• উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কামান দিয়ে অভ্যর্থনা!

    অ্যাওয়ে ম্যাচের জন্য আপনি প্রতিপক্ষের মাঠে গেলেন। একটু বিরুপ অভ্যর্থনা পেতেই পারেন, কিন্তু সেটা আর কতদূর; না হয় একটু দুয়োই দেবে। কিন্তু সুইস ক্লাব ইয়ং বয়েজের সমর্থকদের আক্ষরিক অর্থেই পড়তে হয়েছে কামানের সামনে। চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের আগে রায়কো মিতিচ স্টেডিয়ামের বাইরে যুদ্ধে নব্বইয়ের দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ব্যবহৃত ট্যাংক টি-৫৫ এর রেপ্লিকা এনেছে সমর্থকেরা।

    সার্বিয়ান ক্লাবের এমন কর্মকান্ডে বেজায় চটেছে ক্রোয়েশিয়া। গত বিশ্বকাপের রানার্স আপ দেশটির শীর্ষ সংবাদপত্র স্পোর্টসকে নোভিস্তির মতে, স্টেডিয়ামের বাইরে ট্যাঙ্কটি নব্বইয়ের দশকে ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্রোয়াটদের ওপর সার্বিয়ানদের বর্বরতার স্বাক্ষর। তারা আরও লিখেছে, 'চ্যাম্পিয়নস লিগ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে তারা ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে গর্ব করছে। আমাদের উসকে দেওয়ার জন্যই তারা এমনটি করেছে।'  তবে ক্রোয়াটরা যাই বলুক; রেড স্টার সমর্থকেরা জানিয়েছে, কোনও ধরণের উস্কানিমূলক কর্মকান্ডের জন্য এমনটি করেনি তারা।

     

     

    রেড স্টারের সমর্থকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'রায়কো মিতিচ স্টেডিয়াম দ্বিতীয় লেগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্যাংকটি আমাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রতীক। কারও অনুভূতিতে আঘাত হানতে নয়, বরং নিজেদের জন্যই এটি করেছি আমরা।' তাদের সমর্থকদের ওয়েবসাইটে আরও জানানো হয়, ট্যাংকটি দেশের আর্মি ডিপো থেকে কিনেছে তারা। এর ভেতরে কোনও ধরণের বিষ্ফোরক নেই। ট্যাংকটির আর্মি পেইন্টের ওপর নিজেদের ক্লাবের লাল এবং সাদা লোগো এঁকেছে তারা। স্টেডিয়ামের বাইরে আনার পর থেকেই সমর্থকদের ঢল নামে সেখানে, ট্যাংকের সাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই।

    গত সপ্তাহে ক্রোয়েশিয়ায় এক পানশালায় প্রথম লেগের খেলা দেখছিলেন সার্বিয়ান সমর্থকেরা। তখনই তাদের ওপর হামলা করে বসেন মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত। আহত হন ৫জন রেড স্টার সমর্থক। সার্বিয়ান অনেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে ট্যাংক আনাকে গত সপ্তাহের অতর্কিত হামলারই প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত যুদ্ধের পর এখনও স্বাভাবিক হয়নি ক্রোয়েশিয়া-সার্বিয়ার সম্পর্ক।