• ইংল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর ২০১৮
  • " />

     

    বেইরস্টোর অনেক প্রমাণের দিন

    কলম্বো টেস্ট
    প্রথম দিন, স্টাম্পস
    ইংল্যান্ড ৩১২/৭ (বেইরস্টো ১১০, স্টোকস ৫৭, সান্দাকান ৪/৯১)


    জনি বেইরস্টোর প্রত্যাবর্তন-সেঞ্চুরিতে কলম্বোতে তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন ৩১২ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে অন্য ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সেভাবে, বেইরস্টো যেটা লুফে নিয়েছেন দুহাতে। 

    সীমিত ওভারের সিরিজের সময় পাওয়া চোট থেকে সেরে উঠেছিলেন, তবে দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পাননি। বেইরস্টো বাইরে বসেই দেখেছেন বেন ফোকসের নায়ক হয়ে ওঠা, কিপিং গ্লাভস নেওয়া। কলম্বোতেও অবশ্য গ্লাভস পাচ্ছেন না বেইরস্টো, স্যাম কারানের চোটে তিনি সুযোগ পেয়েছেন বাড়তি ব্যাটসম্যান হিসেবে। এর আগে কখনও ছয়ে ওপরে ব্যাটিং করেননি, এবার তাকে নামতে হলো তিনে। দলে একটা জায়গা শুধু নয়, তিনে ইংল্যান্ডের শেষ না হওয়া সমস্যার দারুণ সমাধানেরও যেন ইঙ্গিত দিলেন তিনি এ জায়গার দাবিটা জোরালো করে। 

    টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন জো রুট, ররি বার্নস ও কিটন জেনিংসের ওপেনিং জুটি অবশ্য ম্লান ছিল এদিন। দিলরুয়ান পেরেরাকে ব্যাকফুটে গিয়ে জোরের ওপর কাট করতে বোল্ড বার্নস, মালিন্দা পুস্পকুমারাকে প্যাডের ওপর থেকে ফ্লিক করতে গিয়ে শর্ট লেগে ধরা পড়েছেন জেনিংস। ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। 

     

     

    জো রুটের সঙ্গে বেইরস্টোর জুটি এরপর নিরাপদে ইংল্যান্ডকে পার করেছিল লাঞ্চ পর্যন্ত। এরপর ভেঙেছে ১০০ রানের জুটি, সান্দাকানকে স্লগ করতে গিয়ে খাড়া ওপরে তুলেছিলেন রুট। বেইরস্টোকে এরপর সঙ্গ দিয়েছেন স্টোকস। শুরুটা নড়বড়ে হলেও পরে গিয়ে মানিয়ে নিয়েছিলেন বেশ, ৫ চার ও ২ ছয়ে স্টোকস করেছেন ৫৭ রান। তিনিও শিকার সান্দাকানের, এজড হয়ে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ। 

    স্টোকসকে পাশে রেখেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন বেইরস্টো, ক্যারিয়ারে যা তার ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। প্রায় দুই বছর পর ইংল্যান্ডের কোনও তিন নম্বর ব্যাটসম্যান পেলেন সেঞ্চুরি, শেষ রাজকোটে পেয়েছিলেন রুট। সুইপ-কাটে অসাধারণ ছিলেন বেইরস্টো, শ্রীলঙ্কানদের আলগা বলের সুযোগ নিতে ভুল করেননি একেবারেই। সেঞ্চুরির আগে থেকেই ক্র্যাম্প হচ্ছিল, তবে চালিয়ে গেছেন খেলা। সেঞ্চুরির পর উল্লাসটা করলেন বুনো, যেন কিছু প্রমাণ করার ছিল তার। সেরকম কিছু থাকলে সেটা করলেন দারুণভাবেই। সান্দাকানকে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে করেছেন ১১০ রান, ১৮৬ বলের ইনিংসে ৯ চারের সঙ্গে মেরেছেন ১টি ছয়।

    জস বাটলার জোরের ওপর খেলতে গিয়ে বোলার সান্দাকানের বাঁহাতেই ধরা পড়েছেন, বেন ফোকস আউট হয়েছেন পুস্পকুমারার বলে কাট করতে গিয়ে এজড হয়ে। এ ক্যাচটা ভালভাবে ধরলেও দিনটা সুবিধার যায়নি শ্রীলঙ্কান উইকেটকিপার নিরোশান ডিকওয়েলার। প্রথম সেশনেই অধিনায়ক সুরাঙ্গা লাকমালকে দুইটি রিভিউ নিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ব্যর্থ হয়েছিল দুইটিই। সেটি পরে ভুগিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে, বেইরস্টোর উইকেটটা তারা পেতে পারতেন নাহলে আগেই। ডিকওয়েলা মইনের ক্যাচ ছেড়েছেন ২ রানে, সেই মইন পরে বেঁচেছেন দুইবার রিভিউ নিয়ে। 

    দিনশেষে মইনের সঙ্গী আদিল রশিদ। কলম্বোর এ উইকেটে ৩১২ এখনও যথেষ্ট নয়, তবে দিন গড়ালে স্পিন ধরার কথা এখানে। সেক্ষেত্রে বোলিংয়ের আগে ব্যাটিংয়েও কিছু করতে হবে মইন-রশিদকে, এশিয়ার মাটিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেতে হলে।