• কোপা দেল রে
  • " />

     

    ৭ গোলের ম্যাচে সোসিয়েদাদের কাছে হেরে রিয়ালের বিদায়

    ফুলটাইম
    রিয়াল মাদ্রিদ ৩-৪ রিয়াল সোসিয়েদাদ


    ম্যাচের ৫৬ মিনিটের ভেতর ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পরের দশ মিনিট দেখল আরও দুই গোল, তাতে স্কোরলাইন ৪-১। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটের খেলা যখন চলছে, রোমাঞ্চ তখন তুঙ্গে। ৪-৩ তখন স্কোরলাইন, কোপা ডেল রেতে টিকে থাকতে হলে রিয়াল মাদ্রিদের লাগে আর এক গোল। সার্জিও রামোস এমন সময় কতো ম্যাচ জিতিয়েছেন! আরও একবার তার কাছেই গেল বল। রামোস হেডও করেছিলেন, কিন্তু বল সোজা রিয়াল সোসিয়েদাদ গোলরক্ষকের হাতে। সোসিয়েদাদের জন্য তখন দম আটকে আসা মুহুর্ত, পরের মুহুর্তে রেফারির বাঁশিতে তাই মুক্তির আনন্দ। ৭ গোলের নাটকীয় ম্যাচে জয়ী তারা।

    ঘরের মাঠে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হেরে কোপা ডেল রে থেকে ততক্ষনে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের। স্প্যানিশ লিগ কাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই মৌসুম থেকে সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত খেলা হচ্ছে এক লেগে। স্প্যানিশ এফএর লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টের একঘেয়েমি দূর করে রোমাঞ্চ বাড়ানোর। বার্নাব্যুতে সেই রোমাঞ্চ ছড়ালো ঠিকই কয়েক দফায়, কয়েক রঙে। ৭ গোলের সঙ্গে, আরও দুইবার দুই দলের গোল বাতিল, এক লাল কার্ড- সবকিছু মিলিয়ে নিখাদ বিনোদন। তবে দিনশেষে সেটা রিয়াল সমর্থকদের জন্য হতাশারই। কোপা ডেল রের শিরোপা না জেতার ধারাটা রিয়ালের বাড়ল আরেকটু, সবশেষ ২০১৩-১৪ মৌসুমে এই শিরোপা জিতেছিল রিয়াল।

    এক লেগের ম্যাচ হওয়ায় একাদশ নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেননি জিনেদিন জিদান। আলফোন্সো আরিওলা, এডার মিলিতাও, হামেস রদ্রিগেজ, ব্রাহিম ডিয়াজরা সুযোগ পেয়েছিলেন একাদশে। এছাড়া বাকিরা ছিলেন নিয়মিত একাদশের। শুরুটা একেবারে মন্দও ছিল না রিয়ালের। কিন্তু কপালটা বোধ হয় মন্দই ছিল জিদানের দলের। সোসিয়েদাদের খেলায় ছন্দ তুলে দিয়েছিলেন রিয়ালেরই এক খেলোয়াড়। যিনি ধারে এখন খেলছেন সোসিয়েদাদের হয়ে।

     


    ম্যাচের ২২ মিনিটে সেই মার্টিন ওডেগার্ড গোল করে বসেন রিয়ালের বিপক্ষে। অ্যালেক্সান্ডার আইস্যাকের বক্সের বাইরে থেকে করা শট প্রথমে একবার ঠেকিয়েও দিয়েছিলেন আরিওলা। ফিরতি বলে ওডেগার্ডও শট করেন বক্সের ঠিক বাইরে থেকে। আরিওলার অবশ্য শটটা ধরাই উচিত ছিল। সোজাসুজি তার দিকে এসেছিল বল। কিন্তু সে দফায় আর পারেননি তিনি। কাগজে-কলমে এখনও রিয়ালের ফুটবলার, ২২ বছর বয়সী ওডেগার্ড তাই বার্নাব্যুতে নিজের প্রথম গোলটি পেয়ে গেলেন প্রতিপক্ষ হিসেবে।

    প্রথমার্ধে বেনজেমা, রদ্রিগেজ, ভালভার্দেরা সবাই গোলে শট করেছেন। তবে একবারও কেউ টলাতে পারেননি অ্যালেক্স রেমিরোকে। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন সার্জিও রামোস। তার হেডও অবশ্য বারপোস্টে লেগে ফেরত আসে তখন। রেফারি অফসাইড ফ্ল্যাগ উঁচিয়ে ধরলেও, জালে জড়ালে ভিএআরের কল্যাণে হয়ত গোল পেয়ে যেতে পারতেন রামোস।     

    বিরতির পর আর পরিকল্পনা বদলাতে সময় নেননি জিদান। রদ্রিগেজকে বসিয়ে লুকা মদ্রিচকে মাঠে নামিয়ে দেন তিনি। কিন্তু বিরতির পর ম্যাচে ফেরার বদলে উলটো ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ৫৪ আর ৫৬ মিনিটে জোড়া গোল করে কাজটা সারেন ইসাক। প্রথমবার বক্সের ভেতর থেকে বাম পায়ের দারুণ ভলিতে গোল করেন তিনি, পরেরবার কাছের পোস্টে জোরালো শটে ছিন্ন ভিন্ন করে দেন আরিওলার প্রতিরোধ। রিয়াল মাদ্রিদ ০, ৩ সোসিয়েদাদ।
     
    ৩ মিনিট পর মার্সেলো এক গোল শোধ করে অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু আরও একবার সেই ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল রিয়ালের নড়বড়ে রক্ষণ। দশ মিনিট পর সেই সুযোগে আরও একবার তিন গোলের ব্যবধান উদ্ধার করে সোসিয়েদাদ। এবার ডানদিক থেকে আসা ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের ফিনিশে গোল করেন মিকেল মেরিনো। জিদানের রিয়ালও প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতায় হজম করে চার গোল!

    ৪৯ মিনিটে একবার গোল বাতিল হয়েছিল সোসিয়েদাদের। তখনও গোল করেছিলেন ইসাক। ভিএআরে এর পর ৭৯ মিনিটে একই ভাগ্য বরণ করলেন ভিনিসিয়াস। অবশ্য মিনিট দুই পরেই রিয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে গিয়েছিল। দুই ব্রাজিলিয়ান মিলে পথ দেখিয়েছিলেন তখন ঘরের দলকে। ভিনিসিয়াসের ক্রস থেকে গোল রদ্রিগো ব্যবধান কমিয়ে আনেন আরেকটু।

    নাচো যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল করে বসলে চাপ আরও বাড়ে সোসিয়েদাদের ওপর। সেই চাপ এমনই প্রবল ছিল যে ষষ্ঠ মিনিটে আন্দোনি গরোসাবেল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। রেফারি শুরুতে যোগ করা সময় ৫ মিনিট দিলেও তাই খেলা গড়াল আরও বেশিক্ষণ। গরোসাবেলের অবশ্য এর পর আর আক্ষেপ থাকার কথা নয়। লাল কার্ড পেলেই বা কী, তার দল তো উঠে গেছে সেমিফাইনালে!    

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন