটা স্থায়ী করারও জোরালো একটা দাবি ফাইনালে এসে দিয়েছেন এই ডানহাতি। 


৫.৫

ইমরুল কায়েস (৮৩ রান, ৪১.৫ গড়) 

ওপেনিং দুর্দশা মেটাতে গিয়ে অন্য পজিশনে খেলা দুই ব্যাটসম্যানের একজন তিনি। প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন আফগানিস্তানের সঙ্গে, ৮৭ রানে ৫ উইকেট যাওয়ার পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার ১২৮ রানের জুটিতে জেতার মতো স্কোর গড়েছিল বাংলাদেশ। ছয়ে খেলেছিলেন, যে পজিশনে ইমরুল খেলেননি আগে কখনোই। পরের ম্যাচেও সে পজিশনেই নেমেছিলেন, তবে হয়েছেন ব্যর্থ। ফাইনালে লিটন-মিরাজের দারুণ ভিতের ওপর এসেছিলেন তিনে খেলতে, তবে ১২ বলে ২ রান করে এই মঞ্চে নিজেকে আগন্তুক প্রমাণ করেছেন প্রায় এক বছর পর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসা ইমরুল। 

নাজমুল ইসলাম (৮৫ গড়ে ১ উইকেট), আবু হায়দার রনি (২৫ গড়ে ২ উইকেট) 

দুজনেরই অভিষেক হয়েছে এই টুর্নামেন্টেই। রনি সুযোগ পেয়েছিলেন আফগানিস্তানের সঙ্গে “ডেড-রাবার”-এ, শুরুটা দারুণ করলেও শেষের স্পেলে বিলিয়েছেন রান। পরে আর সুযোগ হয়নি তার। তবে ইনিংসের শুরুতে পিচ থেকে একটু সহায়তা পেলে ভাল কিছু করার ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি। নাজমুল অবশ্য খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচ। আফগানিস্তানের সঙ্গে বাঁচা-মরার সুপার ফোরের ম্যাচে রান চেক দিয়েছিলেন দারুণভাবে, উইকেট না পেলেও ইকোনমি রেট ছিল ৩.৬২। অবশ্য ফাইনালে এসে ম্লান হয়ে গেছেন তিনি, একটি উইকেট পেলেও আরেক স্পিনার মিরাজের মতো তিনিও এদিন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধরে রাখতে পারেননি লাইন-লেংথ। 

 

২.৫

সৌম্য সরকার (৩৩ রান, ১৬.৫ গড়, ১৯ গড়ে ১ উইকেট) 

ফর্মের সঙ্গে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই। এশিয়া কাপের স্কোয়াডেও ছিলেন না অনুমিতভাবেই। হুট করেই ডেকে পাঠানো হলো, প্রথম ম্যাচেই ৫ বলের শূন্যতে সৌম্য বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখনও ফেরার জন্য প্রস্তুত হতে পারেননি। ফাইনালে সৌম্যকে পাঠানো হলো সাতে, ক্যারিয়ারে এর আগে তিনের নিচে কখনোই ব্যাটিং করেননি তিনি। সৌম্য চেষ্টা করে গেলেন, তার ৩৩ রানের ইনিংস না হলে ধসটা আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারতো বাংলাদেশের ইনিংসে। পাকিস্তানের সঙ্গে ৫ ওভার বোলিং-ও করেছেন মিডিয়াম পেসে, নিয়েছেন ১ উইকেট।

মোসাদ্দেক হোসেন (১৯.৫০ গড়ে ৩৯ রান, ২৬ গড়ে ১ উইকেট) 

দলের কম্বিনেশনের সঙ্গে প্রথম তিন ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স- জায়গা হারিয়েছেন মোসাদ্দেক। লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং, সঙ্গে বোলিং- মোসাদ্দেক উজ্জ্বল ছিলেন না তিন ম্যাচের একটিতেও। 

মুমিনুল হক (৭ গড়ে ১৪ রান, ০ উইকেট) 

এশিয়া কাপ ছিল মুমিনুলের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় জন্ম। চোটগ্রস্থ দলের “ব্যাক-আপ” হিসেবে গিয়েছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর সুযোগ পেলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে মুশফিকের বিশ্রামে। মুমিনুল সুযোগটা নিতে পারেননি। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সেমিফাইনাল’-এ সাকিবের চোট দিল আরেকটা সুযোগ। মুমিনুল নিতে পারেননি সেটাও। আরেকটা সুযোগ কি সামনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই পাবেন মুমিনুল? নাকি আরেকবার ওয়ানডেতে ‘জন্ম’ নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাকে? 

নাজমুল হোসেন শান্ত (৬.৩৩ গড়ে ২০ রান) 

লোয়ার অর্ডারে খেলানো হতে পারে- এমন ভেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। তামিমের চোটে পাঠানো হলো ওপেনিংয়ে। টেস্ট অভিষেক হয়েছিল আচমকা, কোনও রকমের প্রস্তুতি ছাড়াই। ওয়ানডেতেও শান্তর শুরুটা হলো অস্বস্তিকর। তিন ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন, তিনবারই উইকেট বিলিয়ে এসেছেন নিয়ন্ত্রণহীন আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে। আগের প্রিমিয়ার লিগে বড় ইনিংস খেলেছিলেন, তবে আন্তর্জাতিকের শুরুতে গুলিয়ে গেছে সব। শান্তর জায়গায় পরে খেলানো হয়েছে দেশ থেকে ‘জরুরী ভিত্তিতে’ উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সৌম্য সরকার ও ‘জরুরী অবস্থায় বনে যাওয়া ওপেনার’ মেহেদি হাসান মিরাজকে। ব্যাটিং পজিশনটাই কি কাল হয়ে দাঁড়ালো শান্তর? 

 


মাশরাফি বিন মুর্তজা 

প্রথম ম্যাচেই ছিটকে গেলেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান। চোটের মিছিলে সামিল হলেন সেরা অলরাউন্ডার, আরেক সেরা ব্যাটসম্যান। আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে চোটগ্রস্ত মোস্তাফিজের কাছ থেকে বের করে আনতে হলো সেরাটা। টানা সূচির ধকল গেল, সঙ্গে একদম বিরুদ্ধ কন্ডিশন। ওপেনিংয়ের সমস্যা, টপ অর্ডারের ধস। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছিল অনেক কিছু। এতোকিছুর পরও দলের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনলেন তিনি। নিলেন অদ্ভুত সব সিদ্ধান্ত, যেসব কাজে লাগলো দারুণভাবে। পাকিস্তানের সঙ্গে কার্যত সেমিফাইনাল-এ নিজের ট্যাকটিকসে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরলেন, সেই জাদুকরী ক্যাচের কথাটাও স্মরণ করুন একবার এই সুযোগে। বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রুগুলোর কথাই বা কিভাবে ভুলবেন! ফাইনালে ২২২ রানের সম্বল নিয়ে গেলেন শেষ বল পর্যন্ত। ফিল্ডিং সেটিং, বোলিং পরিবর্তনে তিনি ছিলেন অনন্য। মাশরাফি বিন মুর্তজা হয়তো শিরোপাটা জিততে পারলেন না শেষ পর্যন্ত, তবে এ টুর্নামেন্টে জিতলেন তো অনেক কিছুই। 


এবং নম্বরের সাধ্য শেষ যেখানে

৩ বল ২ রান, তামিম ইকবাল- রিটায়ার্ড হার্ট। বাংলাদেশ, ২২৯/৯। তামিম ইকবাল, এক হাতে এক বল। তামিম, ৪ বলে অপরাজিত ২ রান। বাংলাদেশ, ২৬১। তামিম- ইতিহাস!