• ইউরোপা লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    সাত মাস পর প্রতিপক্ষের মাঠে জিতল ইউনাইটেড; আর্সেনালকে উদ্ধার করলেন পেপে

    ১৯৫৮ সালে এই বেলগ্রেড থেকেই ম্যানচেস্টারে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন স্যার ম্যাট বাসবির ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১১জন ফুটবলার এবং স্টাফ। বছর আটেক পর আবারও বেলগ্রেডে ইউয়েফা কাপের ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল ‘রেড ডেভিল’রা, কিন্তু সেবার ফিরেছিল খালি হাতে। ৫৩ বছর পর আবারও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইউনাইটেডের বেলগ্রেড যাত্রা, এবার অবশ্য জয় পেয়েছে তারাই। ইনজুরি থেকে ফেরা অ্যান্থনি মার্শিয়ালের একমাত্র গোলে ইউরোপা লিগের ‘এল’ গ্রুপে পার্টিজান বেলগ্রেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ওলে গানার সোলশারের দল, প্রতিপক্ষের মাঠে সাত মাস পর জয়ের দেখা পেল তারা। ইউনাইটেডের মত জয় পেয়েছে আর্সেনালও, 'এফ; গ্রুপে পিছিয়ে পড়েও জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে তাদের উদ্ধার করেছেন ক্লাব রেকর্ড সাইনিং নিকোলাস পেপে।

    এ বছরের মার্চে প্যারিসে পিএসজিকে হারানোর পর প্রতিপক্ষের মাঠে টানা ১১ ম্যাচে জয়হীন ছিল ইউনাইটেড, গত ৪০ বছরে যা তাদের সবচেয়ে হতাশাজনক ‘অ্যাওয়ে’ ফর্ম। এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগলেও ইউরোপা লিগে ফর্মে আছে ইউনাইটেড। বেলগ্রেডের মাঠেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে তারা। ম্যাচের শুরুতেই লিড নিতে পারত সোলশারের দল, কিন্তু মার্শিয়ালের মত ইনজুরি থেকে ফেরা জেসি লিনগার্ডের শট প্রতিহত হয় বারপোস্টে। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ পেয়েছিল বেলগ্রেডও; কিন্তু লিনগার্ডের মতই উনাইয়ের শট প্রতিহত হয় বারপোস্টে। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে অবশ্য লিড নেয় ইউনাইটেড। বাঁ-প্রান্তে তরুণ লেফটব্যাক ব্রেন্ডন উইলিয়ামসের চমৎকার ড্রিবলের পর তাকে ডিবক্সে ফেলে দেন বিব্রাস নাচো।

     

     

    ১২ গজ থেকে গোল করেন মার্শিয়াল, ৩৯২ মিনিট পর প্রতিপক্ষের মাঠে গোলের দেখা পায় তারা। পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ইউনাইটেডকে চাপে রেখেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ইউনাইটেড গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো ছিলেন দারুণ ফর্মে। দ্বিতীয়ার্ধে বেলগ্রেডের দুটি দারুণ প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও পারফরম্যান্স নিয়ে হয়তো সন্তুষ্ট হতে পারবেন না সোলশার, মার্শিয়ালের পেনাল্টি ছাড়া বেলগ্রেডের গোলে একবারও শট নিতে পারেনি তারা। ইউরোপা লিগে নিজেদের শেষ ১৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকল তারা, এর মধ্যে ১০ ম্যাচেই রেখেছে ক্লিনশিট। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখল ‘রেড ডেভিল’রা। 

    বেলগ্রেডে যেমন রক্ষণের কারণেই জয় পেয়েছে ইউনাইটেড, এমিরেটসে সেই রক্ষণের কারণেই আরেকটু হলে হারতে বসেছিল আর্সেনাল। ৮ মিনিটেই লেফটব্যাক কিয়েরন টিয়েরনিকে কাটিয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন ভিতোয়ারিয়ার মার্কাস এডওয়ার্ডস, যিনি আগে খেলতেন উত্তর লন্ডনের আরেক ক্লাব টটেনহাম হটস্পারের হয়ে। ম্যাচের শুরুতে তার ভুলেই পিছিয়ে পড়েছিল আর্সেনাল, প্রথমার্ধেই শাপমোচন করেছেন টিয়েরনি। বাঁ-প্রান্ত থেকে তার চমৎকার ক্রসে হেড করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। কিন্তু মিনিট পাঁচেক পর আবারও পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল।

     

     

    এবার আরেক ডিফেন্ডার অ্যাইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলসের ভুলে ডিবক্সে বল পেয়ে যান ডেভিডসন; তার শট বারপোস্টে প্রতিহত হলেও ফিরতি বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি ব্রুনো দুয়ার্তে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝমাঠের ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়তে না পেরে দূরপাল্লার শটেই নির্ভর করতে হয়েছে আর্সেনালকে। গত সপ্তাহে শেফিল্ড ইউনাইটেডের কাছে হারের ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন পেপে; ভিতোরিয়ার বিপক্ষে আর্সেনালকে উদ্ধার করেছেন তিনিই।

    দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামার পর ম্যাচের মিনিট দশেক বাকি থাকতে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মাপা ফ্রিকিকে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান পেপে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরও এক নিঁখুত ফ্রিকিকে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ‘এফ’ গ্রুপে ৩ ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকল উনাই এমেরির দল। 

     

     

    আর্সেনাল, ইউনাইটেডের মত ইউরোপা লিগের ম্যাচডে ৩-এ জয় পেয়েছে প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স, ‘কে’ গ্রুপে স্লোভান ব্রাটিস্লাভাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে নুনোর দল। একই গ্রুপে বেসিকতাসকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাগা। রাতের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে এজেড আলকামার, কাজাখস্তানের ক্লাব আস্তানাকে ৬-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে তারা। খুব সম্ভবত রাতের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ‘জে; গ্রুপের দুই দল এএস রোমা এবং বরুশিয়া মোনশেনগ্লাডবাখ। ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা।

    মোনশেনগ্লাডবাখের মত ড্র করেছে আরেক জার্মান দল উলভসবুর্গও, ‘আই’ গ্রুপে গেন্টের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। ‘এইচ’ গ্রুপে লুডোগোরেৎসকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এস্পানিওল। জয় পেয়েছে লা লিগার আরেক দল সেভিয়াও; ‘এ’ গ্রুপে এফসি দুদেলাঞ্জকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। ‘জি’ গ্রুপে এফসি পোর্তোকে তাদেরই মাঠে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে স্টিভেন জেরার্ডের রেঞ্জার্স। আরেক স্কটিশ দল সেল্টিক অবশ্য পেয়েছে পূর্ণ তিন পয়েন্টই, ‘ই’ গ্রুপে লাৎসিওর বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ে পেয়েছে তারা। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন