• " />
    X
    GO11IPL2020

     

    'নতুন' বিপিএলে 'পুরনো পাপী'রা

    আজ বিকেলেই ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইয়ান পন্ট, প্রসঙ্গ আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসর। গত দুই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের এই প্রধান কোচকে এবারও এই টুর্নামেন্টে দেখা যাবে কিনা- তাঁর বাংলাদেশী ভক্তদের এমন প্রশ্নের জবাবে পন্ট জানাচ্ছেন ভারতে নিজের একাডেমী নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তবে শুভকামনা জানিয়েছেন আয়োজনটির পুনর্জন্মে, “আন্তরিকভাবে চাইছি পাওনা নিয়ে ঝামেলা আর ম্যাচ পাতানোর ব্যাপারগুলো অতীত হয়েই থাকুক। এই টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়-সমর্থকরা একটি স্বচ্ছ ও রোমাঞ্চে ভরা প্রতিযোগিতা উপভোগের দাবী রাখে।”

     

    ম্যাচ গড়াপেটার চলটা ক্রিকেটে পুরনোই। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তী হ্যানসি ক্রনিয়ে, প্রাক্তন ভারতীয় কাপ্তান আজহার উদ্দীন, পাকিস্তানের পুরনো তারকা সেলিম মালিক থেকে শুরু করে নিকট অতীতে দানিশ কানেরিয়া, শ্রীশান্ত, মোহাম্মদ আমির-আসিফ, সালমান বাট, লু ভিনসেন্ট, মোহাম্মদ আশরাফুল...ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ক্রিকেট মাঠ থেকে আজীবন বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তদের তালিকাটা খুব ছোট নয়।

     

    সে ধারাবাহিকতায় জুয়াড়িদের কালো ছায়া থেকে রেহাই পায় নি বাংলাদেশের ঘরোয়া টিটোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলও। দ্বিতীয় আসরেই ওঠা ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ কাঁধে তুলে বছর দুয়েক বন্ধও থাকে আয়োজন। সব স্বীকার গিয়ে প্রথমে আট বছর ও পরবর্তীতে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন টাইগারদের সে সময়কার অন্যতম বড় তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল। নিউজিল্যান্ডের লু ভিনসেন্ট পান তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা (পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে ম্যাচ পাতিয়ে বর্তমানে আজীবন নিষিদ্ধ)।

     

     

    শুরুতে ইয়ান পন্টের কথা বলা হচ্ছিল। বিপিএলে জুয়াড়িদের আনাগোনার বিষয়টি প্রমাণসহ প্রকাশ্যে এসেছিলে ৫৪ বছর বয়সী এই ইংলিশম্যানের কল্যাণেই। কিন্তু সততার প্রতিদান দূরে থাকুক, ‘কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে’ কোচিং ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পড়ে যায় তাঁর।

     


    আরও পড়ুনঃ বিপিএল কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন পন্ট


     

    দুই বছর বাদে ফের মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল। নতুন আঙ্গিকে নতুন সব ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে ছয়টি দল মাঠে নামবে অতীত কলঙ্কমোচনের দায় কাঁধে করে। সে আয়োজনে ‘সঙ্গত’ কারণেই হয়তো থাকা হবে না ইয়ান পন্টের। পন্টের প্রত্যাশানুযায়ী ফিক্সিং ‘অতীত’ করে থাকবেন না আশরাফুল বা ভিনসেন্টরাও। তবে তাই বলে একেবারেই ‘পুরনো পাপী’ মুক্ত হয়ে মাঠে গড়াচ্ছে না বিপিএলের তৃতীয় আসর। ইতিপূর্বে ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এমন দু’জন আর শাস্তি পেয়েছেন এমন একজনের নাম এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে দলগুলোর খেলোয়াড় তালিকায়।

     

    মোহাম্মদ আমির

     

    ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে ইচ্ছাকৃত ‘নো’ বল করে সতীর্থ সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফের সঙ্গে ‘স্পট ফিক্সিং’য়ের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন সে সময় ১৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। আইসিসির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। শুধু তাই নয়, যুক্তরাজ্যের আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সতীর্থদের সাথে কারাবাসও করতে হয় তাঁকে।

     

    ইনসেটে মোহাম্মদ আমিরের সেই বিতর্কিত 'নো' বল স্টেপ

     

