• ফেডারেশন কাপ
  • " />

     

    নায়ক কলিনদ্রেস, 'খলনায়ক' লিটনের পর ফেডারেশন কাপ ঘরে তুলল বসুন্ধরা কিংস

    ফুলটাইম
    রহমতগঞ্জ ১-২ বসুন্ধরা কিংস 


    রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন ৭৬ মিনিটে বক্সের ভেতর যখন বল পেলেন তখন খুব একটা চাপে ছিলেন না। সতীর্থের কাছ থেকে ব্যাক পাস পেয়ে শুরুতেই বল ক্লিয়ার করলেন না, নিয়ন্ত্রণেও নিতে পারলেন না। দানিয়েল কলিনদ্রেস দৌড়ে আসছিলেন তার দিক। এক টোকায় বল ছিনিয়ে নিয়ে এর পর ফাঁকা জালে বল ঠেলে দিয়ে কলিনদ্রেস রহমতগঞ্জের বুকে ছুরিই চালালেন। ওই গোলটাই পরে ফেডারেশন কাপের ফাইনালের ভাগ্য গড়ে দিল। 

    ফাইনালের নায়ক তাই হয়ে গেছেন কলিনদ্রেস। প্রথমার্ধে তার গোলেই লিড পেয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। এর পর দ্বিতীয়ার্ধে  দারুণ রহমতগঞ্জের মামুদু বাহও দিয়েছিলেন জবাব। দুই অধিনায়কের গোলে ম্যাচে ছিল ১-১ গোলের সমতা। সেখান থেকে খলনায়ক হয়ে গেছেন লিটন। আর দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে বসুন্ধরা কিংস।

     


    বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুইদলের সমর্থকদের আনাগোণায় উৎসব লেগেছিল ম্যাচ শুরুর বেশ আগে থেকেই। উৎসবে রঙটা বেশি চড়েছিল রহমতগঞ্জের গ্যালারিতে। নিজেদের ৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনাল, রহমতগঞ্জের উৎসবের উৎসাহটা বেশিই থাকার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচের শুরুটা অনুমিতভাবেই দারুণ করল বসুন্ধরা কিংস। 

    প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা একেবারে শুরুতেই রহমতগঞ্জের ঘাড়ের ওপর চড়ে বসেছিল। প্রথম ১৫ মিনিটে যে বসুন্ধরা গোল পেল না- সেটাই আসলে ছিল একরকম বিস্ময়। বখতিয়ার দুশবেকভ, নিকোলাস দেলমন্তেরা শুরুর দিকেই হেডে গোল পেয়ে যেতে পারতেন। প্রথম জনের হেড গেছে বাইরে দিয়ে, আর দেলমন্তের হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে নাহিদুল ইসলাম সে দফায় রক্ষা করেছিলেন রহমগঞ্জকে। 

    শুরুর ধাক্কাটা অবশ্য ধীরে ধীরে সামাল দিচ্ছিল রহমতগঞ্জ। সৈয়দ গোলাম জিলানির দলের ফাইনালে ওঠার পেছনে বড় অবদান ছিল দুই বিদেশী সেন্টারব্যাকের। ইউনুসা কামারা ও আকপোপোভ আসরোরভ মিলে ধীরে ধীরে দুর্গই গড়ে তুলছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে সুহেল মিয়া অন্যপ্রান্তে দারুণ একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু আনিসুর রহমান জিকোর সেভে আর গোল পাওয়া হয়নি তখন তার। 

    এর পর ৪০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যান রহমতগঞ্জের তাজিক ডিফেন্ডার আসরোরভ। ওই মুহুর্তে ১০ জনের দল নিয়েই খেলছিল রহমতগঞ্জ। সেই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে গোল পেয়ে যায় বসুন্ধরা। ডানদিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রস থেকে গ্ল্যান্সিং হেডারে দারুণ  গোল করে দলকে এগিয়ে নেন কিংস অধিনায়ক। ওই গোলের পরই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন আসরোভ। 

    রহমতগঞ্জের সমস্যা তাই প্রকট হয়েছিল আরও। দ্বিতীয়ার্ধে  তাদের ফিরে আসাটাও তাই ছিল চমক। ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে মামুদু বাহও লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করে সমর্থকদের আনন্দে ভাসান। ১-১ স্কোরলাইনে ম্যাচ তখন ঝুলে ছিল সুতোর ওপর। 

    লিটন শেষে গিয়ে ভুলটা করেছেন। তবে তার আগে আসলে তিনিই বসুন্ধরাকে আটকে রেখেছিলেন। ৬৮ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলকে ডাবল সেভে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ফেরান জাতীয় দলের গোলরক্ষক। অমন সেভের পর শেষদিকে তার ভুলটা ছিল দৃষ্টিকটুই। 

    কলিনদ্রেস ফেডারেশন কাপে প্রথম গোল পেয়েছিলেন সেমিফাইনালে। তার দারুণ পারফরম্যান্সে দ্যুতি ছড়িয়েছিল বসুন্ধরা। ওই ম্যাচের পর ক্লাবের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন বলেছিলেন কলিনদ্রেসই বসুন্ধরার বড় বিজ্ঞাপন। সেটা আরও একবার প্রমাণ করেছেন কোস্টারিকার হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলা কলিনদ্রেস। সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও দলের হাল ধরলেন তিনি। আর তাতেই অধরা শিরোপা নিশ্চিত হলো বসুন্ধরার। গতবার লিগ ও স্বাধীনতা কাপ জেতার পর শীর্ষ পর্যায়ে এখন সবগুলো শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়ে গেছে ফুটবলের নতুন পাওয়ার হাউজদের। আর রহমতগঞ্জের রুপকথার গল্পটা শেষে থেমেছে লিটনের কান্নায়। 

     
    রহমতগঞ্জ একাদশ
    রাসেল লিটন, আকপোপোভ আসরোরভ, ইউনুসা কামারা, হাসান কিরন, সানোয়ার হোসেন, শাহেদুল আলম, নাহিদুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, সুহেল মিয়া, মামুদু বা,  তুরায়েভ আকোবির 

    বসুন্ধরা কিংস  একাদশ
    আনিসুর রহমান জিকো, বিশ্বনাথ ঘোষ, তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নিকোলাস দেলমন্তে, আখতাম নাজারোভ, মতিন মিয়া, বখতিয়ার দুশবেকভ, মাহবুবুর রহমান সুফিল, দানিয়েল কলিনদ্রেস