• কোপা দেল রে
  • " />

     

    বিলবাওকে উড়িয়ে মৌসুমের প্রথম ট্রফির আক্ষেপ ঘোঁচাল বার্সা

    বিলবাওকে উড়িয়ে মৌসুমের প্রথম ট্রফির আক্ষেপ ঘোঁচাল বার্সা    

    একটা ট্রফির জন্য তৃষিত অপেক্ষা ছিল বার্সেলোনার, অপেক্ষা ছিল রোনাল্ড কোমানের। সেটা অবশেষে এলো সেভিয়ার মাঠে। কোপা দেল রের ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৪-০ গোলে উড়িয়েই মৌসুমের প্রথম ট্রফির স্বাদ পেয়েছে বার্সা। প্রায় একতরফা ম্যাচে গ্রিজমান, ফ্রাংকি ডি ইয়ং ও মেসির গোল নিশ্চিত হয়েছে জয়। ম্যাচ শেষে কোমানের প্রথম ট্রফি উদযাপন করেছে নেচে গেয়েই। 

    মন রাঙানোর মতো খেলা খেললেও এই মৌসুমে একটা জায়গায় গিয়ে মার খেয়ে যাচ্ছিল কোমানের বার্সা। লিগে এখনো তারা লড়াইয়ে আছে, ডিসেম্বরের পর ফর্মও দুর্দান্ত। কিন্তু বড় ম্যাচে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিল বার বার। দুই ক্লাসিকোতে হার, অ্যাটলেটিকোর কাছে আরেকটি, এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে, সুপার কাপে সেভিয়ার কাছে... বার্সার কাছে এই মৌসুমে বড় ম্যাচ ছিল একটা ধাঁধাঁর নাম। সেটার সমাধান হলো কোপা দেল রের ফাইনালে।

    ম্যাচটা দেখতে মাঠে ছিলেন নতুন সভাপতি হুয়ান লাপোর্ত। ছিলেন ২০১৫ সালে বার্সাকে এই ট্রফি এনে দেওয়া ম্যানেজার লুইস এনরিক। তাদের সামনে মন রাঙানোর মতোই খেলেছে বার্সা। ৪-০ গোলের স্কোরলাইন আসলে পুরো গল্পটাও বলছে না। সহজ কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আর বিলবাও গোলরক্ষক অতিমানবীয় কিছু সেভ না করলে অনায়াসেই হাফ ডজন গোল ঢুকতে পারত্ বিলবাওয়ের জালে।

    ম্যাচ শুরু হতে না হতেই প্রথম গোলটা পেয়ে যেতে পারত বার্সা। সম্ভবত ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া ডি ইয়ং সুযোগটা পেয়ে গিয়েছিলেন কয়েক মিনিটের মধ্যেই। মেসির লে অফ থেকে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন ডাচ মিডফিল্ডার, কিন্তু তার শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। মিনিট দশেক পর গ্রিজমানের পাস থেকে মেসি আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। এর মধ্যে অবশ্য বিলবাও একটা দারুণ সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু সেট পিস থেকে পা ছুঁইয়েও গোল করা হয়নি তাদের।

    তবে বার্সার কাছেই ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। একের পর আক্রমণে সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল বিলবাও রক্ষণকে। কিন্তু গোল করার সুযোগটা আর পাচ্ছিল না। প্রথমার্ধ শেষ হলো কোনো গোল ছাড়াই। মনে হচ্ছিল হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে দেম্বেলেকে নামাতে হতে পারে কোমানের, ৩-৫-২ ফর্মেশনে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। অনেক দিন পর মাঠে ফিরে পিকেকে সেরকম কঠিন পরীক্ষায়ও পরতে হয়নি। একবার ইনাকি উইলিয়ামস সুযোগ পেয়েছিলেন, কাযে লাগাতে পারেননি।

    কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই বদলে যায় সব। শুরুটা ৬০ মিনিতে, ডি ইয়ং এর ক্রস থেকে গ্রিজমান ট্যাপ ইন করে এগিয়ে দেন দলকে। মিনিট খানেক পর এবার ডি ইয়ং নিজেই গোল করেন। আলবার ক্রস থেকে হেড করে এগিয়ে দেন দলকে। এরপরেই ম্যাচের সেরা গোলটা পেয়ে যায় বার্সা। ডি ইয়ং এর সাথে দুর্দান্ত ওয়ান টু ওয়ানের পর মেসি বক্সে জায়গা করে নেন, বাঁ পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। এরর আলবার পাস থেকে মেসি করেন আরেকটি, বার্সার গত কিছুদিনের সবচেয়ে ট্রেডমার্ক গোলগুলোর একটি।  বাঁ পায়ের প্লেসিং শট হাত লাগিয়েও ঠেকাতে পারেননি সিমন। এরপর গ্রিজমানের একটা গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডে। সেটা না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত বার্সার।

     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন