• লা লিগা
  • " />

     

    • লা লিগা

    গ্রিযমানময় ন্যু ক্যাম্পে বার্সার বেটিস বধ

    পুরো গ্রীষ্মজুড়ে তার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। গত সপ্তাহে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে হারের পর কড়া সমালোচনাই সইতে হয়েছিল আঁতোয়া গ্রিযমানকে। ইনজুরির কারণে ২০১৯-২০ লা লিগার প্রথম হোম ম্যাচে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজকে ছাড়াই নামতে হয়েছিল কাতালানদের; আক্রমণে বার্সার মূল ভরসা ছিলেন গ্রিযমানই। ন্যু ক্যাম্পে বার্সার হয়ে অভিষেকে হতাশ করেননি ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড, তার জোড়া গোলেই পিছিয়ে পড়েও রিয়াল বেটিসকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে বার্সা। ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৯ নম্বরে আছে এর্নেস্তো ভালভার্দের দল।

    ন্যু ক্যাম্পে বেটিসের বিপক্ষে সুয়ারেজ, মেসির মত ছিলেন না উসমান ডেম্বেলেও। আক্রমণভাগে গ্রিযমানের সাথে নেমেছিলেন রাফিনহা এবং লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা তরুণ কার্লোস পেরেজ।  ম্যাচের শুরুর দিকে গোলের সুযোগ তৈরি, বল দখলে বার্সা এগিয়ে থাকলেও খেলার ধারার বিপরীতে লিড নেয় বেটিসই। লা লিগায় এই মৌসুমের অন্যতম সেরা সাইনিং ধরা হয়েছিল তাকে, ১৫ মিনিটে যেন তারই প্রমাণ দিলেন নাবিল ফেকির। প্রতি-আক্রমণে লরেন মোরোনের পাস থেকে বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগানকে পরাস্ত করেন তিনি। মুহূর্তেই পিনপতন নীরবতায় ছেয়ে যায় ন্যু ক্যাম্প।

    বার্সা ডাগআউটের ঠিক পেছনে বসা মেসি, সুয়ারেজের চেহারায়ও তখন হতাশার ছাপ। গত মৌসুমে এই মাঠেই বেটিসের কাছে ৪-৩ গোলে হেরেছিল বার্সা, হয়তো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই হাতছানি দিচ্ছিল তাদের। লিড নিয়েই রক্ষণাত্মক ৪-৫-১ ফর্মেশনে খেলতে থাকে বেটিস, প্রতিপক্ষের ‘বাস পার্ক’ ট্যাকটিক্স ভাঙ্গতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল গ্রিযমানদের। কিন্তু ৩৮ মিনিটে আরেকটু হলেই সমতায় ফিরতে পারত তারা। জর্দি আলবার মাইনাস থেকে রাফিনহার শট সিডনির পায়ে চলে যায় গোলের বাইরে দিয়ে। অবশ্য এজন্য খুব একটা ভুগতে হয়নি বার্সাকে।

     

     

    ৪১ মিনিটে মাঝমাঠে উইলিয়াম কারভালহোর পা থেকে বল কেড়ে নেন সার্জি রবার্তো। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের বুদ্দিদীপ্ত ক্রসে ভলি করে দলকে সমতায় ফেরান গ্রিযমান। প্রথমার্ধের শেষদিকে সমতায় ফেরায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে বার্সা। ৫০ থেকে ৬০- বার্সার এই ১০ মিনিটের মিনিটের ঝড়েই রীতিমত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বেটিস। প্রথমার্ধের মত এবারও শুরুটা করেছিলেন গ্রিযমানই। আবারও রবার্তোর পাস থেকে ডিবক্সের ডানপ্রান্ত থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে দলকে লিড এনে দেন তিনি। ১৯৯৭ সালে রিভালদোর পর ন্যু ক্যাম্পে বার্সার হয়ে অভিষেকে জোড়া করলেন গ্রিযমান।

    লিড নেওয়ার মিনিট পাঁচেক পরই আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিল বার্সা; কিন্তু গ্রিযমানের পাস থেকে পেরেজের শট চলে যায় গোলের বাইরে দিয়ে। অবশ্য বার্সার জার্সিতে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষাটা খুব বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি তার। ৫৬ মিনিটে রাইটব্যাক নেলসন সেমেদোর পাসে প্রথম টাচেই বেটিসের দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলেন পেরেজ। এরপর ট্রেডমার্ক মেসি সুলভ বাঁ-পায়ের বাঁকানো শটে মার্টিনকে পরাস্ত করেন তিনি। অবশ্য তখনও থামেনি বার্সার গোল উৎসব।

     

     

    ৬০ মিনিটে লরেনের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আলবার দিকে পাস বাড়ান সার্জিও বুস্কেটস। গোলের প্রায় ১০ গজ দূর থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি স্প্যানিশ লেফটব্যাক। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর বুস্কেটসের বদলে আর্তুরো ভিদালকে নামিয়ে দেন ভালভার্দে। স্কোরশিটে নাম উঠাতে একেবারেই সময় নেননি চিলির মিডফিল্ডার। ৭৭ মিনিটে গ্রিযমানের পাস থেকে ব্যবধান ৫-১ করেন ভিদাল। এর মিনিট দুয়েক পরই খুব সম্ভবত ম্যাচের সেরা গোলটি করে বেটিস।

    ৭৯ মিনিটে বার্সার রক্ষণের ভুলে গোলের প্রায় ৩০ গজ দূরে বল পেয়ে লরেনের আগুনে শট ফেরানোর সাধ্য ছিল না কারোই। লরেনের গোলের কিছুক্ষণ আগেই পেরেজের বদলি হিসেবে বার্সার হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ট ফুটবলার হিসেবে অভিষেক হয় আনসি ফাতির। ৮৭ মিনিটে অভিষেকটা অবিস্মরণীয়ও করে রাখতে পারতেন তিনি। কিন্তু ভিদালের পাস থেকে তার শট চলে যায় গোলের সামান্য বাইরে দিয়ে। শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সা। স্মরণীয় এক জয় দিয়েই বার্সার জার্সিতে নিজের ৫০০তম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। লা লিগায় ন্যু ক্যাম্পে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা ২২-এ নিয়ে গেল ভালভার্দের দল।