• উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    • উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ

    কেন কেইনকে নামানো উচিত হবে না পচেত্তিনোর?

    হ্যারি কেইনকে একাদশে নামাবেন? নাকি জমিয়ে রাখবেন ম্যাচের অবস্থা বুঝে বুঝে পরে নামানোর জন্য? টটেনহাম হটস্পার ম্যানেজার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচ খেলতে নামছেন লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। কিন্তু সেই ম্যাচের আগেই তাকে বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    হ্যারি কেইন গোড়ালির ইনজুরিতে পড়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে। এপ্রিলের ১০ তারিখের সেই ম্যাচের পর থেকেই মাঠের বাইরে কেইন। গোড়ালির ইনজুরিটা পুরনো, তাই সেটা নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ যেমন ছিল না, কেইনের সেরে উঠতেও সময় লেগেছে বেশি। এক সময় জানা গিয়েছিল, মৌসুমটাই শেষ হয়ে গেছে তার। জুনের ৬ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া নেশনস লিগেও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারবেন কী না সেটা নিয়েও সংশয় ছিল।কিন্তু টটেনহাম চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে যাওয়ার পর সম্ভাবনা বাড়তে থাকে কেইনের ফেরার।

    ইনজুরি কাটিয়ে ফাইনালের মাত্র কয়েকদিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। ইনজুরি জর্জরিত টটেনহাম লিগ শেষের পর তিন সপ্তাহ ছুটি পেয়েছে ফাইনালের প্রস্তুতির জন্য। বাকিরাও তাই পুরোপুরি ফিট রয়েছেন।  কেইনের ম্যাচ ফিটনেস আছে কী না, বা একাদশে তিনি খেলবেন কী না সেটা পরিষ্কার করে জানাতে পারেননি পচেত্তিনোও। কিন্তু কেইনের ইনজুরির ধরণ আর রিকভারির সময় বলছে, ফিট নন কেইন। 

     

     

    মৌসুমের দ্বিতীয় অর্ধে দুই দফায় বড় ইনজুরি পড়ে মাঠের বাইরে ছিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। কেইন বিহীন টটেনহামকে এই সময়টায় সামাল দিয়েছেন হিউং মিন সন ও লুকাস মউরা। সন দলের অপরিহার্য খেলোয়াড়, তবে মউরা তেমনটা ছিলেন না কখনোই। আয়াক্সের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের হ্যাটট্রিক করে নিজেকে যেন নতুন করে চিনিয়েছেন মউরা। কেইনকে নামাতে হলে এই দুইজনের একজনকে বসিয়ে রাখতে হবে পচেত্তিনোকে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দুই খেলোয়াড়ের ওপর কেন ভরসা রাখবেন না টটেনহাম ম্যানেজার?

    ২০১৪ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের আগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও এরকম একটা ঝামেলায় পড়েছিল। ডিয়েগো কস্তা ইনজুরিতে থেকে ফিরেছিলেন, কিন্তু ফিটনেস ছিল না তার। কস্তা খেলবেন কী না খেলবেন না সেই প্রশ্ন ফাইনালের আগ পর্যত্ন ঘোরাফেরা করেছে। পরে একাদশে তাকে রেখেছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নেমে ওই ফাইনালে মাত্র কয়েক মিনিট টিকতে পেরেছিলেন কস্তা। ম্যাচের ৮ মিনিটে বদলি করাতে হয়েছিল পরে সিমিওনেকে। ফাইনালের মতো ম্যাচে কেইনকে শুরুতে নামানোর জুয়া খেলানোর কোনো কারণ নেই পচেত্তিনোর। 

    গোলের দরকার না হলে হয়ত কেইনকে বদলি থেকেও নামাবেন না তিনি। ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন আরেকবার। ধীর গতির, গোলের সামনেও তীক্ষ্ণ নন। কিন্তু মিডফিল্ডে টটেনহাম নিয়ন্ত্রণ হারালে, তখন লং বলে ভরসা করতে হবে তাদের। সেসময় একজন আনফিট কেইনের চেয়ে ফুল ফিট ইয়রোরেন্তের ওপরই ভরসা রাখবেন পচেত্তিনো? 

    ম্যাচে অনেকগুলো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে পচেত্তিনোকে, কিন্তু এর চেয়ে বড় সিদ্ধান্ত বোধ হয় আর নিতে হবে না তাকে। কারণ পচেত্তিনোর সিদ্ধান্ত যাই নিন, সেটার ফলের ওপরই হয়ত তার সাফল্য ব্যর্থতা নির্ভর করতে পারে।