    এ বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্মতিতে আইসিসি আরও আগেই তাঁকে নিজ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেয়। সেখানে কায়েদে আজম ট্রফির বাছাইপর্বে নিজ দল এসএসজিসি’র হয়ে দারুণ পারফর্মও করেছেন। আসন্ন বিপিএলে এই বাঁহাতি পেসারকে দলে ভিড়িয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ পেলে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বিদেশের কোন আসরে খেলার সুযোগ পাবেন তিনি।

     

    ড্যারেন স্টিভেন্স

     

    গত দুই আসরের বিপিএলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলেছিলেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। শেষবার স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত দশ জনের মধ্যে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট আকসুর অভিযোগ ছিল ম্যাচে ফিক্সিং হবে এমনটা আগে থেকে জেনেও তিনি যথাসময়ে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন নি।

     

    দুই সতীর্থর সাথে বিপিএলের শিরোপা হাতে ড্যারেন স্টিভেন্স (মাঝে)

     

    অবশ্য পরবর্তীতে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ে নির্দোষ প্রমানিত হন স্টিভেন্স। পুরনো কালিমা মুছে ৩৯ বছর বয়সী ইংলিশম্যান নিয়মিতই খেলছেন ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্টের হয়ে। আসছে বিপিএলে তাঁকে দেখা যাবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জার্সিতে।

     

    মোশাররফ হোসেন রুবেল

     

    বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক ২০০৮ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ৩ ম্যাচ সিরিজের সবক’টিতেই সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণেই হোক আর বিতর্কিত ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) নাম লিখিয়েই হোক; সেই যে বাদ পড়লেন, আজ অব্দি আর লাল-সবুজ পোশাক গায়ে চড়ে নি এই বাঁহাতি স্পিনারের। বছর দুয়েক আগে শ্রীলংকার বিপক্ষে একটি সিরিজের স্কোয়াডে থাকলেও দলে ঠাঁই মেলে নি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মোশাররফ রুবেল বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে সুযোগ পান ঢাকার দলে।

     

    আইসিএলে ঢাকা ওয়ারিয়র্সের জার্সি গায়ে মোশাররফ রুবেল

     

    ফিক্সিংয়ের দায়ে আকসু কর্তৃক অভিযুক্ত দশ জনের তালিকায় ছিল তাঁর নামও। তদন্তাধীন আট মাস বাকিদের মতো নিষিদ্ধ থাকেন সব ধরণের ক্রিকেটে। পরবর্তীতে আকসু ও বিসিবির ‘নির্দোষ’ ছাড়পত্র নিয়ে ফেরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এবারের বিপিএলে তাঁর ঠিকানা ঢাকা ডায়নামাইটস।

     

    একজন সন্দেহভাজন...

     

    আশরাফুলের সাথে কথোপকথনের গোপন সূত্র ধরে দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো বছর দুয়েক আগে ‘শুধু আশরাফুল একা নন’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে আশরাফুলকে জুয়াড়িদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছিল সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিকের নাম। জাতীয় দলের সাবেক এই স্পিন অলরাউন্ডার অবশ্য সে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। বাস্তবিকই তিনি ওই অন্যায়ে জড়িত ছিলেন কিনা তা আজতক জানা যায় নি। বিতর্কিত আইসিএলে যোগ দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা খোয়ানো এই সাবেক তারকা আসন্ন বিপিএলে স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন রংপুর রাইডার্সে।

     

    এখনও ব্রাত্য তিনি...

     

    প্রাথমিকভাবে আট বছরের সাজা পাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই সাজা আরও কমতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সে বিবেচনায় তাঁকে এবারের বিপিএলে প্রত্যাশা করেছিলেন অনেক অনুরাগীই। কিন্তু খেলোয়াড়দের খসড়া তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায় নি।

     

    অতীত কলঙ্ক মুছে ফেলে নব উদ্যমে সামনে এগোতে চাইবে বাংলাদেশে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এই ঘরোয়া আসর। ওই আয়োজনে আলোটা হয়তো খানিক ভিন্ন রংয়েই থাকবে পুরনো অভিযুক্তদের উপর। বর্ণটা যে তাঁরা ইতিবাচকভাবে বদলে দিতে চাইবেন তা বলাই বাহুল্য।

     

    থাম্বনেল ইলাস্ট্রেশানঃ এস জামাল, পাকিস্তান ট্রিবিউন

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন