• ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ
  • " />

     

    • ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

    ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাকশনে তোলপাড় ভারতীয় স্পিনারের

    বল করতে আসছিলেন বাঁ হাতে। হঠাৎ করে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে ঘুরতে বল ডান হাতে নিলেন। এরপর আবার বাঁ হাতেই আবার করলেন বল। ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা সিকে নাইড়ু ট্রফির উত্তর প্রদেশে-বাংলার ম্যাচে আজ এই অ্যাকশনে বল করে হইচই ফেলে দিয়েছেন শিভা সিং। তবে তার চেয়েও বড় বিতর্ক হয়েছে আম্পায়ার ডেড বল সংকেত দেওয়ায়। প্রশ্ন উঠেছে, এমন অ্যাকশন আসলেই বৈধ কি না?

    শিভা সিং একেবারে অপরিচিত বোলার নন, ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন। আর এই ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাকশনও নতুন নয়, বিজয় হাজারে ট্রফিতেও এমন করেছিলেন বলে দাবি শিভার। ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ওই সময় আম্পায়ার তাঁর বল ডেড হিসেবেও রায় দেননি। কিন্তু এবার আর সেটা হয়নি। আম্পায়ার বিনোদ শেহান বৈধ বলের সংকেত দেননি। শুরুতে ডেড বল দেওয়ার পর অন্য প্রান্তের আম্পায়ারের সাথে বেশ কিছুক্ষণ আলাপও করেছেন। শেষ পর্যন্ত বহাল রেখেছেন আগের সিদ্ধান্তই।

    কিন্তু ক্রিকেটীয় আইন কী বলে? এমসিসির রুল বুকে বলা আছে, যদি কোনো বোলার বল করার সময় ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু করেন বা ব্যাটসম্যানের শট খেলার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন তাহলে সেটা ডেড বল হিসেবে রায় দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শিভা কি আসলেই বিভ্রান্তি তৈরি করেছিলেন? বিশেষ করে ব্যাটসম্যান অধ্যুষিত এই ক্রিকেটে যখন সুইচ হিটের মতো শট বৈধতা পেয়ে যায় তখন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আম্পায়ার সাইমন টফেল অবশ্য মনে করছেন, সুইচ হিটের সঙ্গে ৩৬০ ডিগ্রি বোলিংয়ের তুলনা করা ভুল। তাঁর মতে, শিভার ক্ষেত্রে ৩৬০ ডিগ্রি বল বোলারের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা এনে দেয় না। এটা শুধু ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করার একটা কৌশল। অন্যদিকে সুইচ হিট পুরোপুরি আলাদা একটা শটই। টফেল বলছেন, শিভার বলটা ডেড ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত তাঁর মতে ঠিকই আছে।

    তবে বিতর্ক তো থেমে থাকছে না তাতে। শিভা যেমন বলছেন, এর আগে বিজয় হাজারে ট্রফিতে যখন এটা করেছিলেন তখন তো তাঁর বল ডেড ঘোষণা করেনি আম্পায়ার। বাংলার একজন ব্যাটসম্যানও ক্রিকইনফোকে বলেছেন, শিভার ওভাবে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ায় শট খেলতে তাঁর আলাদা করে কোনো সমস্যা হয়নি।

    কিন্তু দিন শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো আম্পায়ারদের হাতে!