• আয়ারল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজ ২০১৯
  • " />

     

    একই চিত্রনাট্যেই উইন্ডিজ-জয়, প্রাপ্তি মোস্তাফিজ-মিঠুন

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ২৪৭/৯ (হোপ ৮৭, হোল্ডার ৬২; মোস্তাফিজ ৪/৪৩, মাশরাফি ৩/৬০, সাকিব ২৭, মিরাজ ১/৪১)

    বাংলাদেশ ৪৭.২ ওভারে ২৪৮/৫ (মুশফিক ৬৩, সৌম্য ৫৪, মিঠুন ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ৩০*, সাকিব ২৯, তামিম ২১; নার্স ৩/৫৩)

    ফলঃ বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী


    আরও একবার টসে হেরে পরে ব্যাট করা, আরও একবার ওভারপ্রতি পাঁচের কাছাকাছি রান তাড়া করা। এবার একটু বেশি উইকেট হারাতে হয়েছে বাংলাদেশকে, তবে দিন শেষে কাজটা ম্যালাহাইডের সবুজ গালিচায় বৈকালিক ভ্রমণের মতোই আনন্দদায়ী ছিল। ১৫ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে জিতে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে যে কটি টিকচিহ্ন পেয়েছিলেন মাশরাফি, তার সঙ্গে আজ যোগ হয়েছে আরও কিছু। ফাইনালে উঠে এখন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেই পারে বাংলাদেশ।

    তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকারের জুটি আগের ম্যাচেই ভাগ্য ঠিক করে দিয়েছিল ম্যাচের। আজ অবশ্য ততটা জমেনি, তামিম ২১ রানে মনযোগ হারিয়ে বোল্ড হয়ে যাওয়ায় ওপেনিং জুটি ভেঙে গেছে ৫৪ রানে। তবে সৌম্যের রান পাওয়াটা টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। দুই বছর আগে এই আয়ারল্যান্ডের ম্যালাহাইডেই সর্বশেষ টানা দুই ওয়ানডেতে ফিফটি করেছিলেন সৌম্য। আজও শুরু থেকে ছিলেন দারুণ ছন্দে, নিজের সহজাত কিছু শটও খেলেছেন। ঠিক পঞ্চাশ বলে পেয়েছেন ফিফটি, ম্যালাহাইডের মন্থর উইকেটেও মানিয়ে নিতে সমস্যা ছিল না একদমই। তবে ফিফটির পরেই যেন খানিকটা অস্থিরতা পেয়ে বসেছিল তাঁকে। নিজের স্বাভাবিক স্ট্রোক প্লে ছেড়ে একটু খোলসে ঢুকে গেলেন। নার্সকে বেশি সমীহ করছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর বলেই সহজ একটা ক্যাচ দিয়ে এলেন।

    তার ঠিক দুই বল আগে অবশ্য সৌম্যের চেয়েও দৃষ্টিকটুভাবে উইকেট দিয়ে এসেছেন সাকিব। আগের ম্যাচটা শেষ করে এসেছিলেন, আজও দদ্রুত সেট হয়ে গিয়েছিলেন। ডাউন দ্য উইকেটে নার্সকে একটি চারও মারলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শর্ট কভাবে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করালেন চেজকে। ১০৭ রানে তখন ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছ বাংলাদেশ।

    তখনও ওভার বাকি ২৯, উইকেট আর রানের হিসেবে অনেকটা এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তারপরও ম্যাচের ফল নিয়ে যদি কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেও থাকে, তা দূর করে দিয়েছেন মুশফিক-মিঠুন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য বাংলাদেশের কাজটা সহজ করে দিয়েছে হাস্যকর ফিল্ডিংয়ে, নিশ্চিত রান আউট থেকে বেঁচে গেছেন মিঠুন। তার আগে পরেও আরও অন্তত তিনটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

     

     

    তবে মুশফিক-মিঠুনের তা নিয়ে ভাবতে বয়েই গেছে। দুজন চতুর্থ উইকেটে যোগ করলেন ৮৩ রান, চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। হোল্ডারের দারুণ এক ডেলিভারিতে আউট হয়ে গেলেন মিঠুন। তবে ৪২ রানের ইনিংসে পাঁচ নম্বরের জন্য নিজের দাবিটা জানান দিয়ে রেখেছেন জোর গলায়।

    মুশফিকের অবশ্য ম্যাচ শেষ করে আসার ইচ্ছেই ছিল। ওয়ানডেতে নিজের ৩৪তম ফিফটিও পেয়ে গিয়েছিলেন, তার আগে একবার ছয় মেরে বলও হারিয়ে ফেলেছেন। মাহমুদউল্লাহ ডাউন দ্য উইকেটে এসে হোল্ডারকে ছয় মারলেন, নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাত মকশোটাও করে ফেললেন। দুজন যখন ম্যাচটা শেষ করে আসবেন, ৬৩ রানে আউট হয়ে গেলেন মুশফিক। সাব্বিরকে কোনো রান নিতে হয়নি অবশ্য, তার আগেই জিতে গেছে বাংলাদেশ।

    তার আগে বাংলাদেশের বোলিং ছিল আগের ম্যাচের অনেকটা দেজাভুঁই। পেসাররা একটু বেশি খরুচে, কিন্তু উইকেট নিয়েছেন তারাই। আর স্পিনাররা একদিক থেকে চাপ ধরে রেখে ছিলেন হাড়কিপটে, মূলত স্পিন সামলাতে না পেরেই চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিয়ে এসেছে উইকেট। আমব্রিস আগের ম্যাচের মতো কিছু করতে পারেননি, ড্যারেন ব্রাভোর ক্যাচ ফেলার প্রায়শ্চিত্ত করেছেন মিরাজ তাঁকে এলবিডব্লু করে।

    মোস্তাফিজুর রহমানের কিছু একটা করতে হতো আজ। আগের ম্যাচে একদমই বিবর্ণ ছিলেন, আজ নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছেন চেজকে। লাইন লেংথে শুরু থেকে ছিলেন বেশ ধারাবাহিক, ধরেছে কাটারও। সেই স্পেলেই কার্টারকে করেছেন এলবিডব্লু, ভেঙে দিয়েছেন উইন্ডিজ মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড। ৯৯ রানে তখন ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  

    তবে হোপ বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা চতুর্থ সেঞ্চুরি পেয়ে যাবেন বলেই মনে হচ্ছিল। সেটা হতে দেননি মাশরাফি, উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন তাঁকে। হোল্ডার আর চেজের ঠিক ১০০ রানের জুটিটাও ভেঙেছেন অধিনায়ক, পরে ফিরিয়েছেন হোল্ডারকেও। এরপরেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিতে শুরু করে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজ শেষের দিকে এসে পেয়েছেন আরও দুইটি উইকেট, এশিয়া কাপের পর আবারও ওয়ানডেতে নিয়েছেন চার উইকেট। ধুঁকতে ধুঁকতে ২৪৭ রানে থেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বোলিংয়ে সামান্য একটু খামতি বলতে শুধু আবু জায়েদ রাহীই। সাইফ উদ্দিনের চোটে হুট করে সুযোগ মিলে গিয়েছিল তাঁর, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। ৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে তাই মনে রাখার মতো কিছু করতে পারলেন না অভিশেকে। তবে তাতে বাংলাদেশের চেয়ে তাঁর ক্ষতিই হলো বেশি!