• কোপা আমেরিকা
  • " />

     

    কেন কোপা আমেরিকা শিরোপার দাবিদার নয় আর্জেন্টিনা?

    কোপা আমেরিকার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা তাদের। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও। দলে আছে অনেকের মতে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। গত দুই কোপা আমেরিকার রানার্স আপ দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। দানে দানে তিন দান হবে মেসির? সেই সম্ভাবনা এবার প্রায় নেই বললেই চলে। লাতিন আমেরিকার বাকি দলগুলো যখন একের পর এক বিশ্বমানের খেলোয়াড় দিয়ে যাচ্ছে, আর্জেন্টিনা তখন উলটো যাত্রা শুরু করেছে। একগাদা নতুন খেলোয়াড় নিয়ে এবারের কোপাতে যাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল। এই আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তাই আশার চেয়ে সংশয় বেশি, তার চেয়েও বেশি শঙ্কা। 


     
    গত বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের গ্রুপপর্বের ম্যাচে হারের পর আর্জেন্টাইন এক টেলিভিশন চ্যানেল লাইভে গিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছিল। এই একটা গল্প গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিচ্ছবি হয়ে থেকেছে। এরপর বদলায়নি কিছুই। কোচ বদলাতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় হোর্হে সাম্পাওলির ডেপুটি লিওনেল স্কালোনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুই মাসের জন্য। পরে পাকাপাকিভাবেই আর্জেন্টিনার দায়িত্ব গেছে স্কালোনির কাছে। আর্জেন্টিনার সাদাকালো ছবিটা রঙিন করতে পারেননি তিনিও। দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে আর্জেন্টিনা খেলেছে ৮ ম্যাচ, জয় পেয়েছে ৫টিতে। জয় পাওয়া দলগুলোর বেশিরভাগই অবশ্য আর্জেন্টিনার চেয়ে কাগজে কলমে দুর্বল দল। স্কালোনির আর্জেন্টিনা হেরেছে দুই ম্যাচ, একটি ব্রাজিলের বিপক্ষে। আরেকটি হার মার্চে প্রীতি ম্যাচে। বিশ্বকাপের পর বিরতি দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির ফেরার ম্যাচে বলিভিয়া জিতেছিল ২-০ গোলে।

    দায়িত্ব নেওয়ার পর স্কালোনি এখনও তার সেরা একাদশটাই বাছাই করতে পারেননি। প্রথম চার মাসে মোট ৩৬ জন খেলোয়াড়কে দলে ডেকেছিলেন তিনি। নভেম্বরের পর পাকাপাকিভাবে আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার পর তিনি দলে ডেকেছেন মোট ২৬ জন খেলোয়াড়কে। ফর্মেশন নিয়েও পরীক্ষা নিরীক্ষা কম চালাননি ৪১ বছর বয়সী। চারজনের ব্যাকলাইনই খেলিয়েছিলেন বেশিরভাগ সময়। তবে তিন জনের ব্যাকলাইন ব্যবহার করেছিলেন বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৪-৩-৩ অনেকদিন ধরেই আর্জেন্টিনার ফর্মেশনের মূল ভিত্তি হলেও, ৪-৪-২ নিজের পছন্দ বলে জানিয়েছিলেন স্কালোনি।

    কোপা আমেরিকার আগে স্কালোনিকে দিতে হয়েছে তার কোচিং ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ২৩ জনের স্কোয়াডে স্কালোনি নিজের পছন্দটা প্রচ্ছন্নভাবে জানান দিয়েছেন। মেসি, আগুয়েরো, ডি মারিয়া- এই তিনজনকে বাদ দিলে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত টানা তিন ফাইনাল খেলা আর্জেন্টিনা দলের কেউই নেই স্কোয়াডে। বরং এক ঝাঁক নতুন মুখ দলে এনেছেন তিনি। কিন্তু স্কালোনির সেই সিদ্ধান্ত রাতারাতি আর্জেন্টিনাকে বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমই। আনকোরা একটি দল নিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নাটকীয় কিছু করতে হবে এই আর্জেন্টিনাকে। এসব জানা আছে স্কালোনিরও। এপ্রিলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আর্জেন্টিনা এখন সেরা দলগুলোড় বিপক্ষে লড়াই করার মতো কোনো অবস্থানেই নেই। আমাকে বাস্তবতা নিয়েই কথা বলতে হবে। সেটা যতই কঠিন হোক।”

     

     

    আগুয়েরো, ডি মারিয়ারা তাই যতই আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট দাবি করুন, এবারের কোপাতে আর্জেন্টিনার কাছে প্রত্যাশা কমই। বি গ্রুপে আর্জেন্টিনার সঙ্গী কলম্বিয়া, প্যারাগুয়ে ও কাতার। সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ কলম্বিয়াকে ধরা যায়। তাদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে আর্জেন্টিনার কোপা যাত্রা।

     

    প্রশ্নবিদ্ধ স্কোয়াড

    শুরুতেই গলদ
    দুই বিশ্বকাপ আর ৩ কোপা আমেরিকা খেলা অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোকে দলে ডাকেননি স্কালোনি। ডাক পাননি অনেকদিন ধরে রোমেরোর রিপ্লেসমেন্ট ভেবে আসা জেনেরিমো রুল্লিও। বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা থাকায়, রিভার প্লেটের সেই ফ্রাঙ্কো আর্মানিই তাই আরও একবার হয়ত পাবেন আর্জেন্টিনার গোলবার আগলে রাখার দায়িত্ব। তার সঙ্গে বাকি দুইজন আরও আনকোরা। একজন বোকা জুনিয়র্সের আন্দ্রাদা ও আরেকজন মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকার অগাস্টিন মার্কিসিন। ৩১ বছর বয়সী মার্কিসিন তার নিজের ক্লাবেও দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক। আর্জেন্টিনার স্কোয়াড নিয়ে অনেকগুলো প্রশ্নের ভেতর এটাও একটা। রোমেরো যদি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক হওয়ায় জায়গা না পান মার্কিসিনকে কেন ডাকা স্কালোনির?

    বোকার ২৮ বছর বয়সী এস্তেবান আন্দ্রাদা আর্জেন্টাইন লিগে আছেন দারুণ ফর্মে। আর্মানির মৌসুমটা গেছে চড়াই উতরাইয়ে। এখন সিদ্ধান্তটা তাই স্কালোনির ওপরই।  ভরসা রাখবেন কার ওপর?


    গোলরক্ষক
    ফ্রাঙ্কো আর্মানি (রিভার প্লেট), আন্দ্রাদা (বোকা), অগাস্টিন মার্কিসিন (ক্লাব আমেরিকা)


    পুরনো সমস্যা নতুন করে
    আলেহান্দ্রো সাবেয়ার অধীনে সবশেষ আর্জেন্টিনার রক্ষণকে দুর্গ মনে হয়েছিল। সেটাও ২০১৪ সালের কথা। এরপর ধীরে ধীরে আবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণ চলে গেছে নিজেদের চিরচেনা রূপে। এক কথায় যেটাকে বলে নড়বড়ে। একমাত্র নিকোলাস টালিকাফিকো বাদে বাকি ৭ডিফেন্ডারের কেউই শীর্ষ পর্যায়ে এই মৌসুমে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। একাদশে দুই সেন্টারব্যাক পজিশনে জার্মান পেজ্জেলে আর  নিকোলাস অটামেন্ডির খেলা প্রায় নিশ্চিত।

    অটামেন্ডি জায়গা হারিয়েছেন নিজের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেজ্জেলের দল ফিওরেন্টিনা কোনোমতে রেলিগেশন খড়্গ এড়িয়ে গেছে সিরি আতে। বিবেচনা করা হয়নি ভ্যালেন্সিয়ার এজিকুয়েল গ্যারায় বা মিলানের মাতেও মুসাকিওকে। এই দুইজনই নিজেদের ক্লাবের হয়ে এই মৌসুমে খেলেছেন নিয়মিত। আর গ্যারায় তো স্পেনে এই মৌসুমে অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারও।

    রাইটব্যাক পজিশনে এবার রেসিংয়ের রেঞ্জো সারাভিয়াকে দেখা যেতে পারে একাদশে। ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার দারুণ খেলেছেন এই মৌসুমে। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরেও আছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা যদি দারুণ কিছু করে ফেলে এই টুর্নামেন্টে তাহলে তাতে বড় অবদান থাকবে তাদের দুই ফুলব্যাক সারাভিয়া ও টালিয়াফিকোর।


    ডিফেন্ডার
    মিল্টন কাস্কো (রিভারপ্লেট), হুয়ান ফয়েথ (টটেনহাম), রামিরো ফুয়েনস মরি (ভিয়ারিয়াল), নিকোলাস অটামেন্ডি (ম্যান সিটি), রেঞ্জো সারাভিয়া (রেসিং), জার্মান পেজ্জেলে (ফিওরেন্টিনা), নিকোলাস টালিয়াফিকো (আয়াক্স) 

     


     

    বেহাল মিডফিল্ড ও আরেক প্রস্থ হতাশার গল্প

    মিডফিল্ডে আর্জেন্টিনার সমস্যা আরও প্রকট। গত একদশক ধরে এই মিডফিল্ডের সমন্বয় আর সৃজনশীলতার অভাব আর্জেন্টিনাকে ভুগিয়েছে সবচেয়ে বেশি। তাই আক্রমণে নামী দামী সব তারকা থাকার পরও বারবার আর্জেন্টিনা ফেরত এসেছে খালি হাতে। মিডফিল্ডের দুর্দশা দুরবস্থায় পরিণত হয়েছে আরও।

    একমাত্র জিওভানি লো সেলসোকে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে রাখা যায় তার ক্লাব পারফরম্যান্সের কারণে। একাদশেও তাই তার জায়গাটা পাকাই হওয়ার কথা। পিএসজির লিয়ান্দ্রো  পারাদেসের কাছে আলাদা প্রত্যাশা থাকবে আর্জেন্টিনার। কিন্তু সেন্টার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি মোটেই ভরসা করার মতো নন। ধীর স্থির নন, ফার্স্ট টাইম ট্যাকেলেও দুর্বলতা আছে তার। রিভার প্লেটের এজিকিয়েল পালাসিওস ইনজুরিতে পড়ে আরও ঝামেলা বাঁধিয়েছেন। তার জায়গায় নেওয়া হয়েছে গুইদো পিতজারোকে। দলের একমাত্র ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তিনি। কিন্তু ফুটবলার হিসেবে একেবারেই গড়পড়তা মানের।

    অবশ্য বাকি মিডফিল্ডাররাও খুব বেশি আহামরি মাপের নন। ম্যানুয়েল লানজিনি বা এরিক লামেলাদের বাদ পড়া বড় চমক ছিল না। দুইজনের কেউই তাদের ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারেননি। ইনজুরি থেকে ফেরা লানজিনি অবশ্য আরেকটি সুযোগ পেতে পারতেন। তবে স্কালোনি তাকেও সুযোগ দেননি।

    ফ্রেঞ্চ লিগের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া অ্যানহেল ডি মারিয়া ফিরেছেন আর্জেন্টিনা দলে। এই একটা জায়গা যা একটু ভরসা যোগাতে পারে আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু অতীত সেই স্বস্তিটুকুও দিচ্ছে না, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ কবে দুর্দান্ত ছিলেন ডি মারিয়া?


    মিডফিল্ডার
    মার্কোস আকুনিয়া (স্পোর্টিং লিসবন), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (পিএসজি), জিওভান্নি লো সেলসো (বেটিস), রদ্রিগো ডি পল (উদিনেসে),  রবার্তো পেরেইরা (ওয়াটফোর্ড), গুইদো রদ্রিগেজ (ক্লাব আমেরিকা), গুইদো পিতজারো


    মেসি, মেসি এবং মেসি...

    এতো কিছুর পরও এই একটা দিকে এখনও এগিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা। কারণটাও সহজ। দলে আছেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে এই মৌসুমে শুধু লা লিগা জিতেছেন। মেসির পারফরম্যান্স আলাদা করে বিবেচনা করলে এক শিরোপা তার জন্য কমই হয়ে যায়। লা লিগার মতো চ্যাম্পিয়নস লিগেও সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ব্যক্তিগত দিক দিয়ে আরও একবার দারুণ এক মৌসুম কাটিয়েছেন বার্সেলোনার হয়ে।  

    ভালো সময় পার করেছেন সার্জিও আগুয়েরোও। এই দুইজন তাই সেরা ফর্ম নিয়েই যাচ্ছেন কোপা আমেরিকাতে। কিন্তু...এরপরের কথাগুলো এতোদিনে মুখস্থ হয়ে যাওয়ার কথা আপনার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই জুটিকে তো সফল বলা যায় না কোনোভাবেই।

    আর্জেন্টিনা মিডফিল্ড আর আক্রমণভাগ দুই জায়গায়তেই মেসির ওপর নির্ভর করে। তাই একদিক হলেও, অন্যদিকের কাটতি চোখে লেগে থাকে দলের খেলায়। যেদিন অতিমানবীয় কিছু করে বসেন মেসি, সেদিন কেবল উতরে যায় আর্জেন্টিনা- নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন এটাই। মেসি নির্ভরতার মাত্রাটা যেন দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে আলবিসেলেস্তেদের। এবারও ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।

    পাউলো দিবালা জুভেন্টাসের হয়ে গোলখরায় কাটিয়েছেন মৌসুম। অনেক আশা নিয়ে ইন্টার মিলানে গিয়ে প্রথম মৌসুমে হতাশ হয়েছেন লাউতারো মার্টিনেজও। এই দুইজনকে বদলিই হিসেবেই বেশি ব্যবহার করার কথা স্কালোনির। কিন্তু ম্যাচ বদলে দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই দুইজনের একজনও।

    অ্যানহেল কোরেয়া, মাউরো ইকার্দিদের বাদ দিয়ে নেওয়া মাতিয়াস সুয়ারেজ স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক। আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ক্লাব রিভার প্লেটের হয়েও আহামরি এমন কিছু করেননি। তাতে অবশ্য ঝামেলা হয়নি তার। কোপার দলে জায়গা মিলে গেছে।


    ফরোয়ার্ড 
    সার্জিও আগুয়েরো (ম্যান সিটি), লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা), লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান),  পাউলো দিবালা (জুভেন্টাস), মাতিয়াস সুয়ারেজ (রিভার প্লেট) 



    আশা কোথায় আর্জেন্টিনার?

    এতোসব আলোচনার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা অবশ্য হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন মন খারাপ করে। তাহলে কি একদমই আশা নেই আর্জেন্টিনার? জবাবটা হচ্ছে, আছে। কিন্তু সেটার জন্য অনেকগুলো ব্যাপার পরিবর্তন হতে হবে রাতারাতি। সেটাকে মিরাকলও বলা যাচ্ছে না। কারণ টুর্নামেন্টের স্থায়িত্ব অল্প কিছুদিনের, আছে নক আউট পর্বও- অল্প সময়ে দল গুছিয়ে দারুণ কিছু করার গল্প ফুটবলে ঘটে অহরহ। বিশেষ করে এ ধরনের টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিতই ঘটে এসব। একেবারে গোলরক্ষক থেকে আক্রমণভাগের শেষ খেলোয়াড়কে (বদলি হিসেবে নামলে সুয়ারেজও) দিতে হবে সর্বোচ্চটা, আর ম্যাচ বাই ম্যাচ স্কালোনিকে বাছাই করতে হবে সঠিক ট্যাকটিকসটা। সবকিছু একসুরে গাঁথতে পারলেই কেবল শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ হতে পারে লা আলবিসেলেস্তেদের।
     
    বাস্তবতা কী বলে?

    গ্রুপ পর্ব থেকে প্রথম দুই দল উঠতে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর তিন গ্রুপের সেরা দুই তৃতীয় স্থান পাওয়া দল সঙ্গী হবে তাদের। গ্রুপপর্ব না পেরুতে পারলে তাই আর্জেন্টিনার ইতিহাসের বড় কলঙ্ক হয়ে থাকবে এই টুর্নামেন্ট। তবে এরপর আর বেশিদূর যাওয়ার সম্ভাবনা নেই তাদের।